অত্যন্ত বিপজ্জনক কীটনাশক বিক্রি ও ব্যবহার বন্ধ, কৃষক-ভোক্তার স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং পরিবেশ-জীববৈচিত্র্য রক্ষার দাবিতে মানববন্ধন করেছে উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান বারসিক, গ্রিন কোয়ালিশন ও বরেন্দ্র যুব সংগঠন। বুধবার বেলা সাড়ে ১০টায় নগরীর জিরোপয়েন্টে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে বিভিন্ন এলাকার কৃষকরাও সংহতি প্রকাশ করে অংশ নেন।
মানববন্ধন চলাকালে প্রাকৃতিক উপায়ে বীজ ও জৈব পদার্থ তৈরির উপকরণ ও পদ্ধতি সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে ছোট পরিসরের প্রদর্শনী আয়োজন করা হয়। এতে প্রায় ১৫টি মাটির হাড়িতে কীটনাশক তৈরির পদ্ধতি এবং সাতটি সরায় খৈল, গুঁড়া, জৈব সার, ডিম ও নিমপাতাসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক উপাদান প্রদর্শন করা হয়। পাশাপাশি তিনটি কুলা, একটি খাঁচা ও একটি শপে বিভিন্ন শাকসবজি সাজিয়ে বিষমুক্ত কৃষি উৎপাদনের প্রতি সবাইকে উদ্বুদ্ধ করা হয়।
বক্তারা জানান, আমরা চাই বরেন্দ্র অঞ্চলের সকল জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত হোক। জল ও মাটি সুরক্ষিত থাকুক এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্ম নিরাপদ খাদ্য পাক। তারা আরও দাবি করেন, দ্রুত বিপজ্জনক কীটনাশক বিক্রি ও ব্যবহার সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করতে হবে। বাজারে এখনো নিষিদ্ধ কীটনাশক সহজে পাওয়া যায় এ অবস্থায় সরকারকে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে।
রাসায়নিক সার ও বিষাক্ত কীটনাশকের উপর নির্ভরশীল কৃষি শুধু মানুষের স্বাস্থ্যের ক্ষতি করে না, মাটির উর্বরতা কমিয়ে দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য উৎপাদনকেও হুমকির মুখে ফেলে। তাই নিরাপদ, জৈব ও প্রাকৃতিক কৃষি পদ্ধতি ছড়িয়ে দিতে কৃষকদের সরকারি সহায়তা নিশ্চিত এবং সচেতনতা বৃদ্ধি ও নিয়মিত মনিটরিং ব্যবস্থার দাবি জানান তারা।
বরেন্দ্র ইয়ুথ ফোরামের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আতিকুর রহমান আতিকের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে বক্তব্য দেন পরিবেশ ও আইন গবেষক শহিদুল ইসলাম, সবুজ সংহতি পবা উপজেলা আহ্বায়ক রহিমা বেগম, জুলাই-৩৬ পরিষদের আহ্বায়ক মাহমুদ জামাল কাদেরী, বারনই লোকসাহিত্য ও সাংস্কৃতিক পরিষদের সভাপতি রায়হান জুয়েল, আদর্শ কৃষক বিলনেপালপাড়া চাষী ক্লাবের মিজানুর রহমান, আদিবাসী যুব পরিষদ রাজশাহীর সভাপতি উপেন রবিদাস, বরেন্দ্র ইয়ুথ ফোরামের যুব নেতা জুলফিকার আলী হায়দার, পবার বড়গাছি এলাকার কৃষাণী রেনুকা বেগম এবং জাতীয় আদিবাসী পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির সুবাষ চন্দ্র হেমব্রম।