• ঢাকা, বাংলাদেশ সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৪১ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
শহরের সৌন্দর্য ধরে রাখাই বড় চ্যালেঞ্জ নগরীতে কুইক সেটআপকে ২-১ গোলে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ব্ল্যাক হর্স পবার কিসমত কুখন্ডিতে মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা এখন প্রেমপত্র আসে না, আসে শুধু তালাকপত্র কারাবন্দী বিএনপি নেতার অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়ালেন রাসিক প্রশাসক সিমেন্টের বস্তায় মিলল ১০৩টি তাজা ককটেল রামেক হাসপাতালে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতি নগরীতে প্রতিমা বিসর্জন কার্যক্রম পরিদর্শন করলেন রাসিক প্রশাসক ভূমিমন্ত্রী মিনু অসুস্থ হয়ে রামেক হাসপাতালে ভর্তি, সুস্থতার জন্য দোয়া প্রার্থনা মিষ্টি কেনার পথে দুর্ঘটনা, বাড়ি না ফিরে কারাগারে রাবি শিক্ষার্থী রিজন
নোটিশ
রাজশাহীতে আমরাই প্রথম পূর্ণঙ্গ ই-পেপারে। ভিজিট করুন epaper.rajshahisongbad.com

শহরের সৌন্দর্য ধরে রাখাই বড় চ্যালেঞ্জ

আব্দুল আলিম
সর্বশেষ: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬
শহরের সৌন্দর্য ধরে রাখাই বড় চ্যালেঞ্জ
শহরের সৌন্দর্য ধরে রাখাই বড় চ্যালেঞ্জ

পরিচ্ছন্ন রাস্তা, সবুজের সমারোহ আর পরিকল্পিত নগরায়ণের জন্য একসময় দেশজুড়ে পরিচিতি ছিল রাজশাহী শহরের। ‘ক্লিন সিটি, গ্রিন সিটি’ হিসেবে পরিচিত এই নগরের সৌন্দর্য ছিল রাজশাহীবাসীর গর্ব। তবে গত কয়েক বছরে ফুটপাত দখল, সড়কের পাশে অবৈধ স্থাপনা এবং যত্রতত্র ব্যানার-ফেস্টুন ও বিলবোর্ডে অনেকটাই ম্লান হয়েছে সেই পরিচিত চিত্র। সম্প্রতি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ ও নগরের সৌন্দর্য ফেরাতে অভিযান চালিয়েছে রাজশাহী সিটি করপোরেশন (রাসিক)। প্রধানমন্ত্রীর রাজশাহী সফর ঘিরেও নেওয়া হয় পরিচ্ছন্নতা ও সৌন্দর্যবর্ধনের উদ্যোগ। এতে নগরের বিভিন্ন সড়ক ও ফুটপাতের চেহারায় পরিবর্তন এসেছে। তবে সাময়িক এই পরিবর্তন কতটা স্থায়ী হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

চলতি মাসে নগরের বিভিন্ন এলাকায় অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে জোরালো অভিযান শুরু করে সিটি করপোরেশন। সড়ক ও ফুটপাতের পাশ থেকে সরানো হয় বিভিন্ন ব্যানার-ফেস্টুন। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সফর উপলক্ষে নগরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কের আইল্যান্ডে রং করা হয়। পরিচ্ছন্নতা ও সৌন্দর্যবর্ধনের এসব উদ্যোগে নগরের চেহারায় ফিরেছে আগের সৌন্দর্যের কিছুটা ছাপ। এতে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন সাধারণ নাগরিক ও পথচারীরা।
নগরের ভদ্রা এলাকায় বিভিন্ন রুটের বাসের স্টপেজ অনেকটাই টার্মিনালে রূপ নিয়েছে। অন্যদিকে, অস্থায়ী দোকানের কারণে ফুটপাতগুলো চলে গিয়েছিল ব্যবসায়ীদের দখলে। রাস্তার একাংশেও বসতে শুরু করেছিল দোকানপাট। গত মাসে সিটি করপোরেশনের ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালিয়ে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে। পরে সেখানে বসানো হয় রেলিং। এরপর থেকে ওই এলাকায় পথচারীদের চলাচল সহজ হয়েছে। পাশাপাশি বেড়েছে এলাকার সৌন্দর্য।

রাজশাহী মহিলা কলেজের সামনের অংশেও গত কয়েক মাসে ফুটপাতের ব্যবসায়ীদের কারণে ঘিঞ্জি পরিবেশ তৈরি হয়েছিল। স্ট্রিট ফুডের দোকানগুলো শুধু ফুটপাত নয়, সড়কের একাংশও দখল করে নিয়েছিল। এতে সাধারণ পথচারীরা বিরক্তি প্রকাশ করলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ ছিল সীমিত। চলতি মাসের শুরুতে এসব অবৈধ দোকানপাট উচ্ছেদ করে সিটি করপোরেশন। নগরবাসীর কাছে প্রশংসিত হয় এ উদ্যোগ। পুরো নগরের সৌন্দর্য বাড়াতে এমন অভিযান অব্যাহত রাখার প্রত্যাশা জানিয়েছেন তাঁরা।

