বাংলাদেশের জামায়াতে ইসলামির কোন কর্মী নাই, আছে শুধু বাণিজ্যিক সদস্য। তারা জনগণের জন্য রাজনীতি করে না। তারা নিজেদের প্রতিষ্ঠান বাঁচাতে রাজনীতি করে। জামায়াতের আমির ডক্টর শফিকুর রহমান অনেকবার বাজে কথা ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেছেন। তিনি এবার নারীদের যে কথা বলেছেন তা মুখে প্রকাশ করার নয়।
তার স্ত্রীও একজন কর্মজীবী নারী, তিনিও একজন ডাক্তার। তাহলে এধরনের কথা তার মুখ দিয়ে কিভাবে বের হয়। সোমবার পবা উপজেলার দর্শন পাড়া ইউনিয়নে নির্বাচনী সংযোগ করার সময় সাংবাদিকদের সাথে কথা বলার সময় বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির ত্রাণ ও পুনর্বাসন বিষয়ক সহ-সম্পাদক, রাজশাহী মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও পবা -মোহনপুর আসনের বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী অ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলন এসব কথা বলেন। তিনি সকাল থেকে রাত পর্যন্ত অত্র ইউনিয়নের প্রতিটা ওয়ার্ডে যান এবং ভোটারদের সাথে কথা বলেন। সেই সাথে ধানের শীষে ভোট দিয়ে তারেক রহমানকে প্রধানমন্ত্রী করার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি আরো বলেন, জামাত সম্পূর্ণভাবে নারী বিদ্বেষী একটি দল। ২০২৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই দলে কোন প্রকার নারী প্রার্থী নাই। কারণ তারা নারীদেরকে সর্বদা গৃহবন্দী করে রাখতে চায় এবং নারীদেরকে পণ্য মনে করে। এই দল কখনো ক্ষমতায় আসলে আফগানিস্তানে নারীদের যে অবস্থা সে অবস্থার সৃষ্টি করবে বলে উল্লেখ করেন তিনি। এজন্য দলমত নির্বিশেষে দেশ বিরোধী দলকে ভোট প্রদান না করার আহ্বান জানান তিনি। সেই সাথে ডাক্তার শফিকুর রহমানের নারী বিদ্বেষী বক্তব্যের তীব্র নিন্দা এবং প্রতিবাদ জানান তিনি।
মিলন বলেন, নারী-পুরুষ সকলের সমান অধিকার রয়েছে। যার যার ধর্ম অনুযায়ী সে সে কাজ করবে। নারীরা বাড়ির বাইরে আসলে খারাপ হয়ে যায় এই ভ্রান্ত ধারণা বিএনপি কখনো করে না। কারণ বিএনপি চেয়ারপারসন ছিলেন একজন নারী। এজন্য নারীর অধিকার এবং নারীর ক্ষমতায়নে বিএনপি প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। যে দেশে প্রায় অর্ধেক নারী সে দেশে নারীকে বাদ দিয়ে উন্নয়ন করা সম্ভব নয় বলে উল্লেখ করেন তিনি। বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান নারীদের উন্নয়ন এবং ক্ষমতায় তাদের হাতে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দিবেন বলে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
তিনি আরো বলেন, পবা মোহনপুর এলাকায় রাস্তাঘাট এর কোন উন্নয়ন হয়নি । বিএনপি শাসনামলে যেসব রাস্তাঘাট হয়েছে সেগুলোই রয়ে গেছে। এ রাস্তাঘাট গুলো সংস্কারের নামে হাজার হাজার কোটি টাকা লোপাট করেছে বিগত পতিত সরকারের দোসরা। তারা কাজ না করেই বিল তুলে নিয়েছে। আর যে সকল এলাকা বিএনপি অধ্যুষিত সে সব এলাকায় কোন প্রকার কাজ তারা করেনি। তিনি বলেন, বিএনপি সরকার গঠন করলে প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন, কৃষকের মধ্যে কৃষি কার্ড বিতরণ করা হবে। সেই সাথে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ সুদ সহ পরিশোধ করা হবে। শুধু তাই নয় বেকারদের কর্মসংস্থানের জন্য বিভিন্ন ধরনের প্রশিক্ষণ প্রদান করে উদ্যোক্তা তৈরি করা হবে হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
মিলন বলেন, পবা মোহনপুরের শিক্ষার উন্নয়নে গুরুত্ব দেয়া হবে। সেই সাথে কর্মমুখী শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং খেলাধুলাকে বাধ্যতামূলক করা হবে। এছাড়াও বিএনপির চেয়ারম্যান ঘোষিত ৩১ দফার মাধ্যমে দেশের সার্বিক উন্নয়ন করা হবে। তিনি বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন একজন মহীয়সী নারী। তার মৃত্যুতে বিশ্ববাসী স্তম্ভিত ও শোকায়িত। তার জানাযায় কত লোক হয়েছিল এখনো কেউ গণনা করে বের করতে পারেনি। এই মহীয়সী নারীর ত্যাগ এবং দেশের জনগণের প্রতি ভালোবাসার কথা বিবেচনা করে আসছে ১২ তারিখে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দিয়ে দেশের উন্নয়নে অংশীদারিত্ব হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। এ সম্পর্কে তিন আরো বলেন, ধানের শীষ শুধু বিএনপি নয়, এটা দেশের সকল জনগণের প্রতীক।
এদিকে দর্শন পড়া ইউনিয়নের সকল স্তরে জনগণ বলেন, এই ইউনিয়নের ৯০ ভাগ মানুষ বিএনপির পক্ষের। তারা কারো কথায় কান না দিয়ে ধানের শীষে ভোট প্রদান করবেন বলে প্রতিশ্রুতি দেন। সেই সাথে তাদের কিছু দাবি-দাওয়া তুলে ধরেন। নির্বাচিত হলে প্রার্থী সেগুলো অবশ্যই পূরণ করবেন বলে সবাইকে আশ্বস্ত করেন।
গণসংযোগে উপস্থিত ছিলেন দর্শন পাড়া ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক ও পবা উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক আব্দুস সালাম মাস্টার, রাজশাহী মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান রিটন, দর্শন পাড়া ইউনিয়ন পরিষদ এর সাবেক চেয়ারম্যান বিএনপির নেতা রমজান আলী, জেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি মোজাদ্দেদ জামানি সুমন, মহানগর যুবদলের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক শরিফুল ইসলাম জনি, পবা উপজেলা যুবদলের সাবেক সদস্য মাজদার রহমান, মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি আকবর আলী জ্যাকি ও পবা উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব হাফিজুর রহমান হাফিজ সহ বিএনপি অঙ্গ ও সহযোগী গঠনের অন্যান্য নেতা কর্মের বৃন্দ এবং সাধারণ জনগণ ও বিএনপির সমর্থকগণ।