Advertisements

রাজশাহীর দুর্গাপুরে বেশি লাভের আশায় অপরিপক্ব লিচু বাজারে নিয়ে আসছেন ব্যবসায়ীরা। চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে এসব লিচু। তবে অপরিপক্ক লিচু কিনে ঠকছেন অধিকাংশ ক্রেতারা।
জানাযায়, উপজেলায় তীব্র তাপপ্রবাহ ও প্রচণ্ড খরায় বেশির ভাগ গাছের লিচু ঝরে পড়ায় ও ফেটে গিয়ে নষ্ট হয়ে গেছে। চলতি মৌসুমে গাছে গাছে লিচুর প্রচুর মুকুল এসেছিল। মুকুল থেকে গুটি ও লিচু হয়ে গেলেও দীর্ঘ খড়ায় প্রচণ্ড তাপপ্রবাহে গাছগুলোর অর্ধেক লিচু নষ্ট হয়ে গেছে। লোকশান কমাতে তড়িঘড়ি করে লিচু বিক্রির উদ্যোগ নিচ্ছেন অনেক বাগান মালিকেরা।
কৃষি অফিসের তথ্য মতে, উপজেলা জুড়ে প্রায় ৭০ হেক্টর জমিতে ৮ হাজার লিচু গাছে এবারে লিচুর আবাদ হয়েছে। আনুমানিক ৬০০ মেট্রিক টন উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হলেও তা অর্জন নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
সরজমিনে উপজেলা বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, অধিকাংশ বাগানে সল্প পরিসরে লিচু ধরে আছে। লিচু অনেকটাই ছোট আকৃতির। লিচু সংরক্ষণ তেমন উদ্যোগ নেই কৃষকদের মাঝে।
উপজেলা আমগ্রামের লিচু চাষী সাহাবুর জানান,
এবার মৌসুমি মুকুল আসার পড় থেকে কোনো বৃষ্টি নেই। লিচু ধরেও বড়ো হচ্ছিল না। তিব্র খরার অধিকাংশ লিচু ফেটে ঝরে গেছে। আবার কোনো দুর্যোগ আসার আগে বাগান থেকে লিচু বিক্রি করে ফেলাই উত্তম মনে করেছি।
লিচু ব্যবসায়ী শুকর আলী জানান, চাহিদা থাকার জন্য একশো লিচু সর্বোচ্চ ৩০০ টাকা দিয়ে বিক্রি করছি । তবে ক্রেতাদের অগ্রিম বলে দিচ্ছি খেতে একটু টক হবে দেশী মাল এটা । আরো কিছুদিন পরে ভালো লিচু পাওয়া যাবে।
এবিষয়ে উপজেলা কৃষি অফিসার কুন্তলা
ঘোষ জানান, আর-কিছু দিন পড়েই লিচু বাজারজাতকরণ করা ভালো হবে। এখন লিচুর পরিপূর্ণ পুষ্টিগুণ পাওয়া যাবেনা। বর্তমানে আবহাওয়া ভালো থাকায় লিচু ভালোভাবেই পরিপক্ব হবে। তাড়াহুড়ো না করে লিচুর গুণগত মান ঠিক রেখে, ভালো দাম পেতে, সঠিক সময়ে সংগ্রহ করতে পরামর্শ দেন তিনি।