ক্রীড়াঙ্গনকে গতিশীল করতে সকল প্রতিকূলতা উল্লেখ করে দক্ষ খেলোয়াড় তৈরির দাবিতে উন্মুক্ত আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার বিকেল ৫ টায় নগরীর একটি রেস্তোরাঁর সম্মেলন কক্ষে রাজশাহী ডিভিশনাল ক্রিকেটার্স এ্যাসোসিয়েশনের উদ্দ্যোগে রাজশাহী বিভাগীয় ক্রিড়াঙ্গনকে উজ্জিবিত করার লক্ষ্যে এ আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।
এসময় উপস্থিত ছিলেন ইমতিয়াজ আহমেদ, মাহমুদ কামাল, সাইফুল্লাহ খান জেম, রফিকুল ইসলাম, মিজানুর রহমান মিলন, রইস উদ্দিন আহমেদ বাবু, জমিলুর রহমান সাদ, পান্না ঘোষ সহ অন্যান্যরা।
এসময় মঞ্চে উপবিষ্ট অতিথিবৃন্দ বলেন, রাজশাহীতে প্রতিনিয়ত টুর্নামেন্ট ও খেলার আয়োজনের অভাবে দক্ষ ও মেধাবী খেলোয়াড়রা ক্রমশ হারিয়ে যাচ্ছে। পিছিয়ে পড়ছে ক্রীড়াঙ্গন। যার ফলে রাজশাহীতে খেলোয়াড় তৈরি হচ্ছে না এবং ক্রীড়াঙ্গনের দিক দিয়েও পিছিয়ে যাচ্ছে রাজশাহী বিভাগ। এছাড়াও রাজশাহীতে খেলার চর্চা কিংবা প্রশিক্ষণের জন্য উন্নত মানের কোনো মাঠ নেই। যোগ্য নেতৃত্ব ও ঐক্যের অভাবে এক সময় ক্রীড়াঙ্গনের দিক দিয়ে স্বর্নযুগ সময় কাটানো রাজশাহী বিভাগ এখন মুখ থুবড়ে পড়েছে। এটিকে সচল করতে ক্রীড়াঙ্গনের সকল সংগঠনকে একত্রিত ও ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে। তবেই রাজশাহী বিভাগকে ক্রীড়াঙ্গনের দিক দিয়ে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব ও দেশের গন্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এখানকার দক্ষ খেলোয়াড়দের সুযোগ করে দেওয়া সম্ভব।
অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন রাজশাহী বিভাগীয় ক্রিকেটার মাইসিলুর রহমান। তিনি সহ রাজশাহী বিভাগের বিভিন্ন জেলার খেলোয়াড়রা তাদের ৩৫ টি লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য তুলে ধরেন।
লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যগুলো হলো-১. ইহা একটি অ-রাজনৈতিক সংস্থা। ২. দেশের সকল বিভাগ ও জেলা থেকে যথার্থ বাছাই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মেধাবী খেলোয়াড় ও ক্রীড়াবিদ সংগ্রহ করা। ৩. খেলোয়াড় ও ক্রীড়াবিদদের জন্য উন্নত এবং বিজ্ঞানসম্মত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা। ৪. জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় খেলোয়াড় ও ক্রীড়াবিদদের অংশগ্রহণের সুযোগ সৃষ্টি এবং ক্লাবের সুনাম বিস্তৃতিকরণে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করা। ৫. বার্ষিক ক্রীড়াপঞ্জি প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করা এবং বিভিন্ন কমিটি ও উপ-কমিটি গঠন করে প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ, প্রতিযোগিতার আয়োজন ও পরিচালনা করা এবং পরিচালনার ক্ষেত্রে উত্থাপিত আপত্তি, বিচার ও নিষ্পত্তির ব্যবস্থা করা। ৬. বিশেষ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে খেলা পরিচালনার জন্য দক্ষ প্রশিক্ষক/ আম্পায়ার/ রেফারি/জাজ/জুরি ইত্যাদি সৃষ্টি করা। উচ্চ মাধ্যমিক লেখাপড়া ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা। ৭. মেধাবী ক্রীড়াবিদদের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক লেখাপড়া ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা। ৮. সরকারি ও বেসরকারি সংস্থাগুলোকে খেলাধুলার পৃষ্ঠপোষকতায় আগ্রহী করে তোলা।