প্রায় ৯৭ বর্গকিলোমিটার আয়তনের রাজশাহী নগরের সৌন্দর্য রক্ষায় বিভিন্ন সময়ে নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পরিচ্ছন্নতা ও সবুজ পরিবেশের সুনাম ধরে রাখতে জনপ্রতিনিধি ও নগর প্রশাসনের পক্ষ থেকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বিষয়টিকে। কিন্তু নিয়মিত তদারকির অভাব, ফুটপাত দখল এবং যত্রতত্র প্রচারসামগ্রী স্থাপনের কারণে বিভিন্ন স্থানে আবারও বিশৃঙ্খলা দেখা দিয়েছে।

সম্প্রতি নগর প্রশাসক শহরের সৌন্দর্য বাড়ানো ও নাগরিকদের চলাচল সহজ করতে অবৈধ দখল উচ্ছেদের উদ্যোগ নেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজশাহী সফর ঘিরেও নগরের বিভিন্ন আইল্যান্ডে রং করা হয়। পাশাপাশি কয়েকটি সড়কের ফুটপাত দখলমুক্ত করতে অভিযান চালানো হয়। খুলে ফেলা হয় নগরজুড়ে ছড়িয়ে থাকা ব্যানার-ফেস্টুন। এসব কার্যক্রমে নগরের চেহারায় পরিবর্তন এসেছে। তবে নগরবাসীর দাবি, সড়ক ও ফুটপাত দখলমুক্ত থাকলে সৌন্দর্য বাড়ার পাশাপাশি পথচারীদের চলাচলও সহজ হয়। তাই বিশেষ কোনো সফর বা উপলক্ষকে কেন্দ্র করে নয়, সারা বছরই পরিচ্ছন্নতা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার উদ্যোগ থাকা প্রয়োজন।

রাজশাহীর স্বার্থ সংরক্ষণ কমিটির সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুল হাসনাইন হিকোল মনে করেন, নগরের সৌন্দর্য ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ প্রশংসনীয়। তবে তা ধরে রাখতে নিয়মিত তদারকি ও কার্যকর ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে হবে। শুধু অভিযান চালিয়ে অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে দিলেই স্থায়ী সমাধান হবে না। উচ্ছেদের পর যাতে একই জায়গা আবার দখল না হয়, সে জন্য ধারাবাহিক নজরদারি প্রয়োজন।

নগরের সাম্প্রতিক পরিস্থিতিও সেই চ্যালেঞ্জের ইঙ্গিত দিচ্ছে। গত ২০ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রীর সফরের পর বিভিন্ন স্থানে আবারও ব্যানার-ফেস্টুন টাঙানো হয়েছে। উচ্ছেদ হওয়া অস্থায়ী দোকানপাটের কিছু অংশও পুনরায় ফুটপাত দখল করে বসার চেষ্টা করছে। বাস শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচন উপলক্ষেও বিভিন্ন স্থানে ব্যানার, ফেস্টুন ও পোস্টার টাঙানো হয়েছে। এতে নগরের সৌন্দর্য আবারও নষ্ট হচ্ছে। ফলে পরিচ্ছন্নতা ও সৌন্দর্যবর্ধনের সাম্প্রতিক উদ্যোগের স্থায়িত্ব নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে।

রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটন বলেছেন, নগরের সৌন্দর্য রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব উদ্যোগ নেওয়া হবে। ফুটপাত দখলমুক্ত রাখা এবং অবৈধ স্থাপনা নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও হকারদের বিকল্প জায়গায় বসানোর ব্যবস্থাও করা হবে। এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে তিনি নগরবাসীর সহযোগিতা চেয়েছেন। রিটন বলেন, শহরকে পরিচ্ছন্ন রাখার চ্যালেঞ্জ তিনি গ্রহণ করেছেন। এ জন্য জীবন দিতে হলেও প্রস্তুত রয়েছেন তিনি।

নগরবাসীর প্রত্যাশা, নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম, অবৈধ দখল রোধ এবং ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে রাজশাহীর পুরোনো সৌন্দর্য ফিরিয়ে আনা হবে। তবে এ জন্য শুধু সিটি করপোরেশনের উদ্যোগ যথেষ্ট নয়। রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, ব্যবসায়ী ও সাধারণ নাগরিকদেরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। অন্যথায় বিশেষ উপলক্ষে সৌন্দর্য ফিরলেও কিছুদিন পর আবারও আগের অবস্থায় ফিরে যাওয়ার আশঙ্কা থাকবে।


আরো খবর