• ঢাকা, বাংলাদেশ বৃহস্পতিবার, ০৬ অগাস্ট ২০২৬, ১১:৪৫ অপরাহ্ন
শিরোনাম
নেসকোর হেড অফিস রাজশাহীতেই থাকছে ভূমিমন্ত্রীর ঘোষণায় উজ্জীবিত রাজশাহীবাসী বাংলাদেশ রেশম উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা এবং কনসালটেন্ট ফার্মের বিশেষজ্ঞদের সাথে মতবিনিময় খুনি হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে এনে আয়না ঘরে রাখা হবে: এমপি মিলন বিজয়ের আগমুহূর্তে রক্তাক্ত রাজশাহী রাবিতে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস পালিত বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস পালিত জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে ইবনে সিনা রাজশাহীতে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত রাজশাহী থেকে কোনো প্রতিষ্ঠানই কোথাও যাবে না: ভূমিমন্ত্রী মিনু জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসে রাজশাহীতে শহীদ সাকিব আনজুমের কবর জিয়ারত জুলাই অভ্যুত্থান কোনো একক গোষ্ঠীর নয়: এমপি মিলন
নোটিশ
রাজশাহীতে আমরাই প্রথম পূর্ণঙ্গ ই-পেপারে। ভিজিট করুন epaper.rajshahisongbad.com

নেসকোর হেড অফিস রাজশাহীতেই থাকছে ভূমিমন্ত্রীর ঘোষণায় উজ্জীবিত রাজশাহীবাসী

নিজস্ব প্রতিবেদক
সর্বশেষ: বৃহস্পতিবার, ৬ আগস্ট, ২০২৬
নেসকোর হেড অফিস রাজশাহীতেই থাকছে ভূমিমন্ত্রীর ঘোষণায় উজ্জীবিত রাজশাহীবাসী
নেসকোর হেড অফিস রাজশাহীতেই থাকছে ভূমিমন্ত্রীর ঘোষণায় উজ্জীবিত রাজশাহীবাসী

নর্দান ইলেক্ট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানির (নেসকো) প্রধান কার্যালয় রাজশাহী থেকে বগুড়ায় সরিয়ে নেওয়ার ইস্যুতে ভূমিমন্ত্রী ও রাজশাহী সদর আসনের সংসদ সদস্য মিজানুর রহমান মিনু সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, নেসকোর প্রধান কার্যালয় রাজশাহীতে আছে, রাজশাহীতেই থাকবে। এজন্য প্রয়োজনে তিনি আন্দোলনে নামারও ঘোষণা দিয়েছেন। এদিকে, ভূমিমন্ত্রীর এই ঘোষণার পর রাজশাহীর বিভিন্ন শ্রেনী পেশার মানুষ এই ইস্যুতে আন্দোলনে নামার আভাস দিচ্ছে। স্থানীয় বিএনপির নেতারাও প্রয়োজনে আন্দোলনে নামার বিষয়ে একাট্টা।

ভূমিমন্ত্রীর এই বক্তব্যের পর উপস্থিত দর্শকরা ব্যাপক করতালির মাধ্যমে তার প্রতি সমর্থন জানান। বক্তব্যটি পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। বিএনপি ছাড়াও রাজশাহীর বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিরাও মিনুর এই অবস্থানের প্রশংসা করেন এবং প্রয়োজনে আন্দোলন গড়ে তোলার পক্ষে মত দেন।
২০১৬ সালের অক্টোবর থেকে রাজশাহী ও রংপুর বিভাগে বিদ্যুৎ সরবরাহ করে আসছে নেসকো। শুরু থেকেই প্রতিষ্ঠানটির প্রধান কার্যালয় রাজশাহীতে রয়েছে। তবে বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরই এটি বগুড়ায় সরিয়ে নেওয়ার প্রসঙ্গ ওঠে। বগুড়ার শিবগঞ্জ আসনের সংসদ সদস্য মীর শাহে আলম স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণের পরই নেসকোর প্রধান কার্যালয় রাজশাহী থেকে বগুড়ায় স্থানান্তরের উদ্যোগ নেন।

এ জন্য তিনি বগুড়া শহরে প্রধান কার্যালয় নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠান। সেই চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে বিষয়টি যাচাইয়ের জন্য একটি কমিটিও গঠন করা হয়। তবে খবরটি ছড়িয়ে পড়লে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানান রাজশাহীর সাধারণ মানুষ। গত মার্চে এ নিয়ে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন স্থানীয়রা। এখানকার রাজনৈতিক নেতারাও ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এ প্রেক্ষাপটে সে সময় খানিকটা পিছু হটেন প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। মার্চ মাসে তিনি রাজশাহীতে এলে স্থানীয় সাংবাদিকরা তার অবস্থান জানতে চান।

তখন তিনি জানান, আপাতত তিনি এই উদ্যোগ থেকে সরে এসেছেন। তিনি বলেন, স্থানীয়দের প্রতিবাদের কারণে আপাতত বগুড়ায় একটি আঞ্চলিক অফিস স্থাপনের জন্য মন্ত্রণালয়ে নতুন করে অনুরোধ করেছেন। এরপর নেসকোর প্রধান কার্যালয় বগুড়ায় নেওয়ার দৃশ্যমান কোনো কার্যক্রম না থাকলেও ভেতরে ভেতরে প্রক্রিয়াটি চলমান ছিল। গত ১৬ জুলাই বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব নেসকোর ব্যবস্থাপনা পরিচালকের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে রাজশাহী থেকে প্রধান কার্যালয় বগুড়ায় স্থানান্তরের বিষয়ে মতামত চাওয়া হয়। ওই চিঠির খবর প্রকাশের পর রাজশাহীর মানুষ নিশ্চিত হন, নেসকো স্থানান্তরের প্রক্রিয়া এখনো চালিয়ে যাচ্ছেন মীর শাহে আলম।

