রাজশাহী মহানগরীর সকল শ্রেণী-পেশার মানুষের নাগরিক অধিকার বাস্তবায়নের লক্ষ্যে গঠিত রাজশাহী স্বার্থ সংরক্ষণ কমিটি শনিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে রাজশাহী মহানগরীর অলকার মোড়ে একটি চাইনিজ রেস্টুরেন্টে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে। সংবাদ সম্মেলনে মাধ্যমে তাদের ৩৮ দফা দাবি উপস্থাপন করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী স্বার্থ সংরক্ষণ কমিটির আহ্বায়ক এনামুল হক, সদস্য সচিব মাহফুজুল হাসনাইন হিকোল, রাজশাহী বার সমিতির সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট জমশেদ আলী, রাজশাহী চেম্বার অফ কমার্স এন্ড ইন্ডাট্রিজ এর সহ-সভাপতি সুলতান মাহমুদ সুমন, রাজশাহী প্রেস ক্লাবের সভাপতি নজরুল ইসলাম জুলু, জাতীয় মহিলা পরিষদ রাজশাহী সাধারণ সম্পাদক,কল্পনা রায়, রাসিক ১৬নং ওয়ার্ড সাবেক কাউন্সিলর বেলাল হোসেনসহ অত্র কমিটির অন্যান্য সদস্যরা।
লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন রাজশাহী স্বার্থ সংরক্ষণ কমিটির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সচিব মাহফুজুল হাসনাইন হিকোল। তিনি মোট ৩৮টি দাবী তুলে ধরেন। দাবী গুলো হলো, গণশুনানী ব্যাতিরেকে রাজশাহীতে হোল্ডিং ট্যাক্স বৃদ্ধি করা হয়েছে, সেই হোল্ডিং ট্যাক্স কমানো, ব্যবসায়ীদের ট্রেড লাইসেন্স ফি কমানো, অটো ও অটোরিক্সার নিবনন্ধন ফি কমানো, অটো ও অটোরিক্সা চালকদের ট্রাফিক আইন বিষয়ে ট্রেনিং এর ব্যবস্থাা করা, রাজশাহী মহানগরীর গুরুত্বপূর্ন স্থানে অটো সিগন্যাল ব্যবস্থা চালু, পথচারীদের চলাচল নির্বিঘ্নে ও যানজট নিরসনে ফুটপাত ও রাস্তার উপর হকার ও ব্যবসায়ীদের পুণর্বাসন সাপেক্ষে তুলে দেয়া, স্কুল ও কলেজগামী ছাত্রীদের রাস্তায় চলাচল ও বখাটে ছেলেদের ইভটিজিং এর কবল থেকে রক্ষা করা, রেলগেট, ভদ্রা ও তালাইমারী এবং কোর্ট সহ সকল জনবহুল এলাকায় যাত্রী ছাউনি, বসার ব্যবস্থা, সুপেয়পানী এবং গণসৌচাগার স্থাপন করা, সকল স্কুল এবং কলেজগুলোতে সৌচাগার সহ সকল সংস্কার করা।
এছাড়াও কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের ৫২ হাজার কোটি টাকা খেলাপী ঋণ আদায়ের মধ্যে দিয়ে প্রকৃত কৃষকদের মাঝে ঋণ বিতরণ করা, রাজশাহীতে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন, অবিলম্বে রাজশাহী মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন এবং রুয়েট এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির (Artificial Intelligence Technology) সাবজেক্ট চালু করা, রাজশাহীতে স্থাপিত আইটি ভিলেজকে পূর্ণাঙ্গরুপ দিতে পর্যাপ্ত ফান্ড বরাদ্দ করা, রাজশাহীতে আমসহ কৃষিভিত্তিক শিল্প প্রতিষ্ঠার জন্য আমলাতান্ত্রিক জটিলতা দূর করা, বন্ধ রেশম শিল্প কারখানাকে পুনরায় চালু করা, বন্ধ পাটকল পূর্ণ উদ্দ্যেগে চালু করা, কৃষকদের সমবায় ভিত্তিতে সংগঠিত করে কৃষকদের জন্য কৃষি বাজার প্রতিষ্ঠা করে উৎপাদিত কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা।
