রমজানকে সামনে রেখে রাজশাহীর কাঁচাবাজারে হঠাৎ করেই লেবুর দাম দ্বিগুণ বেড়েছে। মাত্র দুই থেকে তিন দিনের ব্যবধানে ২০-৩০ টাকা হালি বিক্রি হওয়া লেবু এখন ৬০-৭০ টাকা হালি দরে বিক্রি হচ্ছে। বাজারে বর্তমানে সবচেয়ে বেশি দাম বেড়েছে এই পণ্যেরই।
সোমবার নগরীর বিভিন্ন কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা যায়, কয়েকদিন আগেও স্বল্পমূল্যে বিক্রি হওয়া লেবু এখন অনেকটাই নাগালের বাইরে। হঠাৎ দাম বৃদ্ধিতে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন সাধারণ ক্রেতারা। লেবু কিনতে গিয়ে অনেককে বিক্রেতাদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়াতেও দেখা গেছে।
শুধু লেবুই নয়, অন্যান্য সবজির দামও বেড়েছে ২০ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত। বর্তমানে বেগুন বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৮০ টাকা কেজি, কাঁচা মরিচ ১৩০ থেকে ১৬০ টাকা, শসা ৫০ থেকে ৭০ টাকা, টমেটো ৩০ থেকে ৫০ টাকা, লাউ ৪০ থেকে ৫০ টাকা দরে। বাজারে নতুন আসা করলার দাম রাখা হয়েছে ১৬০ টাকা কেজি।
তবে কিছু পণ্যের দাম তুলনামূলক স্বাভাবিক রয়েছে। পালং শাক বিক্রি হচ্ছে ২০ টাকা আঁটি, ফুলকপি ৩০ টাকা কেজি, পেঁয়াজ ৫০ টাকা কেজি দরে। সবজির বাজারে সবচেয়ে কম দামে রয়েছে আলু যা ২০ টাকার নিচে বিক্রি হতে দেখা গেছে।
বাজার করতে আসা মাহিনুর বলেন, হঠাৎ করেই সব কিছুর দাম বেড়ে গেছে। রমজান আসলেই একটি বড় সিন্ডিকেট বাজার দখল করে দাম বাড়িয়ে দেয়। সাধারণ মানুষের কিছুই করার থাকে না। দুই দিন আগে যে লেবু ৩০ টাকায় কিনেছি, আজ সেটাই ৭০ টাকা ভাবতেই অবাক লাগছে। আরেক ক্রেতা রহিম আলী বলেন, রমজানে যেসব সবজি বেশি প্রয়োজন হয়, সেগুলোর প্রায় সবগুলোরই দাম বেড়েছে। আলু ছাড়া কম দামে কিছুই নেই। এখন আলুর দামও যদি বাড়ে, তাহলে অবস্থা আরও খারাপ হবে।
অন্যদিকে লেবু বিক্রেতা ফয়জুল্লাহ বলেন, পাইকারি বাজারেই লেবুর সংকট দেখা দিয়েছে। আমরা বেশি দামে কিনে আনতে বাধ্য হচ্ছি। তাই খুচরা বাজারেও দাম বেশি রাখতে হচ্ছে। সামনে আরও দুই-তিন দিনের মধ্যে দাম বাড়তে পারে। রমজান শুরু হতে এখনও কয়েকদিন বাকি থাকলেও বাজারে ইতোমধ্যেই মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব পড়েছে। এতে মধ্যবিত্ত ও নিম্নআয়ের মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, বাজার মনিটরিং জোরদার না করলে রোজা শুরু হলে নিত্যপণ্যের দাম আরও অস্বাভাবিকভাবে বাড়তে পারে।