জাতীয় গ্রন্থাগার দিবস। জ্ঞানেই মুক্তি, আগামীর ভিত্তি’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বৃহস্পতিবার সকালে রাজশাহী বিভাগীয় সরকারি গণগ্রন্থাগার চত্বরে বেলুন-ফেস্টুন উড়িয়ে দিবসটি উদ্বোধন করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক টুকটুক তালুকদার ।
উদ্বোধন শেষে গণগ্রন্থাগার চত্বর হতে এক বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হয়। র্যালিটি শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে একই স্থানে গিয়ে শেষ হয়। পরে দিবসটি উপলক্ষে বিভাগীয় সরকারি গণগ্রন্থাগার মিলনায়তনে আলোচনা সভা, পুরস্কার ও সনদপত্র বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় টুকটুক তালুকদার বলেন, বর্তমান সময়ে আমরা কেউ বই হাতে নিতে অভ্যস্ত নই। লাইব্রেরিগুলোতে দেখা যায় পাঠকের খুব অভাব। একসময় দেখা যেত লাইব্রেরিতে পাঠকে ভরপুর থাকতো। এখন পাঠকের অভাবে লাইব্রেরিগুলো নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। একটা লাইব্রেরির জন্য প্রয়োজন হচ্ছে পাঠক সেটা কিন্ত নেই। বর্তমান তরুণ প্রজন্ম বই পড়ে ঠিকই কিন্ত সেটা মোবাইলে পিডিএফ ডাউনলোড করে বা অডিও বুকের সাহায্যে বা আরও ডিজিটাল কোনো মাধ্যমে। এতে তারা জ্ঞান অর্জন করছে ঠিকই কিন্ত পুরাতন ও নতুন বইয়ের যে গন্ধ সেটা আমরা অনুভব করছি না, হৃদয়ে ধারণ করছি না, আমাদের হৃদয়কে স্পর্শ করছে না বই। তিনি বলেন, আস্তে আস্তে আমাদের কাছ থেকে মানবিকতা, মূল্যবোধ সরে যাচ্ছে। তার এটাও একটা কারণ হতে পারে যে, বই থেকে ও বই পড়া থেকে আমরা দূরে সরে যাচ্ছি। বইয়ের সাথে সম্পৃক্ততা ও বইয়ের সাথে যে বন্ধন সেটা পুনরায় ফিরিয়ে আনতে হবে।
তিনি আরও বলেন, বই পড়তে সকলকে সচেতন করতে হবে। বইয়ের যে আকুলতা ও ব্যাকুলতা সেটা যেন আমাদের মধ্যে আবার ফিরে আসে এবং বই যেন আমাদের শ্রেষ্ঠ বন্ধু হয়। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে বন্ধুবান্ধব এবং প্রিয়জনকে বই উপহার দেওয়ার যে প্রবণতা সেটা যেন আবার ফিরে আসে। বইকে আমরা সকলে যেন আবার প্রাণের বন্ধন হিসেবে নিয়ে নিয়। বইকে আমরা আরও কাছে নিয়ে আসি। বইকে যত কাছে নিয়ে আসব ততো আমাদের জ্ঞান বৃদ্ধি পাবে এবং আমরা একজন মানবিক মানুষ হতে পারব। রাজশাহী কলেজের লাইব্রেরিয়ান আব্দুল্লাহ আল বশির মূখ্য আলোচক হিসেবে অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন।
রাজশাহী সরকারি গণগ্রন্থাগারের সিনিয়র লাইব্রেরিয়ান মো. রোকনুজ্জামান এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রুয়েটের লাইব্রেরিয়ান মাহবুবুল আলম, রাজশাহী মেডিকেল কলেজের লাইব্রেরিয়ান জিল্লুর রহমান । স্বাগত বক্তব্য রাখেন রাজশাহী সিটি কলেজের লাইব্রেরিয়ান মো. ওয়াহিদুল ইসলাম। সভায় সরকারি- বেসরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা কর্মচারী শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক, বিভিন্ন সরকারি- বেসরকারি গ্রন্থাগারের প্রতিনিধি এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান শেষে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার ও সনদ তুলে দেয়া হয়।