আর মাত্র তিন দিন পর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এই নির্বাচনকে ঘিরে নানা ধরনের ষড়যন্ত্র এখনো চলমান রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির ত্রাণ ও পুনর্বাসন বিষয়ক সহ-সম্পাদক, রাজশাহী মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও পবা-মোহনপুর আসনে বিএনপির মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী অ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলন। রোববার সকালে মোহনপুর উপজেলার বাগশিমইল ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগকালে তিনি এসব কথা বলেন।
মিলন বলেন, একটি মহল নির্বাচনের ফলাফল নিজেদের পক্ষে নেওয়ার জন্য নানামুখী ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে বলে শোনা যাচ্ছে। এমনকি সরকারি প্রিজাইডিং অফিসার ও পোলিং অফিসারদের দিয়ে ফলাফল পরিবর্তনের চেষ্টার কথাও শোনা যাচ্ছে। এ ধরনের ষড়যন্ত্র কোনোভাবেই জনগণ মেনে নেবে না। জনগণ ভোট প্রদান শেষে সঠিক ফলাফল নিয়ে ঘরে ফিরবে—এটাই তাদের প্রত্যাশা।
তিনি আরও বলেন, শোনা যাচ্ছে জামায়াতে ইসলামী তথাকথিত ‘বোরকা বাহিনী’ নামিয়ে নির্বাচনে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করতে পারে এবং অতিরিক্ত ব্যালট নিয়ে ভোটকেন্দ্রে প্রবেশের ষড়যন্ত্র করছে। তবে এসব অপচেষ্টা কোনো কাজে আসবে না। কারণ এবারের নির্বাচনে বুথের ভেতরে বিএনপির এজেন্টরা কঠোরভাবে এসব প্রতিহত করবে।
এজেন্টদের উদ্দেশে তিনি বলেন, বিএনপির গণজোয়ার দেখে দেশবিরোধী একটি দলের মাথা খারাপ হয়ে গেছে। নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় যেতে পারবে না জেনেই তারা এসব অবৈধ পন্থা অবলম্বনের চেষ্টা করছে। এসব ষড়যন্ত্র রুখে দিতে বিএনপি নেতাকর্মী ও সাধারণ জনগণকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে প্রশাসনকে কঠোর ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।
ভোটারদের উদ্দেশে মিলন বলেন, বিএনপি একটি জনগণের দল যারা স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় আপসহীন। বিএনপি ক্ষমতায় থাকলে দেশে অন্যায়, অত্যাচার ও নির্যাতন বন্ধ থাকে এবং উন্নয়নের চাকা গতিশীল হয়। আগামী দিনে বাংলাদেশকে একটি উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত করতে ধানের শীষে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি বলেন, ধানের শীষে ভোট দিলে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান হবেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হলে ৩১ দফা বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশকে একটি উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত করবেন। একই সঙ্গে জাতীয় সরকার গঠনসহ নানা ধরনের সংস্কার কার্যক্রম গ্রহণ করবেন।
মিলন আরও বলেন, তারেক রহমান রাজশাহী সফরে এসে রাজশাহীর উন্নয়নের সুস্পষ্ট রূপরেখা তুলে ধরেছেন। পদ্মা নদী রক্ষা ও পদ্মা অববাহিকার কৃষি বাঁচাতে পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণ, রাজশাহীতে কৃষি হাব ও কৃষি ইপিজেড স্থাপনের ঘোষণা দিয়েছেন।
নারীদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তারেক রহমান নারীদের পরম সম্মানীয় হিসেবে দেখেন। তাদের সম্মান রক্ষা, ক্ষমতায়ন ও অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতার জন্য বিভিন্ন প্রশিক্ষণ এবং ফ্যামিলি কার্ড প্রদান করা হবে। পাশাপাশি কৃষক বাঁচাতে কৃষি কার্ড চালু করা হবে, যাতে তারা সহজে কৃষি উপকরণ ও পণ্য সংগ্রহ করতে পারেন। কৃষকদের জন্য ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত সুদসহ কৃষিঋণ মওকুফের ঘোষণাও দেন তিনি।
মিলন বলেন, তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া নারী শিক্ষার উন্নয়নে অবৈতনিক শিক্ষার ব্যবস্থা করেছিলেন। তারই ধারাবাহিকতায় তারেক রহমান চতুর্থ শ্রেণি থেকে খেলাধুলা বাধ্যতামূলক করার ঘোষণা দিয়েছেন, যাতে প্রাথমিক পর্যায় থেকেই দক্ষ খেলোয়াড় তৈরি হয় এবং তারা দেশের সুনাম বয়ে আনে।
নিজ এলাকার উন্নয়ন প্রসঙ্গে মিলন বলেন, নির্বাচিত হলে পবা-মোহনপুর এলাকার সব রাস্তাঘাট মেরামত ও নতুন রাস্তা নির্মাণ করা হবে। এতে জনগণের যাতায়াতের সুবিধা বাড়বে এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ঘটবে। একই সঙ্গে বেকারত্ব দূরীকরণ, মাদক নির্মূল ও মানসম্মত শিক্ষার মাধ্যমে যুব সমাজকে দেশের সম্পদে পরিণত করা হবে, যাতে তারা দেশে-বিদেশে কাজ করে রেমিট্যান্স পাঠিয়ে দেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারে।
তিনি আবারও আগামী ১২ তারিখ সারাদিন ধানের শীষে ভোট প্রার্থনা করেন।
এ সময় স্থানীয় জনগণ জানান, তারা ফজরের নামাজ শেষে নিজ নিজ ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট প্রদান করবেন এবং ভোট গণনা শেষে ফলাফলের কাগজ হাতে নিয়ে কেন্দ্র ত্যাগ করবেন। ফলাফল নিয়ে কোনো ধরনের ব্যত্যয় ঘটলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন তারা।
গণসংযোগকালে উপস্থিত ছিলেন মোহনপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি শামীমুল ইসলাম মুন, সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রশিদ, উপজেলা কৃষক দলের আহ্বায়ক গোলাম মোস্তফা মামুন, যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল ইসলাম, জেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি মোজাদ্দের জামানি সুমন, বিএনপি নেতা আব্দুল কাদের, উপজেলা যুবদলের সাবেক আহ্বায়ক মির্জা শওকত, উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক আব্দুর রাজ্জাকসহ বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।