আঞ্চলিক ইতিহাসের অংশ হিসেবে নয় বরং স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলার নিজস্ব সত্ত্বার প্রতীক হিসেবে গৌড়ের অবস্থান।বাংলার সর্বপ্রাচীন জনপদ হিসাবে আমরা বগুড়ার পুন্ড্রনগরীকেই বুঝি, যার স্বাধীনতা মৌর্য সম্রাট অশোকের রাজত্ব কালে খৃষ্টপূর্ব আনুমানিক (২৭৩-২৩২) শতাব্দীতে বিলুপ্ত হয়। অপরদিকে খৃষ্টপূর্ব পাঁচশত বছরপূর্বে প্রখ্যাত সংস্কৃত ভাষাতাত্বিক পাণিনির ‘অষ্টাধ্যায়ী’ গ্রন্থে ‘গৌড়’ শব্দের উল্লেখ থাকলেও ‘বঙ্গ’ শব্দের উল্লেখ ছিলনা। যেখানে তিনি ‘পুরে প্রাচ্যম্’ অর্থাৎ প্রাচ্যের একটি নগর হিসেবে ‘গৌড়পুর’-এর উল্লেখ করেন। অর্থাৎ ‘গৌড়পুর’ ছিল বাংলার প্রাচীনতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক কেন্দ্র বা নগর যা পরবর্তীতে ‘গৌড়’ নামে পরিচিতি পায়। এইজন্য ঐতিহাসিকগন ‘গৌড়’ জনপদের উৎপত্তি খৃষ্টপূর্ব এক হাজার বছরেরও পূর্বে বলে মত প্রকাশ করেন। প্রাগৈতিহাসিক কালে মানুষ দলবদ্ধ ভাবে বসবাস করতে শিখে এবং পরবর্তীতে তা জনপদ হিসাবে গড়ে উঠে। প্রাচীনকালে বাংলার এই জনপদগুলি বিভিন্ন নামে -পুন্ডু, বঙ্গ, সমতট, গৌড়, হরিকেল, বরেন্দ্র এরকম প্রায় ১৬টি অংশে বিভক্ত ছিল। রাজ্যশক্তির হ্রাস-বৃদ্ধি ও নদ-নদীর গতি প্রকৃতি পরিবর্তনের ফলে এসব জনপদের সীমানা বার বার পরিবতর্তিত হয়েছে। কালের আবর্তে বহু ভাঙ্গা-গড়া ও উথান-পতনের এক নিরব ইতিহাস প্রাচীন বাংলার রাজধানী আমাদের এই ‘গৌড়’ নগরী। বাংলার ইতিহাসকে জানতে হলে আমাদের অবশ্যই গৌড়ের ইতিহাস জানা প্রয়োজন। সঠিক তথ্য প্রমানিদি ও সুষ্ঠ প্রত্নতাত্তিক জরিপ ও পর্যাপ্ত সংরক্ষনের অভাবে বর্তমানে বাংলার বিভিন্ন অংশে অবস্থিত প্রাচীন জনপদগুলোর সীমানা সঠিকভাবে নির্ণয় করা প্রায় অসম্ভব। তবে বিভিন্ন ভাষাবিদ, দেশী-বিদেশী পরিব্রাজকদের বাংলার ভ্রমণ গ্রন্থ এবং বিভিন্ন সময়ে প্রাপ্ত শিলালিপি সমূহ পর্যালোচনা করলে গৌড় সম্বন্ধে যে ধারনা পাওয়া যায় তা নিম্নে উল্লেখ করা হলোঃ
প্রাচীন ও মধ্যযুগে রাজ্যটির দক্ষিন-পুর্বাংশটির ধ্বংসাবশেষ বর্তমানের মালদহ ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার সীমান্তবর্তী অঞ্চলে অবস্থিত। রাজ্যটি শুধু বাংলার রাজনৈতিক শক্তিরই প্রতীক নয় বরং ইহা ধর্মীয়, সংস্কৃতিক ও সাহিত্যের দিক থেকে সভ্যতার এক কেন্দ্রবিন্দু। প্রাচীন বাংলার এই অঞ্চলের মানুষেরা নিজেদের মধ্যে যে ভাষায় কথা বলত তাহাই ‘গৌড়ীয়প্রাকৃত’। ইহা বাংলা ভাষার প্রাচীনতম রূপ, যা বিবর্তনের মাধ্যমে ‘গৌড়ীয় অপভ্রংশ’থেকে পরবর্তীতে আধুনিক ‘বাংলা ভাষা’র উৎপত্তি বলে ভাষাবিদ ডঃ মুহাম্মাদ শহীদুল্লাহ মত প্রকাশ করেন। আধুনিক বাংলা ‘লিপি’, ‘গৌড়ীয় লিপি’ থেকে উৎপত্তি বাংলা ভাষাবিদগন মত প্রকাশ করেন। খৃষ্টীয় চতুর্থ শতাব্দীতে রাজা ধর্ম্মাদিত্য, গোপচন্দ্র ও সমাচারদেব প্রমুখ স্বাধীন-সার্বভৌম গৌড়ের রাজা ছিলেন। সপ্তম