• ঢাকা, বাংলাদেশ শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬, ০৪:৪৪ পূর্বাহ্ন
নোটিশ
রাজশাহীতে আমরাই প্রথম পূর্ণঙ্গ ই-পেপারে। ভিজিট করুন epaper.rajshahisongbad.com

শিয়ালের কামড়ে চর আষাড়িয়াদহে রেবিস আতঙ্ক

নিজস্ব প্রতিবেদক
সর্বশেষ: রবিবার, ৩১ আগস্ট, ২০২৫
শিয়ালের কামড়ে চর আষাড়িয়াদহে রেবিস আতঙ্ক
শিয়ালের কামড়ে চর আষাড়িয়াদহে রেবিস আতঙ্ক

Advertisements

গোদাগাড়ী উপজেলার চর আষাড়িয়াদহ ইউনিয়নে জলাতঙ্ক (রেবিস) আতঙ্কে গ্রামজুড়ে উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। পদ্মার চরাঞ্চলে গরু চরাতে গিয়ে শিয়ালের কামড়ে কয়েকটি গবাদিপশু আক্রান্ত হওয়ার পর এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। আক্রান্ত গরুগুলো গ্রামে ফেরত আসায় সংক্রমণের আশঙ্কা আরও বেড়ে গেছে।

স্থানীয়রা জানায়, কামড়ের পর গরুগুলোর আচরণে হঠাৎ অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখা দেয়। কারও চামড়া কালো হয়ে যায়, আবার কেউ একেবারেই নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়ে। ইতোমধ্যে একাধিক গরু অসুস্থ হয়ে পড়েছে এবং কয়েকটি গরু মারা গেছে। ফলে গ্রামজুড়ে রেবিস আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

চর কানাপাড়ার বাসিন্দা সাইফুল ইসলাম বলেন, প্রথমে ভেবেছিলাম সাধারণ অসুখ। মানুষ বলছে এটি রেবিস রোগ আক্রান্ত গরুর মাধ্যমেই আমাদের শরীরে রোগটি ছড়িয়ে যেতে পারে এজন্য ডাক্তারের পরামর্শে এখন ওষুধ খেতে হচ্ছে।
আরেক ভুক্তভোগী আল আমিন বলেন, আমার গরুও অসুস্থ হয়েছিল, তখন গুরুত্ব দিইনি। পরে আমিও অসুস্থ হয়ে পড়ি। সবাই বলছে রেবিস রোগ হয়েছে। সেজন্য ডাক্তারকে দেখিয়েছি। ডাক্তার বলেছে তেমন কিছু হয়নি কিছু ওষুধ দিয়েছে সেগুলো খাচ্ছি।

চর আষাড়িয়াদহ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আশরাফুল ইসলাম ভোলা বলেন, শিয়ালের কামড়ে কয়েকটি গরু আক্রান্ত হয়েছিল। এর মধ্যে দুটি মারা গেছে এবং দুটি জবাই করে মাটিচাপা দেওয়া হয়েছে। সন্দেহভাজন অন্যান্য গরুকে রাজশাহীতে নিয়ে ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছে।

গোদাগাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফয়সাল আহমেদ বলেন, আমি বিষয়টি আগে জানতাম না। স্থানীয় জন প্রতিনিধিরাও আমাকে অবহিত করেননি। তবে এখনই স্বাস্থ্য বিভাগ ও প্রাণিসম্পদ দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করছি।
গোদাগাড়ী উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. শায়লা শারমিন জানান, আক্রান্ত কিছু গরুকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। শিয়াল বা কুকুরের কামড়ে রেবিস ভাইরাস সহজেই ছড়াতে পারে। এটি মানুষের মধ্যেও সংক্রমিত হতে পারে, তাই আক্রান্তদের অবশ্যই দ্রুত চিকিৎসা নিতে হবে। তবে ভ্যাকসিন আমাদের কাছে থাকে না, বাইরে থেকে সংগ্রহ করতে হয়। আবার ভ্যাকসিন নিলেও শতভাগ সুরক্ষা মেলে না। যদি এটা মানুষের মাঝে ছড়িয়ে পড়ে তাহলে স্বাস্থ্য বিভাগ ও প্রাণিসম্পদ বিভাগকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।


আরো খবর