• ঢাকা, বাংলাদেশ শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৫৮ অপরাহ্ন
শিরোনাম
দিল্লির ভয় দেখিয়ে লাভ নেই: মিনু সার নিয়ে ভোগান্তিতে চরের কৃষক রংপুর বিভাগীয় সমিতির ক্যারিয়ার ভাবনা: আত্মউন্নয়ন, সাফল্য ও প্রস্তুতি শীর্ষক আলোচনা জননেতা আতাউর রহমান স্মৃতি পরিষদের নতুন কমিটির সভাপতি আসলাম , সম্পাদক মিন্টু গোদাগাড়ীতে প্রাথমিক শিক্ষকদের বদলি প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ ছাত্রনেতা সৌরভের উদ্যোগে রাজশাহী কলেজ মুসলিম ছাত্রাবাসে বৃক্ষরোপণ রাজশাহী কলেজ ছাত্রদলের উদ্যোগে সাপ্তাহিক মিছিল অনুষ্ঠিত রাজশাহী থেকে কারা পাবে ঢাকার টিকিট প্রথম আলো-স্টার নিউজ নারী ফুটবল টুর্নামেন্টে মিথ্যা মামলা ও অপপ্রচারের প্রতিবাদে কাকনহাটে মেয়রপ্রার্থীর সংবাদ সম্মেলন জেলা পুলিশের অভিযানে ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার ১
নোটিশ
রাজশাহীতে আমরাই প্রথম পূর্ণঙ্গ ই-পেপারে। ভিজিট করুন epaper.rajshahisongbad.com

সার নিয়ে ভোগান্তিতে চরের কৃষক

আব্দুল আলিম
সর্বশেষ: শনিবার, ৩ অক্টোবর, ২০২৬
সার নিয়ে ভোগান্তিতে চরের কৃষক
সার নিয়ে ভোগান্তিতে চরের কৃষক

গোদাগাড়ী উপজেলার চর আষাড়িয়াদহ ইউনিয়নে টমেটো, আলু, শীতকালীন বিভিন্ন ফসল নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকেরা। তবে ফসলের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে প্রয়োজনীয় সার সংগ্রহ করতে গিয়ে ভোগান্তিতে পড়েছেন তারা। কৃষকদের অভিযোগ, ডিলারের কাছে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও চাহিদামতো সার পাওয়া যাচ্ছে না। প্রয়োজনের তুলনায় অল্প পরিমাণ সার নিয়ে ফিরতে হচ্ছে তাদের। তবে প্রশাসন ও সার ডিলারের দাবি, চরাঞ্চলে সারের কোনো সংকট নেই। বরাদ্দ অনুযায়ী ইউরিয়া, টিএসপি ও ডিএপি সার পর্যাপ্ত রয়েছে। ইউনিয়নে একজন মূল ডিলারের পাশাপাশি চারজন সাব-ডিলারের মাধ্যমে কৃষকদের মধ্যে সার বিতরণ করা হচ্ছে। তবে কৃষকদের মধ্যে ডিএপি সারের চাহিদা বেশি হওয়ায় সরবরাহ নিয়ে চাপ তৈরি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ডিলার।

চর আষাড়িয়াদহ ইউনিয়নের নতুন গ্রামের কৃষক আব্দুল মালেক বলেন, আমাদের জমিতে এখন টমেটোসহ বিভিন্ন ফসল রয়েছে। এ সময়ে যে সারগুলো দরকার, সেগুলো আমরা চাহিদামতো পাচ্ছি না। খুব অল্প পরিমাণ সার দেওয়া হচ্ছে। ফলে জমিতে সার দিতে আমাদের অনেক কষ্ট হচ্ছে। প্রতিদিন সারের জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছি, কিন্তু চাহিদামতো সার পাচ্ছি না।

কানাপাড়া এলাকার কৃষক তোফায়েল হোসেন বলেন, জমিতে ফসল লাগিয়েছি, কিন্তু সার পাচ্ছি না। ডিলারের কাছে গেলে অল্প করে সার দেওয়া হচ্ছে। জমিতে যে পরিমাণ সার প্রয়োজন সেটা না পেলে কীভাবে ফসল ফলাব। স্থানীয় কৃষকেরা জানান, চরাঞ্চলে সার সংগ্রহের সুযোগ সীমিত হওয়ায় নির্দিষ্ট ডিলার ও সাব-ডিলারের ওপরই তাদের নির্ভর করতে হচ্ছে। ফলে প্রয়োজনের সময়ে নির্দিষ্ট ধরনের সার না পেলে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে তাদের।
চর আষাড়িয়াদহ ইউনিয়নের মানিকচক এলাকায় রয়েছে সরকারি সার ডিলার। তার পাশাপাশি ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় চারজন সাব-ডিলারের মাধ্যমে সার বিতরণ করা হচ্ছে। প্রতি বস্তা ডিএপি ১ হাজার ৫০ টাকা, টিএসপি ১ হাজার ৩৫০ টাকা, ইউরিয়া ১ হাজার ৩৫০ টাকা এবং এমওপি ১ হাজার টাকা দরে বিক্রি করা হচ্ছে।

চর আষাড়িয়াদহ ইউনিয়নের সার ডিলার গৌতম বলেন, চরে বর্তমানে সারের কোনো সংকট নেই। অক্টোবর মাসের বরাদ্দের সার ৩০ সেপ্টেম্বর পাওয়ার পর গত তিন-চার দিনের মধ্যে মোটামুটি বিতরণ করা হয়েছে। চলতি মাসে আমি ১ হাজার ৬২০ বস্তা সার বরাদ্দ পেয়েছি। পাশাপাশি চারজন সাব-ডিলারের মাধ্যমেও কৃষকদের মধ্যে সার সরবরাহ করা হচ্ছে। তিনি বলেন, প্রত্যন্ত চরাঞ্চলের কৃষকদের সুবিধার কথা বিবেচনা করে ইউনিয়নের ছয়টি ওয়ার্ডে ভাগ করে সার বিতরণ করা হচ্ছে। এতে কৃষকদের দূরের ডিলার পয়েন্টে গিয়ে সার আনতে অতিরিক্ত পরিবহন খরচ করতে হচ্ছে না। বর্তমানে ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে কৃষি বিভাগের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে সার বিতরণ করা হচ্ছে।

ডিএপি সারের চাহিদা বেশি উল্লেখ করে ডিলার গৌতম বলেন, সরকারিভাবে নির্দিষ্ট পরিমাণ সার ব্যবহারের নির্দেশনা থাকলেও অনেক কৃষক বেশি সার নিতে চান। বিশেষ করে ডিএপি সারের চাহিদা বেশি। তবে বরাদ্দ অনুযায়ী কৃষকদের মধ্যে সার বিতরণ করা হচ্ছে।

এদিকে গোদাগাড়ীর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইসরাত জাহান বলেন, চরাঞ্চলে বর্তমানে সারের কোনো সংকট নেই। কৃষকদের চাহিদা অনুযায়ী ইউরিয়া, টিএসপি ও ডিএপি সার পর্যাপ্ত পরিমাণে রয়েছে। তিনি বলেন, অনেক কৃষক ইউরিয়া ও টিএসপি নিতে চাইছেন না। তারা শুধু ডিএপি সার নিতে চাচ্ছেন। এ কারণে ডিএপি সারের ক্ষেত্রে চাহিদা বেশি তৈরি হয়েছে। অন্য সার নিতে অনীহা থাকায় কেউ কেউ সার সংকটের কথা বলছেন। তবে এটিকে সার সংকট বলা যাবে না।


আরো খবর