শতাব্দীতে রাজা শশাঙ্ক বাংলার অন্যান্য ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র রাজ্য বা জনপদগুলিকে একত্র করে একটি সুবিশাল গৌড় সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন। তিনিই সর্বপ্রথম বাংলা বর্ষপঞ্জি ‘শকাব্দ’র প্রবর্তনকারী, যার প্রথম মাস ছিল চৈত্র মাস। যদিও ১৫৫৬ খ্রিষ্টাব্দে মুঘল সম্রাট আকবর ‘শকাব্দে’ থাকা বাংলা মাসের নামের সাথে মিল রেখে নতুন ‘বঙ্গাব্দ’বা বাংলা বর্ষপঞ্জি চালু করেন, যার প্রথম মাস বৈশাখ।
রাজা শশাঙ্কের মৃত্যুরপর প্রায় একশত বছর সারা বাংলায় তথা গৌড় সাম্রাজ্যে অভ্যন্তরীন গোলযোগ ও বিদেশীদের আক্রমন চলে। এই সময় বাংলায় অরাজকতা ও বিশৃঙ্খলার ফলে কোন স্থায়ী শাসন ব্যবস্থা গড়ে উঠেনি। কবি সন্ধ্যাকর নন্দী সর্বপ্রথম বাংলার এই অবস্থাকে ‘মাৎস্যন্যায়ের’ সঙ্গে তুলনা করেন। যা রাষ্ট্রবিজ্ঞানে ব্যবহৃত একটি সংস্কৃত প্রতিশব্দ,অর্থ হচ্ছে-আইনের বিবর্জিত রাষ্ট্র। এই অরাজকতার মধ্যেই পাল বংশের (৭৫০-১১৫০ খৃঃ) রাজা গোপাল গৌড়ের সিংহাসনে বসেন এবং রাজনৈতিক অস্থিরতা দূর করে রাজ্যে শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনেন। এসময়ে নওগাঁ জেলার পাহাড়পুর গ্রামে ‘সোমপুর মহাবিহার’ এবং ভারতবর্ষে সর্বপ্রাচীন ‘নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়’ প্রতিষ্ঠিত হয়। যদিও পালরা বৌদ্ধধর্মের অনুসারী ছিলেন, তবুও তারা অন্যান্য ধর্মীয় সম্প্রদায়ের প্রতি যথেষ্ট উদার ছিলেন। তাদের শাসনামলে বাংলার সাথে তিব্বতি সাম্রাজ্জ্যের ধর্মীয় ও আরবদের আব্বাসীয় খিলাফতের সঙ্গে বাণিজ্যিক সুসম্পর্ক গড়ে উঠেছিল।
একাদশ শতাব্দীর দ্বিতীয়ার্ধে বাংলায় আবারও রাজনৈতিক অরাজকতা ও অর্থনৈতিক বিশৃঙ্খলার যখন চরমে উঠে তখন সেন রাজবংশের(১০৭০-১২০৪) অভ্যুত্থান ঘটে। সেন রাজাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হচ্ছে তারা পুনরায় বাংলায় রাজনৈতিক, ধর্মীয় এবং সামাজিক সুশাসন প্রতিষ্ঠা করেন। সেন রাজা বল্লাল সেন, মদন পালের নিকট হতে গৌড় রাজ্যের উত্তরাংশ অধিকার এবং অতি সুরক্ষিত ‘গৌড় দূর্গ’ নির্মাণ করেন। তার আমলেই সোনামসজিদ স্থলবন্দরের নিকটে বালিয়াদিঘীটি খনন করা হয়। পাল এবং সেন রাজবংশের অনেক রাজাগৌড় রাজত্ব কালে নিজেদের “গৌড়েশ্বর” তথা “গৌড়ের অধিপতি” হিসাবে ভুষিত করতেন। বল্লাল সেনের পুত্র লক্ষণসেন ১১৭৮ খৃষ্টাব্দে গৌড়ের সিংহাসনে বসেন এবং গৌড় নগরীকে সুসজ্জিত করে গড়ে তুলেন। তার শাসন কালে ১২০৪ খৃষ্টাব্দে দিল্লী সালতানাতের মুসলিম সেনাপতি তুর্কি বংশোদ্ভুত ইখতিয়ার উদ্দীন মুহাম্মদ বিন-বখতিয়ার খলজি অতি সহজে গৌড় অধিকার করেন। মুলত এটি ছিলবাংলার মধ্য যুগের শাসন ব্যবস্থা, যা মুসলিম শাসকদের সর্বপ্রথমপূর্ব প্রান্ত বিজয়। এই সময়ে বাংলার অনেক শাসকই দিল্লী দূরবর্তী স্থানে হওয়ায় সুযোগ পেলেই