• ঢাকা, বাংলাদেশ শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ১১:৪৩ অপরাহ্ন
শিরোনাম
৭ নভেম্বর ১৯৭৫ : আমার চোখে সিপাহি-জনতার বিপ্লব বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হলো ভিইউ সাইফিউশন কৃষকের সার পাচার ও অপচয় ঠেকাতে নজরদারির আহ্বান কৃষিমন্ত্রীর পবায় নিজ উদ্যোগে শতাধিক মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র ও নগদ অর্থ বিতরণ শিশুর পুষ্টিই জাতির শক্তি,আমাদের করণীয় ইসলামিক সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় তানযীমুল উম্মাহর ৬ শিক্ষার্থীর ৯ পুরস্কার জেলা পুলিশের অভিযানে ১৫০ পিস ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার ২ বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাউন্সিলের ১৩তম সভা নগরীতে ৩০ লাখ টাকার বেশি বায়না দিয়েও ভূমিদস্যু অপপ্রচারের অভিযোগ জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে রাজশাহী মহানগর বিএনপির প্রস্তুতি সভা
নোটিশ
রাজশাহীতে আমরাই প্রথম পূর্ণঙ্গ ই-পেপারে। ভিজিট করুন epaper.rajshahisongbad.com

অসহায় মানুষের মুখে হাসি ফোটাচ্ছে মানবতার সেবায় রহনপুর

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি
সর্বশেষ: শনিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৫
অসহায় মানুষের মুখে হাসি ফোটাচ্ছে মানবতার সেবায় রহনপুর
অসহায় মানুষের মুখে হাসি ফোটাচ্ছে মানবতার সেবায় রহনপুর

চাঁপাইনবাবগঞ্জের রহনপুরে একটু একটু করে গড়ে উঠেছে মানবতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত ‘মানবতার সেবায় রহনপুর’। নামের মতোই এ সংগঠনের লক্ষ্য ও কাজ একটাই ক্ষুধার্ত মানুষের মুখে খাবার তুলে দেওয়া, অসহায়দের পাশে দাঁড়ানো। সমাজের প্রান্তিক মানুষের কল্যাণে এ সংগঠন এখন রহনপুরের মানুষের কাছে এক উজ্জ্বল আশার নাম।

Advertisements

এই মহৎ উদ্যোগের সূচনা করেন স্থানীয় তরুণ উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ী মোস্তাফিজুর রহমান জেম। মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতা আর মানবতার টান থেকেই তাঁর এই পথচলা। ২০২১ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি মাত্র ১৫-২০ জন স্বেচ্ছাসেবীকে সঙ্গে নিয়ে যাত্রা শুরু হয় সংগঠনটির। শুরুটা ছিল ক্ষুদ্র, কিন্ত লক্ষ্য ছিল বিশাল ক্ষুধার্ত মানুষের মুখে হাসি ফোটানো। গত পাঁচ বছরে একদিনের জন্যও থেমে থাকেনি তাদের কাজ। বছরের ৩৬৫ দিনই সন্ধ্যার পর চলে খাবার বিতরণের কার্যক্রম। রহনপুর রেলস্টেশন, স্থানীয় হাসপাতালের অতিরিক্ত রোগী, পথচারী, মানসিক ভারসাম্যহীন ও অসহায় মানুষ সবাই এই মানবিক উদ্যোগের পরিধির মধ্যে পড়ে। এ পর্যন্ত প্রায় পাঁচ লাখ মানুষের মুখে খাবার তুলে দিয়েছে সংগঠনটি। সংগঠনের উদ্যোক্তা মোস্তাফিজুর রহমান জেম বলেন, মানুষ মানুষের জন্য। কেউ যেন ক্ষুধার্ত অবস্থায় ঘুমাতে না যায়, এই চিন্তা থেকেই আমাদের এই যাত্রা। আমাদের পাশে যারা আছেন তাদের সহযোগিতা ও ভালোবাসাই আমাদের এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা।

মানবতার সেবায় রহনপুর-এর আর্থিক ব্যবস্থাপনা সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক। দাতাদের তথ্য গোপন রাখা হয়, আর প্রাপ্ত অর্থ ব্যয় করা হয় শুধুমাত্র মানবিক কাজে। সংগঠনের হিসাবরক্ষক খাইরুল আনাম বলেন, প্রত্যেকটি টাকার হিসাব আমরা রাখি অত্যন্ত সতর্কভাবে। দাতাদের বিশ্বাসই আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি। এ কাজে সক্রিয়ভাবে সহযোগিতা করছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সমাজের সম্মানিত ব্যক্তিরা। তাদের আন্তরিকতা ও অংশগ্রহণে সংগঠনটির পরিধি দিন দিন আরও বিস্তৃত হচ্ছে। স্থানীয় সহযোগী আজম আলী বলেন, মানবতার সেবায় রহনপুর আমাদের এলাকায় মানবিকতার নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছে। এমন কাজে অংশ নিতে পারাটাই আমাদের সৌভাগ্য।

প্রতিদিন সন্ধ্যায় ৪০ থেকে ৫০ জন মানুষ সংগঠনের দেওয়া খাবার পান। কেউ হাসপাতালের বারান্দায় বসে খান, কেউ স্টেশনের ধারে। তাদের মুখের হাসিই যেন সংগঠনের সবচেয়ে বড় পুরস্কার। তিন বেলা না হোক, অন্তত একবেলা খাবার পেয়ে তারা খুঁজে পান বেঁচে থাকার আনন্দ ও স্বস্তি। গোমস্তাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উপসহকারী কমিউনিটি মেডিক্যাল অফিসার মেসবাউল হক মেসবা বলেন, রহনপুরের এই উদ্যোগ নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবি রাখে। সমাজে এমন মানবিক কার্যক্রম যত বাড়বে, দুর্বল মানুষের জীবন ততই সুন্দর হবে। ‘মানবতার সেবায় রহনপুর’ এখন শুধু একটি সংগঠন নয় এটি এক আন্দোলন, এক ভালোবাসার প্রতিচ্ছবি। মানুষের জন্য মানুষের নিরলস প্রচেষ্টা যে সমাজকে কতটা সুন্দর ও মানবিক করে তুলতে পারে, তারই জীবন্ত উদাহরণ রহনপুর।


আরো খবর