তিনি আরো উল্লেখ করেন বৈদেশিক চাকুরীতে আঞ্চলিক বৈষম্যদূর করে রাজশাহী তথা উত্তরাঞ্চলের বেকার যুবকদের চাকুরীর ব্যবস্থা করা, নির্বাচিত যুবকদের বৈদেশিক চাকুরীর জন্য ব্যাংক ঋণ প্রদান করা, রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন, আর.ডি.এ, বরেন্দ্র, পানি উন্নয়ণ বোর্ড সহ ডিপার্টমেন্টের গত ১৫ বছরের উন্নয়ণ কাজের হিসাব দিতে হবে, বিসিক-২ তে বরাদ্দ স্বচ্ছতার ভিত্তিতে পুনঃবন্টন করা, অবিলমে চিকিৎসা নীতি প্রণয়ন করে চিকিৎসা ক্ষেত্রে বাণিজ্যিকরণ বন্ধ করা, রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল সহ সকল সরকারী হাসপাতালে চিকিৎসাকে সহজলভ্য ও জীবন রক্ষাকারী পর্যাপ্ত ঔষধ সরবরাহ করা, অবিলমে পূর্ণাঙ্গ শিশু হাসপাতাল চালু করা, বেসরকারী উদ্দ্যেগে রাজশাহীতে প্রতিষ্ঠিত হার্ট ফাউন্ডেশন ও ডায়াবেটিক হাসপাতালে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ দিতে হবে, যাত্রীদের যাত্রাপথে নিরাপদ করতে বনপাড়া থেকে সোনামসজিদ পর্যন্ত রাস্তাটিকে চারলেনে উন্নীত করা, রেল যাত্রীদের হয়রানি বন্ধের জন্য ডুয়েল রেল লাইন স্থাপন করা।
তিনি উল্লেখ করেন ব্রডগেজ রেল লাইনের মধ্য দিয়ে মিটার গেজ রেল লাইন স্থাপন করা, রেল যাত্রীদের যাতায়াতের সুবিধার জন্য রাজশাহী থেকে সান্তাহার রেল জংশন পর্যন্ত সরাসরি ব্রডগেজ এবং মিটার গেজের মাধ্যমে সংযোগ দিতে হবে, রাজশাহীতে টেলিভিশন রিলে সেন্টারটিকে পূর্ণাঙ্গ টেলিভিশন ষ্টেশনে রুপান্তরিত করা, রাজশাহীর শিল্পকলা একাডেমিকে বহুমুখী সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে পর্যাপ্ত লোকবল নিয়োগ করা, রাজশাহীতে খেলাধুলার মানোনয়নের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক মাঠের ব্যবস্থা করা, রাজশাহীতে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলার জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণ করা, জেলা ও তিনি বলেন, বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার গত ১৫ বছরের খরচের হিসাব প্রদান করা, স্বার্থান্বেষী মহলের প্রভাব ও ঘুষ-দূর্নীতিমুক্ত হয়ে সুষ্ঠুভাবে ভূমি জরিপ কাজ (বি.ডি.এস) সুসম্পন্ন করা।
ঘুষ-দূর্নীতি বন্ধ করা হবে, রাজশাহী মহানগরসহ সমগ্র জেলায় তালিকাভুক্ত পুকুরসমূহ সংরক্ষণ করা, মরণ বাঁধ ফারাক্কার প্রভাবে শুকিয়ে যাওয়া নদী-নালা, খাল-বিল, পুকুর, পুস্করিনি পুনঃখনন করা, মরুকরণ রুখতে ব্যাপক বৃক্ষ রোপন করা ও রাজশাহী অঞ্চলের সকল ঐতিহাসিক স্থাপনাসমূহ সংস্কার ও সংরক্ষণ করতে হবে। তিনি বলেন, এই দাবিগুলো বাস্তবায়িত হলে রাজশাহীর নাগরিক জীবনের মান উন্নয়ন ঘটবে এবং সামাজিক-অর্থনৈতিক অগ্রগতি ত্বরান্বিত হবে। সেইসাথে দাবি বাস্তবায়নের জন্য প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও সাধারণ মানুষের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি। সেইসাথে তারা সাংবাদিকদের নানা প্রশ্নের জবাব দেন।