• ঢাকা, বাংলাদেশ শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ০৪:৩১ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
৭ নভেম্বর ১৯৭৫ : আমার চোখে সিপাহি-জনতার বিপ্লব বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হলো ভিইউ সাইফিউশন কৃষকের সার পাচার ও অপচয় ঠেকাতে নজরদারির আহ্বান কৃষিমন্ত্রীর পবায় নিজ উদ্যোগে শতাধিক মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র ও নগদ অর্থ বিতরণ শিশুর পুষ্টিই জাতির শক্তি,আমাদের করণীয় ইসলামিক সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় তানযীমুল উম্মাহর ৬ শিক্ষার্থীর ৯ পুরস্কার জেলা পুলিশের অভিযানে ১৫০ পিস ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার ২ বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাউন্সিলের ১৩তম সভা নগরীতে ৩০ লাখ টাকার বেশি বায়না দিয়েও ভূমিদস্যু অপপ্রচারের অভিযোগ জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে রাজশাহী মহানগর বিএনপির প্রস্তুতি সভা
নোটিশ
রাজশাহীতে আমরাই প্রথম পূর্ণঙ্গ ই-পেপারে। ভিজিট করুন epaper.rajshahisongbad.com

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ ফিংগারপ্রিন্ট দিয়ে চলে যান চিকিৎসক,তুলছেন বেতন-ভাতা

রিপোর্টার নাম:
সর্বশেষ: সোমবার, ১৮ আগস্ট, ২০২৫

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ ডেন্টাল ইউনিটের পেডিয়াট্রিক ডেন্টিস্ট্রি বিভাগের প্রভাষক ডা. মাহফুজুর রহমান। প্রতিদিন সকালে তিনি এসে ফিঙ্গার প্রিন্ট দিয়েই চলে যান বাসায়। দীর্ঘ ১০ বছরেরও বেশি সময় ধরেই তিনি কর্মক্ষেত্রে এমন ভাবে অনুপস্থিত থাকলেও নিয়মিত বেতন-ভাতা গ্রহণ করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, তিনি প্রতিদিন সকালে কলেজে এসে ফিঙ্গারপ্রিন্ট দিয়ে উপস্থিতি দেখান। এরপর রাজশাহীর ফায়ার সার্ভিস মোড়ের পাশে অবস্থিত তার ব্যক্তিগত চেম্বার ‘ডেন্টাল এইড’-এ গিয়ে রোগী দেখেন। প্রস্থান ফিঙ্গারপ্রিন্ট দেওয়ার সময় হলে পুনরায় কলেজে এসে ফিঙ্গারপ্রিন্ট দিয়ে বের হয়ে যান। ফলে সরকারি রেকর্ডে তার নিয়মিত উপস্থিতি প্রদর্শিত হলেও বাস্তবে তিনি দীর্ঘদিন কলেজে অনুপস্থিত রয়েছেন।

Advertisements

অভিযোগ রয়েছে, বিগত সরকারের আমলে তিনি আওয়ামী লীগের চিকিৎসক সংগঠন স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ (স্বাচিপ)-এর সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন। সে কারণে তার বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এমনকি গত বছরের ৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পরও একইভাবে তিনি উপস্থিতির আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে ব্যক্তিগত চেম্বারে রোগী দেখা অব্যাহত রেখেছেন।
শিক্ষার্থী ও ইন্টার্ন চিকিৎসকরা জানান, ডা. মাহফুজুর রহমান নামের কোনো শিক্ষককে তারা কখনো দেখেননি বা চেনেন না।
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ ডেন্টাল ইউনিটের ইন্টার্ন প্রতিনিধি মাহমুদুল হাসান বলেন, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ ডেন্টাল ইউনিটের পেডিয়াট্রিক ডেন্টিস্ট্রি বিভাগের প্রভাষক ডা. মাহফুজুর রহমান নামে একজন স্যার আমাদের এখানে আছেন শুনেছি। তবে তাকে কখনো দেখি নি। তিনি আমাদের কোনো ক্লাসও নেন নি। তাকে আমরা চিনিও না।

এবিষয়ে রামেক ডেন্টাল ইউনিট প্রধান ডা. আবুল হোসেন বলেন, ডা. মাহফুজুর রহমান অসুস্থ মানুষ। তারা সিরোসিস লিভার, হার্টে বাইপাস আছে। তিনি নিয়মিত ফিঙ্গার প্রিন্ট দেন। তবে চলে যায় এটি আসলে বিভাগ বলতে পারবে। আমি তো অফিসিয়াল কাজ করি সব বিভাগে সব সময় যেতে পারি না। তিনি আরো বলেন, অফিসিয়াল নিয়মে তিনি দায়িত্ব পালন করবে এটি ঠিক। তবে কী হচ্ছে খবর নিয়ে পরে জানাবো।
রামেক অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. খন্দকার ফয়সাল আলম বলেন, তিনি এভাবে ক্লাস নেন না, টাকা নেন এটি আমি আপনার মাধ্যমেই জানতে পেরেছি। আমরা তাকে মেডিকেল বোর্ডের মাধ্যমে অবসরে পাঠানোর ব্যবস্থা করতাম। তবে তার চাকুরিই আছে আর মাত্র দুই মাস। তাই স্বাভাবিক ভাবেই তাকে ছেড়ে দিয়েছি।

গত ১০ বছর অনুপস্থিত থাকার বিষয়ে তিনি বলেন, আমি এই বিষয়ে কিছুই জানি না। ডেন্টাল ইউনিট থেকেও আমাদের জানানো হয় নি। তখন জানালে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হতো। এই রকম অকাজের লোক রেখে তো আর আমাদের লাভ নেই।

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ ডেন্টাল ইউনিটের পেডিয়াট্রিক ডেন্টিস্ট্রি বিভাগের প্রভাষক ডা. মাহফুজুর রহমানকে একাধিক বার মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলেও তাকে পাওয়া যায় নি। তবে সম্প্রতি এই প্রতিবেদককে তিনি জানান, তিনি অসুস্থতার কারণে প্রতিদিনই চলে যান। তবে সেই সময় তার চেম্বারে তিনি রোগী দেখেন না। তবে তিনি ক্লাস বা পরীক্ষা নেন না। বরং প্রতিদিনই ফিংগারপ্রিন্ট দিয়ে চলে যান। এই বিষয়টি তিনি ইউনিট প্রধানকে মৌখিকভাবে জানিয়েছেন। তবে লিখিত ভাবে কিছু বলেন নি। প্রতিদিন এমন ছুটি নেওয়া যায় কী না জানতে চাইলে তিনি বলেন, এমন তো যায় না। তবে আমি অসুস্থ তাই চলে যাই।


আরো খবর