• ঢাকা, বাংলাদেশ রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০২:৫২ পূর্বাহ্ন
নোটিশ
রাজশাহীতে আমরাই প্রথম পূর্ণঙ্গ ই-পেপারে। ভিজিট করুন epaper.rajshahisongbad.com

ফুলের দাম চড়া, ক্রেতা কম

আব্দুল আলিম
সর্বশেষ: শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
ফুলের দাম চড়া, ক্রেতা কম
ফুলের দাম চড়া, ক্রেতা কম

ফাল্গুনের হালকা বসন্ত হাওয়া আর রঙিন আবহে শহরজুড়ে উৎসবের আমেজ থাকলেও রাজশাহীর ফুলের বাজারে নেই প্রত্যাশিত প্রাণচাঞ্চল্য। চড়া দামের কারণে ক্রেতা উপস্থিতি কমে যাওয়ায় হতাশ বিক্রেতারা। জিরো পয়েন্ট, সাহেববাজার, নিউমার্কেট ও লক্ষ্মীপুর এলাকার অস্থায়ী ও স্থায়ী ফুলের দোকানগুলোতে গিয়ে দেখা গেছে সাজানো টেবিলে লাল-সাদা গোলাপ, জারবেরা ও রজনীগন্ধার সারি থাকলেও ক্রেতা উপস্থিতি খুবই সীমিত।

বর্তমানে বাজারে প্রতি পিস লাল গোলাপ ৪০ থেকে ৫০ টাকা, সাদা গোলাপ ৭০ টাকা, জারবেরা ৫০ টাকা এবং রজনীগন্ধা স্টিক ২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ব্যবসায়ীদের দাবি, গত বছরের তুলনায় এ বছর প্রতিটি ফুলের দাম গড়ে ২০ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।

রাজশাহী জিরো পয়েন্ট এলাকার ফুল ব্যবসায়ী মাইনুল ইসলাম বলেন, চলতি মৌসুমে স্কুল-কলেজে ছুটি থাকায় ফুলের চাহিদা তুলনামূলকভাবে কম। গত বছরের তুলনায় এবার ফুলের দাম কিছুটা বেশি। আমরা যেখান থেকে ফুল কিনে আনি, সেখানেও দাম বেড়েছে। কিন্তু বাজারে এসে বেশি দামে বিক্রি করতে গেলে ক্রেতা কমে যায়।

তিনি আরও বলেন, ফাল্গুন উপলক্ষে বেশি করে ফুল নিয়ে এসেছিলাম। এখন সেগুলো বিক্রি হবে কিনা তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি। ফুল বেশি দিন রাখা যায় না। আজ বিক্রি না হলে কাল নষ্ট হয়ে যায়।

সাহেববাজার এলাকার ব্যবসায়ী আব্দুল হান্নান বলেন, আমরা বেশিরভাগ ফুল ঢাকার পাইকারি বাজার থেকে নিয়ে আসি। পরিবহন ভাড়া বেড়েছে, সঙ্গে পাইকারি দামও বেশি। ফলে খুচরা বাজারে কম দামে বিক্রি করা সম্ভব হচ্ছে না। আরেক বিক্রেতা আফিস আলী জানান, ভালোবাসা দিবস, ফাল্গুন বা বিশেষ দিবসে সাধারণত বিক্রি বাড়ে। কিন্তু এবার ভিড় কম। অনেকে শুধু একটি বা দুটি ফুল কিনছেন।

দোকানদার মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, আজ বিক্রি না হলে কাল ফুল নষ্ট হয়ে যাবে। তখন পুরো টাকাটাই লোকসান। ঝুঁকি নিয়েই ব্যবসা করতে হয়। লক্ষ্মীপুর এলাকার বিক্রেতা নাসির উদ্দিন বলেন, গত বছর এই সময়ে প্রতিদিন ৪ থেকে ৫ হাজার টাকার ফুল বিক্রি হতো। এবার তা নেমে এসেছে অর্ধেকেরও কম।

ফুল ক্রেতা সৌরভ বলেন, গত বছরের তুলনায় এবছর ফুলের দাম বেড়েছে। দোকানে গিয়ে ফুল কিনতে গেলাম, সেখানে দাম দর করতে গিয়ে কিছু টাকা কম হলো না। দুই-তিনটা ফুল কিনলাম প্রিয়জনকে দেওয়ার জন্য। শিক্ষার্থী পারভেজ হাসান বলেন, একটা গোলাপ ৫০ টাকা হলে বেশি কেনা যায় না। আগের মতো একগুচ্ছ ফুল কেনা এখন বিলাসিতা হয়ে গেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আফরোজা বলেন, বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলবো, ফুল নেবো এমন পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু দাম শুনে আর সাহস পাইনি।

কলেজ শিক্ষার্থী ইসমাইল হক বলেন, ফুল ভালোবাসার প্রতীক। কিন্তু দাম বেশি হলে অনেকেই কিনতে পারে না। তখন উৎসবের আনন্দ কিছুটা ম্লান হয়ে যায়। নিউমার্কেট এলাকার দোকানি ইমরান হোসেন বলেন, বড় শহরের মতো এখানে অনলাইন ডেলিভারি সিস্টেম শক্তিশালী না। তাই দোকানে ক্রেতা না এলে বিক্রি কমে যায়।

ব্যবসায়ীরা আশা করছেন, বিশেষ দিন ঘিরে শেষ মুহূর্তে কিছুটা বিক্রি বাড়তে পারে। তবে চাহিদা না বাড়লে লোকসানের আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে। ফাল্গুনের রঙিন আবহ ও ভালোবাসার প্রতীক হয়ে থাকা ফুল এবার যেন বাজারে এসে দাঁড়িয়েছে কঠিন বাস্তবতায়। একদিকে চড়া দাম, অন্যদিকে সীমিত ক্রয়ক্ষমতা দুইয়ের চাপে রাজশাহীর ফুল বাজারে এখন উৎসবের আনন্দের চেয়ে দুশ্চিন্তাই বেশি।


আরো খবর