৯. গ্রামীণ ও আন্তর্জাতিক খেলাধুলার উন্নয়ন ও প্রসারে যথাযথ উদ্যোগ গ্রহণ করা। ১০. ক্রীড়া সংক্রান্ত বই, সাময়ীকি ইত্যাদি প্রকাশনার ব্যবস্থা করা। ১১. ক্রীড়া বিষয়ক প্রশিক্ষণ, কর্মশালা আয়োজন করা। ১২. সুবিধাবঞ্চিত খেলোয়াড়দের আর্থিক সহায়তা করা ও খেলার সরঞ্জাম সরবরাহ করা। ১৩. পেশা ভিত্তিক কাজের প্রশিক্ষণ প্রদান করা। ১৪. খেলোয়াড়, ক্রীড়াবীদ ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের শৃঙ্খলা নিশ্চিতকরণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা। ১৫. খেলাধুলায় সম্পৃক্ত করার মধ্য দিয়ে যুব সমাজের নৈতিক দিক উন্নত করা ও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করে দেশের সেন নিয়োজিত করা। ১৬. বিভিন্ন জাতীয় দিবস পালন করা। ১৭. একটি আধুনিক ও সমৃদ্ধ গ্রন্থাগার প্রতিষ্ঠা করার লক্ষ্যে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা। ১৮. প্রতিষ্ঠানটি রাজনীতিমুক্ত রাখার জন্য যথোপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা। ১৯. চিত্তবিনোদনের জন্য বিভিন্ন প্রকার খেলাধূলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা করা। ২০. গঠনতন্ত্রের নিয়মানুসারে সকলের অংশগ্রহণ নিশ্চিতপূর্বক বার্ষিক সাধারণ সভার আয়োজন করা। ২১. রাজশাহী ডিভিশনাল ক্রিকেটাস’ অ্যাসোসিয়েশন সর্বস্তরে সর্বোচ্চ মানের সততা, সঙ্গতা, যুপ্ত ও দায়িত্বশীল প্রশাসনিক ব্যবস্থাপন, সবধর আইনের অনুশাসন প্রবর্তন, প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা। ২২. সমাজের অবহেলিত নীপিড়িত জনগোষ্ঠিকে আত্ম-নির্ভরশীল করে গড়ে তোলা।
২৩. প্রতিবন্ধীদের শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও পরিচর্যার মাধ্যমে পুনর্বাসন ও অধিকার নিশ্চিত করা। ২৪. স্বল্প আয়ের লোকদের জন্য প্রশিক্ষণ প্রদানের ব্যবস্থা করা (সংশ্লিষ্ট অধিদফতরের অনুমোদনকসে। ২৫. দুঃস্থদের জন্য বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবার ব্যবস্থা। ২৬. সামাজিক বনায়ন ও বৃক্ষরোপন কার্যক্রম পরিচালনা করা। ২৭. স্যানিটেশন ও বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের ব্যবস্থা করা। ২৮. মাদক বিরোধী কর্মসূচী গ্রহণ। ২৯. বন্যা দূর্গত, ঘূণিঝড় প্রভৃতি প্রাকৃতিক দুর্যোগ কবলিত মানুষদের সাহায্য করা। ৩০. সংখ্যালঘুদের জীবনের মানোন্নয়নের জন্য কর্মসূচী গ্রহণ করা। ৩১. দেশের অবহেলিত গরীব ছিন্নমূল টোকাই শিশুদের পূর্র্ণবাসনের ব্যবস্থা করা এবং তাদের শিক্ষা, সত্য সামচির পরিবেশগত মান উন্নয়ন করা। ৩২. সড়ক দুঘটনা এড়াতে চালকদের উদ্ধকরণ, প্রশিক্ষণ এবং সচেতনতা সৃষ্টি করা। ৩৩. স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচী গ্রহণ করা। ৩৪. দেশের সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে সরকারের নীতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ উন্নয়নমূলক প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়ন ৩৫. উপরোক্ত উদ্দ্যশ্য ও কার্যাবলী অর্জনের/সম্পাদনের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা এবং জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ কর্তৃক জারিকৃত ক্রীড়ানীতির নির্দেশাবলী পালন করা।
এছাড়াও খেলাকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য সকলকে এক হয়ে পদক্ষেপ নেওয়ারও আহ্বান জানান খেলোয়াড়রা।