ফলের রাজা বলা হয় না আম কে। কিন্তু আম এমনই একটি ফল যে এই ফল খাওয়ার জন্য মানুষ উদগ্রীব হয়ে থাকে। যে এলাকায় আম উৎপাদন হয় সেখানেও জনপ্রিয় এই ফল।আম উৎপাদন ও বিপণনে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম স্থান রহনপুর।
আম ফল এমনই লোভনীয় আর আকর্ষণীয় কথায় আছে তদবির করেও যে কাজ না হয় শুধু আম পেলেই মন গলে যায় ।আর হয়ে যায় কাজ। এরকম অনেক নজীর আছে আমফল দিয়েই বড় বড় কাজ হাতিয়ে নিয়েছে অনেকে।
আর তাইতো দেশের রাজনীতিবিদ, আমলা,ব্যবসায়ী সহ সকল পেশার মানুষের কাছে আমের কদর বেশী। আম সিজন আসলেই চাঁপাইনবাবগন্জের মানুষের কাছে ফোন চলে আসে, ভাই আম খাওয়াবেন না। এভাবেই সবার প্রিয় খাবারে পরিণত হয়েছে আম ফল।
দেশের বিভিন্ন স্হানে বর্তমান সময়ে আম উৎপাদন হলেও দীর্ঘ সময় ধরে চাঁপাইনবাবগন্জ জেলা আম উৎপাদনে শীর্ষ স্হানে রয়েছে। চাঁপাইনবাবগন্জের রহনপুরে নানান পদের বাহারী নামের আম পাওয়া যায়। কৃত্রিমতার এই সময়েও এখনও কেমিক্যাল মুক্ত আম ফল মিলে এই জেলায়।
মূলত: মে মাসের শেষ সপ্তাহ থেকে শুরু হয় আমের বাজারজাত করার প্রক্রিয়া। তবে নিয়মকানুন মেনে পুরোপুরি বাজারে আসে জুন মাসের ১ম থেকে। লক্ষনভোগ, বিভিন্ন জাতের গুঠি, কালিভোগ, গোপালভোগ দিয়ে শুরু হয়ে খিরসাপাত ( হিমসাগর), ল্যাংড়া, ফজলী, আমরুপালী, সুরমা ফজলি, বারী ফোর, কাটিমন, আশ্বিনা সহ নানান জাতের আম ফল বাজারে পাওয়া যায় একেবারে আগষ্টের শেষ অবধি। এর মধ্যে কয়েক জাত যেমন কাটিমন, বারী ১১, বারী ৪ ইত্যাদি আম প্রায় সারা বছর পাওয়া যায়।
তবে আবহাওয়ার বিরুপ প্রতিক্রিয়ায় এইবার আম উৎপাদন কম। ফলে দামও তুলনামূলক ভাবে বেশী। গোপালভোগ শেষের দিকে। এখন বাজারে হিমসাগর, ল্যাংড়া সহ অন্যান্য আম। গোপালভোগ এর দাম গিয়ে ঠেকেছে ৪৫০০ টাকা মন।
শুরুটা ছিল২২০০-২৩০০ দিয়ে। হিমসাগর, ল্যাংড়া মিলছে ২৫০০ থেকে সর্বোচ্চ ৪০০০ টাকা মন। বিভিন্ন জাতের গুঠি পাওয়া যাচ্ছে ১২০০ থেকে ২০০০ এর মধ্যে। কালিভোগ বিক্রয় হচ্ছে ১৫০০ থেকে ২২০০ টাকার মধ্যে। লক্ষ্মণভোগ ১১০০ থেকে শুরু হয়ে ১৬০০ টাকা গিয়ে ঠেকেছে। আমরুপালীআম ২২০০ টাকা থেকে ৩৫০০ টাকা মন বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া আরো বিভিন্ন জাতের আম মোটামুটি দামে পাওয়া যাচ্ছে।
আম আড়তদার আবুল কাশেম বলেন, আম উৎপাদন কম হওয়ায় আমের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। তবুও দেশের বিভিন্ন স্হান থেকে আম ব্যবসায়ী, স্থানীয় ভাষায় যাদের আম বেপারী বলে তারা এসে রহনপুরে আস্তানা গেড়েছেন।প্রতিদিন আম ক্রয় করে পাঠাচ্ছেন নিজ নিজ এলাকায়।আম উৎপাদন কম হলেও দাম বেশি হওয়ায় এবার আম ব্যবসায়ীরা লাভের আশা করছে। আমার এখান থেকে প্রতিদিন দুই থেকে তিনটি ট্রাক দেশের বিভিন্ন স্থানে আম নিয়ে যায়।
খুচরা আম ব্যবসায়ী কমল বলেন, আমের ব্যবসা ভালোই চলছে। যে সকল ক্রেতা ১০ কেজি, ২০ কেজি করে আম বিভিন্নজনকে উপহার দেওয়ার জন্য ক্রয় করেন তাদের জন্য আমরা অর্থাৎ খুচরা ব্যবসায়ীরা রয়েছি। আমরা যত্ন করে আমের ক্রেতাকে আম প্যাকেটজাত করে নির্দিষ্ট স্থানে পৌঁছে দি। আমের সিজন আসলেই এলাকার ছাত্র, যুবক, তরুণেরা ঝুকে পড়ে অনলাইনে আম বেচাকেনায়।
আমের বিভিন্ন দিক নিয়ে কথা হয় গোমস্তাপুর উপজেলা আম চাষী ও আম ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোঃ আবু তালেব এর সাথে।তিনি বলেন, প্রকৃতির বিরুপ আবহাওয়ার ফলে আমের উৎপাদন কম। তবে গত দু-তিন বছর আমের উৎপাদন ভালো হয়েছিল কিন্তু আমের দাম না থাকায় আম চাষি ও আম ব্যবসায়ীরা ঠিকমতো লাভের মুখ দেখতে পায়নি।
কিন্তু এবার আমের দাম ভালো থাকায় আম চাষি ও ব্যবসায়ীরা লাভের আশা করছে। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, আমের শেষ পর্যন্ত আম চাষি ও ব্যবসায়ীরা তাদের কষ্টের ফল বাসায় নিয়ে যেতে পারবে।