দিল্লীর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে স্বাধীন করার চেষ্টা করেন, এজন্য সেকালে বাংলাকে বুলঘাকপুর বা বিদ্রোহের নগরীও বলা হত। দিল্লীর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে নিজেদের ১০০ বছরের তুর্কী শাসনকালে গৌড়ে শান্তি ফিরে আসেনি, যা ছিল দিল্লীরবংলা রাজত্ব অধিকার লাভের লড়াই। দিল্লির সুলতান গিয়াসউদ্দিন তুঘলক ১৩২৫ সালে পুরো বাংলা প্রদেশকে পুনঃগঠিত করে তিনটি প্রশাসনিক অঞ্চলে ভাগ করেন – সোনারগাঁও (পূর্ব বাংলা), গৌড় (উত্তর বাংলা) এবং সাতগাঁও (দক্ষিণ বাংলা)।
দিল্লীর নিয়ন্ত্রণ মুক্ত শাহীবংশ(১৩৩৮-১৫২৮ খ্রি:) প্রায় দুইশত বছরগৌড়েস্বাধীন সালতানাত প্রতিষ্ঠা করেন। এই শাহীবংশের শাসনকালে, বাংলার সকল অঞ্চলের অধিবাসী ‘বাঙালি’ হিসাবে পরিচিত হয়, এ কারণেই ইলিয়াস শাহকে ‘বাঙালি জাতীয়তাবাদে’র প্রবক্তা বলা হয়। এরই মাঝে মাত্র কয়েকটি বছর হিন্দু রাজা গণেশের শাসনকালে তার পুত্রকে ‘স্বর্ণগৌধ’ প্রথা অর্থাৎ সোনার গরুর প্রতিমার মুখের দিক দিয়ে প্রবেশ করিয়ে পশ্চাদ্দিক দিয়ে টেনে বের করে, আবার হিন্দু ধর্মে ধর্মান্তরিত করেন। রাজা গণেশের মৃত্যু হলে পুত্র জালাল উদ্দিন পুনরায় মুসলিম হিসাবে গৌড়ের সিংহাসনে বসেন এবং তার পিতা কর্তৃক ধ্বংসপ্রাপ্ত মসজিদ ও অন্যান্য ধর্মীয় স্থাপনা সমূহ পুনঃনির্মাণ ও সংস্কার করেন। পরবর্তীতে সুলতান ইলিয়াস শাহের মৃত্যুর পর পুত্র সিকান্দার শাহ গৌড়ের সিংহাসনে বসেন, যাকে বাংলার মহাবীর ‘আলেক্সান্ডারের’ সাথে তুলনা করা হয়। এই সময়কালে গৌড়ে নির্মিত হয় ‘দারাস বাড়ি’ মসজিদ, যার বিশেষত্ব ছিল বাংলায় প্রথম মহিলাদের নামাজ আদায়ে পৃথক ব্যবস্থা এবং ‘দারাস বাড়ি’ মাদ্রাসা, যা বাংলাদেশের প্রাচীনতম ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়। এই সমস্ত স্থাপনার ধ্বংসাবশেষ সমূহ কালের স্বাক্ষী হয়ে আজও গৌড় নগরীতে বিদ্যমান। এইসময়ে নতুন নতুন ইমারত, রাস্তাঘাট, মসজিদ ও সরাইখানা নির্মিত হয়। ফলে গৌড় বিশ্বের অন্যতম নগরায়িত শহর হিসাবে পরিচিতি লাভ করে।
সুরি সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা শের শাহ, স্বাধীন সুলতান গিয়াস উদ্দিন মাহমুদ শাহকে পরাজিত করে গৌড়কে পুনরায় দিল্লীর অধীনে আনেন। তার স্বল্পকালীন রাজত্ব কালে তিনি নাগরিক ও সামরিক প্রশাসনের এক নতুন ধারার সূচনা করেন। তিনি বাংলায় ‘রুপিয়া’ মুদ্রার প্রচলন, ‘গ্রান্ড ট্রাঙ্ক’ রোড এবং গৌড়ে ‘ছোট সোনামাসজিদ’ নির্মাণ করেন। মুঘল সম্রাট হুমায়ুন ১৫৩৮ সালের মাঝামাঝি সময়ে শের শাহকে বিতাড়িত করে গৌড় দখল করেন। সম্রাট গৌড়ে তার অবকাশ যাপন কালীন সময়ে এর নগরায়ন, সুন্দর সুন্দর প্রাসাদ ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে নাম পরিবর্তন করে ‘জান্নাতাবাদ’ রাখেন, যার অর্থ ‘স্বর্গীয় শহর’। ঐতিহাসিকদের মতে, সে কালের গৌড় নগরীকে তুলনা করার