দীর্ঘ সাড়ে পাঁচ মাসের জটিলতা শেষে রাজশাহীর চরশ্যামপুর ও দিয়ারখিদিরপুর বালুমহাল বৈধ ইজারাদারের হাতে বুঝিয়ে দিল প্রশাসন। মঙ্গলবার দুপুরে পবা উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) জাহিদ হাসান সরেজমিনে গিয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স সাইফ ট্রেডার্স-এর কাছে আলোচিত বালুমহালটি বুঝিয়ে দেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ১৪৩২ বঙ্গাব্দে সর্বোচ্চ ১৫ কোটি ১৫ লাখ ৭০ হাজার ৫০০ টাকায় প্রতিষ্ঠানটি এক বছরের জন্য ইজারা পায়। যা ভ্যাটসহ প্রায় ১৯ কোট টাকা। কিন্তু হাইকোর্টের দুটি রিট পিটিশন এবং পদ্মার বন্যার পানির কারণে এতদিন কার্যক্রম স্থগিত ছিল। অবশেষে আদালতের নিষ্পত্তি ও পানি কমে যাওয়ায় প্রতিষ্ঠানটি বছরের প্রায় অর্ধেক সময় পার হয়ে যাওয়ার পর বালুমহালটি বুঝে পেল।
প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী শাহিনুর রহমান শিহাব বলেন, আমরা পুরো বছরের জন্য সরকারের কাছে ইজারা মূল্য পরিশোধ করেছি। কিন্তু আদালতের স্থগিতাদেশ ও প্রাকৃতিক কারণে সাড়ে পাঁচ মাস কাজ বন্ধ থাকায় ক্ষতির শঙ্কা তৈরি হয়েছে। ক্ষতিপূরণের জন্য প্রশাসনের কাছে আবেদন করেছি।
প্রতিষ্ঠানের পার্টনার রমজান আলী বলেন, আমরা গত ১৮ মার্চ দরপত্র জমা দিয়ে সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে ইজারা পাই। কিন্তু আদালতের স্থগিতাদেশে কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। অবশেষে সাড়ে পাঁচ মাস পর এসিল্যান্ড স্যার আমাদের বালুমহাল বুঝিয়ে দিয়েছেন। ৫ আগস্টের পর মামলায় পলাতক আওয়ামী দোসরদের হাত থেকেও এটি মুক্ত হয়েছে। অন্যদিকে স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, ২০০৯ সাল থেকে একাধিক প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতা ইজারা ছাড়াই বালুমহাল দখল করে কোটি কোটি টাকা রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে আসছিলেন। চলতি বছর টেন্ডারের মাধ্যমে সাইফ ট্রেডার্স বৈধভাবে ইজারা পেলেও পুরনো সিন্ডিকেট পুনর্দখলের উদ্দেশ্যে আদালতে রিট দায়ের করে।
এ বিষয়ে এসিল্যান্ড জাহিদ হাসান বলেন, সরকারি শর্ত মেনে সঠিকভাবে বালু উত্তোলন করতে ইজারাদারকে আমরা বালুমহাল বুঝিয়ে দিয়েছি। আগামী ১৪৩২-১৪৩৩ চৈত্র সাল পর্যন্ত তারা এ বালুমহাল থেকে বালু উত্তোলন করতে পারবে। তদারকিতে পুলিশসহ প্রশাসনের কর্মকর্তারা দায়িত্ব পালন করবেন।
ক্ষতির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সরকারি বিধি মোতাবেক যা আছে সেটিই করতে হবে। আইনে যা আছ তাই করা হবে।