এ নিয়ে রাজশাহীতে গুঞ্জন চললেও তেমন দৃশ্যমান প্রতিক্রিয়া ছিল না। তবে গত সপ্তাহে শাহে আলমের একটি বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর উত্তাপ ছড়িয়ে পড়ে রাজশাহীব্যাপী। ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে রাজশাহীর মানুষকে উদ্দেশ করে কটাক্ষ করেন প্রতিমন্ত্রী শাহে আলম। ভিডিওতে তাঁকে বলতে শোনা যায়, ‘রাজশাহীওয়ালারা সারাদিন চিৎকার করে। আরে ভাই, রাজশাহী তো আমাদের বিভাগ, আমাদের গর্ব। কিন্তু দুঃখজনক, আপনারা পকেটের মধ্যে। সেখানে যদি কোনো বড় অফিস হয়, আমাদের জন্য কষ্ট হয়। রাজশাহীর মানুষ কি আমাদের কষ্ট বিবেচনা করবেন না? সেই বিবেচনায় নেসকোর হেড অফিস—কোথায় রাজশাহী, কোথায় পঞ্চগড় পর্যন্ত এই বিদ্যুৎ সার্ভিস। এই হেড অফিসটা যদি বগুড়ায় আসে, আপনাদের ব্যথা লাগে কেন? ব্যথা লাগাবেন না ভাই। হোক না বগুড়া হেড অফিস, আপনারা জোনাল অফিস নেন।’

তার এই বক্তব্য ছড়িয়ে পড়ার পর তীব্র প্রতিক্রিয়া শুরু হয়। সাধারণ মানুষ বিএনপির স্থানীয় নেতাদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। নেসকোর প্রধান কার্যালয় বগুড়ায় চলে গেলে রাজশাহীতে বিএনপির জনপ্রিয়তায় ধস নামবে বলেও মন্তব্য করেন অনেকেই। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনুর অবস্থান জানতে চেয়ে অসংখ্য পোস্ট দেওয়া হয়। সব প্ল্যাটফর্মেই নেসকোর প্রধান কার্যালয়ের ইস্যুটি আলোচনায় উঠে আসে।
এমন প্রেক্ষাপটে বুধবার জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসের এক অনুষ্ঠানে মিজানুর রহমান মিনু নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে বলেন, শুধু নেসকো নয়, রাজশাহীর কোনো প্রতিষ্ঠান এখান থেকে সরানোর সুযোগ নেই। কোনো কন্ট্রাক্টর কোথায় কী বলল, তাতে কিছু যায় আসে না। প্রয়োজনে নেসকো ইস্যুতে আমি আন্দোলনে যাব।

তিনি আরও বলেন, এখানে যারা চাকরি করে, তাদের মধ্যে কিছু হাসিনার ফ্যাসিস্ট দালাল আছে। তারা এটা নিয়ে ষড়যন্ত্র করতে পারে। রাজশাহীর প্রতিষ্ঠান রাজশাহীতেই থাকবে। মিনু বলেন, রাজশাহী থেকে রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চল অফিস চট্টগ্রামে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল, যেতে দেওয়া হয়নি। মনে নাই? ১৯৯২ সালে আমি কেবল মেয়র হয়েছি। কর্নেল অলি যোগাযোগমন্ত্রী। রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চল হেডকোয়ার্টার চট্টগ্রামে নিয়ে যাবেন। নো… ফার্স্ট মাই রাজশাহী। আমি অনশন করেছি, রানিং মেয়র থাকা অবস্থায় মিছিল করেছি, মিটিং করেছি। অনেক শক্তিশালী নেতা ছিলেন তিনি। সরকারে দ্বিতীয়-তৃতীয় অবস্থানে থেকেও আমি মাথা নামাইনি। বলেছিলাম, মরে পড়ে থাকব গেটের সামনে। পশ্চিমাঞ্চল রেল যাবে না, যায়নি। আজও নেসকো কেন, কোনো কিছুই রাজশাহী থেকে যাবে না।

মিনু আরও বলেন, ‘আমি জানি, আমার কাছে মন্ত্রিত্ব, এমপি বা মেয়র বড় জিনিস নয়। এই মাটিতে আমার জন্ম। এই মাটিতেই আপনারা হাসিমুখে আমাকে মাটির তলে রেখে আসবেন-এটাই আমার আকাঙ্ক্ষা, এটাই আমার চাওয়া। আল্লাহ আমাকে অনেক সম্মান দিয়েছেন। আর এগুলো কোনো কনট্রাক্টরের স্বার্থে কে কোথায় কী করবে… তাদের আরও দায়িত্বশীল হওয়া উচিত। আমি যেকোনো সময় আমার জীবন উৎসর্গ করতে প্রস্তুত।
এদিকে, নেসকো ইস্যু রাজশাহীর সরকারদলীয় নেতাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দেখা দিয়েছে। এই কার্যালয় বগুড়ায় স্থানান্তরের প্রক্রিয়া তারা ঠেকাতে না পারলে আগামী যেকোনো নির্বাচনে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। এর প্রভাবে আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও রাজশাহী সিটি করপোরেশনে ফলাফল বিপর্যয় হতে পারে বলে মন্তব্য করছেন অনেকেই। এমন পরিস্থিতিতে নেসকোর প্রধান কার্যালয় রক্ষার দাবিতে রাজশাহীতে বিএনপির পাশাপাশি জামায়াত, এনসিপি এবং কয়েকটি সামাজিক সংগঠন আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করতে পারে বলে শোনা যাচ্ছে।


আরো খবর