প্রতিপক্ষের অনুশীলনের সময় ড্রোন উড়িয়ে গুপ্তচরবৃত্তির দায়ে কানাডার নারী অলিম্পিক ফুটবল দলের ৬ পয়েন্ট কেটে নিয়েছিল ফিফা। এরপর টানা দুই ম্যাচে জিতেছে কানাডিয়ান মেয়েরা।
কিন্তু দুই জয়ে পাওয়া ৬ পয়েন্ট তাদের নামের পাশে যোগ হয়নি।
এবারের অলিম্পিকে নিজেদের প্রথম ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ২-১ ব্যবধানে জয় তুলে নিয়েছিল কানাডা। কিন্তু শাস্তির কারণে তাদের ৩ পয়েন্ট কাটা হয়। এরপর গতকাল সেঁত এতিয়েনে ফ্রান্সকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে আরও ৩ পয়েন্ট ‘শোধ’ করেছে তারা। অর্থাৎ দুই জয়ের পরে তাদের পয়েন্ট এখন শূন্য!
গতকাল নির্ধারিত সময়ের খেলা ১-১ সমতায় শেষ হওয়ার পর যোগ করা সময়ে ভ্যানেসা জাইলসের গোলে জয় পায় কানাডা। কিন্তু এমন জয়ের পরেও অঝোরে কাঁদতে দেখা যায় দলটির খেলোয়াড়দের।
জয়সূচক গোল করা জাইলস তো কাঁদতে কাঁদতে বলেই ফেলেন, ‘আমরা এর (ড্রোনে গুপ্তচরবৃত্তি) অংশ ছিলাম না। কিন্তু এমন শাস্তি দেওয়া হয়েছে, মনে হচ্ছে আমরা যেন ডোপিংয়ে ধরা পড়েছি। আমরা কিছুই করিনি। নিজেদের উজাড় করে খেলার জন্য মাঠে নেমেছি। এত কষ্ট করার পর এমনকিছুর (পয়েন্ট কর্তন) জন্য প্রচণ্ড হতাশা আর রাগ হচ্ছে। ‘
ড্রোন পাঠানোর ওই ঘটনায় শুধু পয়েন্ট কাটাই নয়, দলটির কোচ বেভ প্রিয়েস্টমানকে এক বছরের জন্য নিষিদ্ধ করেছে কানাডার ফুটবল ফেডারেশন। এছাড়া দেশে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে সহকারী কোচ জেসমিন মান্ডারকে, আর আটক করা হয়েছে দলের অ্যানালিস্ট জোসেফ লমবার্ডিকে। পরে আনুষ্ঠানিকভাবে দুঃখপ্রকাশ করেছে কানাডার ফুটবল কর্তৃপক্ষ।
দুই ম্যাচ জিতেও শূন্য পয়েন্ট পাওয়া কানাডার সামনে অবশ্য পরের ধাপে যাওয়ার সুযোগ আছে। ১২ দল খেলছে তিনটি গ্রুপে ভাগ হয়ে। প্রতি গ্রুপের সেরা দুটি দলের পাশাপাশি তৃতীয়দের মধ্যে সেরা দুটি দলও খেলবে কোয়ার্টার ফাইনালে। সম্ভাবনা টিকিয়ে রাখতে কানাডাকে এখন আগামী বুধবার গ্রুপের শেষ ম্যাচে কলম্বিয়াকে হারাতেই হবে।