মতো সমগ্র ভারতবর্ষে অন্য কোন নগরী ছিলনা। সে আমলে পৃথিবীরমোট উৎপাদনের (জিডিপির) ১২ শতাংশ উৎপন্ন হত মুঘল বাংলা যাকে “প্যারাডাইস অফ নেশনস”বলা হত। মুঘল সম্রাজ্যের সময়ে গৌড়ে কোন স্বাধীন সুলতান না থাকায় এবং বার বার মুঘল-আফগান সেনাদের আক্রমন ও লুণ্ঠনের ফলে বাংলার উত্তরাংশ বিধ্বস্ত হয়ে পড়ে। অবশেষে ১৫৭৫ সালে মুঘল সম্রাট আকবরের সেনাপতি কুলি খান রাজমহল যুদ্ধে, বাংলার শেষ আফগান শাসক দাউদ খানকে পরাজিত করে আফগান শাসনের অবসান ঘটান। ১৫৭৬ খ্রিষ্টাব্দে মুঘল সেনাপতি মুনিম খান রাজধানী পুনরায় গৌড়ে স্থান্তরিত করেন। গঙ্গার গতিপথ পরিবর্তনে নগরীতে জলাবদ্ধতা দেখা দেয় এবং সে বছরেই মহামারি আকারে প্লেগ রোগ মারাত্মকভাবে ছড়িয়ে পড়লে সেনাপতি মুনিম খান প্লেগে আক্রান্ত হয়ে গৌড়ে মারা যান। রাজধানী পুনরায় রাজমহলে স্থান্তরিত করা হয় এবং মহামারিতে হাজার হাজার লোকের মৃত্যু ফলে নগরীর গুরুত্ব ম্লান হতে থাকে।
বাংলার সুবেদার শাহ্ সুজা ১৬৬০ খৃষ্টাব্দে প্রখ্যাত ইসলাম প্রচারক, দরবেশ শাহ্ নিয়ামত উল্লাহ (রাঃ) স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য গৌড়ে ‘তোহাখানা কমপ্লেক্স’ নির্মাণ করেন। এটিই গৌড়ে মুঘল আমলের শেষ স্থাপনা, যা এখনও মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে। ক্রমাগত রাজধানী স্থানান্তর, রাজনৈতিক অস্থিরতা, বৈদেশিক আক্রমণ, নদীভাঙন ও সর্বশেষ মহামারি আকারে প্লেগ রোগ গৌড়ের পতনের মুল কারন। ১৮৮৫ সালের ভূমিকম্প এবং পরবর্তীতে স্থানীয় ও ব্রিটিশদের দ্বারা গৌড়ের ধ্বংসাবশেষ থেকে মূল্যবান জিনিষপত্র লুঠ করে নিয়ে যাওয়া হয়। গৌড়ের ধ্বংসাবশেষ ইট ও পাথর ব্যবহার করে গড়ে ওঠে হুগলি, মুর্শিদাবাদ, মালদহ শহরের বহু স্থাপনা।‘গৌড়ীয় ইট’ বলতে প্রাচীনকালে গৌড় নগরীর নির্মাণ কাজে ব্যবহৃত বিশেষ ধরনের ইট। কাদা বা মাটি ব্যবহার এবং পুড়িয়ে শক্ত করে ছোট সাইজের ‘গৌড়ীয় ইট’ তৈরি করা হত। ইহা কেবল নির্মাণ সামগ্রীই ছিল না, ঐতিহাসিক নির্মাণশৈলীর একটি প্রতীক, যা সেই সময়ের প্রকৌশল ও সংস্কৃতির পরিচয় বহন করে। তবুও আজকের অবশিষ্ট ধ্বংসাবশেষই ছিল বাংলার গৌরব, ঐশ্বর্য ও সভ্যতার প্রতীক। গৌড় নগরীর প্রতিটি ভগ্ন স্তম্ভ ও খোদিত প্রস্তর যেন আমাদের শুধু স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে,সময় সবকিছু গ্রাস করলেও ইতিহাস কখনও পুরোপুরি মুছে ফেলা যায় না। তাই আজ সেই গৌড়ের প্রাচীন ধ্বংসাবশেষ, অরণ্যে ঢেকে থাকা প্রাচীন ইট-পাথরের নিদর্শন যেন এক হারানো সভ্যতার শুধু সাক্ষ্যই বহন করছে। রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা পেলে আবারও নতুন জীবন পেতে পারে চাঁপাইনবাবগঞ্জের মাটিতে হারিয়ে যাওয়া কয়েক হাজার বছরের বাংলার প্রাচীন এই গৌড় নগরীর সভ্যতা।
লেখক: মো: নাইমুল হক, শিবগঞ্জ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