• ঢাকা, বাংলাদেশ বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ০২:০৭ অপরাহ্ন
নোটিশ
রাজশাহীতে আমরাই প্রথম পূর্ণঙ্গ ই-পেপারে। ভিজিট করুন epaper.rajshahisongbad.com

রাজশাহী জেলা ছাত্রলীগের  ২১ মাস কমিটি নেই

নিজস্ব প্রতিবেদক
সর্বশেষ: বৃহস্পতিবার, ৪ জুলাই, ২০২৪

Advertisements

২০২২ সালে এক বছরের জন্য গঠন করা হয়েছিল রাজশাহী জেলা ছাত্রলীগের কমিটি। নানা বিতর্কের প্রেক্ষিতে ৮ মাসেই সাবিকুল ইসলাম রানা ও জাকির হোসেন অমির সেই কমিটি বিলুপ্ত করা হয়। এরপর থেকে আর নতুন করে কমিটি দেয়া হয়নি। অর্থাৎ প্রায় ২ বছর ধরে কমিটি নেই রাজশাহী জেলা ছাত্রলীগের।

এতে ঝিমিয়ে পড়েছে ছাত্রলীগের কর্মকাণ্ড। এমনকি পালনও করা হয় না সাংগঠনিক কর্মসূচি। হতাশায় ক্ষমতাসীন দলের ছাত্র সংগঠনটির অনেক নেতাকর্মী নিস্ক্রিয় হয়ে পড়ছেন। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে ছাত্রলীগের কর্মী থাকলেও তাদের নিয়ন্ত্রন করার কেউ নেই। এ অবস্থায় কর্মীদের মধ্যেও হতাশা নেমে এসেছে।

রাজশাহী জেলা ছাত্রলীগের তথ্য মতে, রাজশাহী জেলা ছাত্রলীগের সবশেষ  কমিটি গঠন করা হয় ২০২২ সালে। ২০২২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি সাকিবুল ইসলাম রানাকে সভাপতি ও জকির হোসেন অমিকে সাধারণ সম্পাদক করে ৩০ সদস্যের কমিটি ঘোষণা করেন তৎকালীন কেন্দ্রীয় সভাপতি আল নাহিন খান জয় ও সাধারণ সমপআদক লেখক ভট্রাচার্য। তবে, এরপরই রানাকে নিয়ে উঠে বিতর্ক। ছাত্রদলের নেতা থেকে ছাত্রলীগের সভাপতি বানানোকে কেন্দ্র করে ক্ষোভ প্রকাশ করে স্থানীয় ছাত্রলীগ নেতারা।

এরপর কিছুদিন না গড়াতেই মাদক ও নারী কেলেংকারীতে জড়িয়ে পড়েন রানা। অন্যদিকে সাধারণ সম্পাদক অমির বিরুদ্ধে চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অভিযোগ ওঠে। ব্যাপক সমালোচনার মুখে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীর নেতারা আট মাসের মাথায় এই কমিটি ভেঙ্গে দেয়। ২০২২ সালের ২১ অক্টোবর কেন্দ্রীয় সভাপতি আল নাহিন খান জয় ও সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্রাচার্য রাজশাহী জেলা ছাত্রলীগের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করেন। এর পর থেকেই নেতৃত্বশূণ্য রাজশাহী জেলা ছাত্রলীগ।

২০২৩ সালে বর্তমান কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক দায়িত্ব নেওয়ার পর রাজশাহী জেলা কমিটি ঘোষণার জন্য জীবন বৃত্তান্ত আহব্বান করেন। ২০২৩ সালের ১০ জুলাই তারা জীবনবৃতান্ত চেয়ে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেন। এরপর গত ২০ সেপ্টেম্বর কর্মীসভার আয়োজন করে ছাত্রলীগ। পরে সেই কর্মীসভা আর হয়নি। তবে এবছর ১৯ ফেব্রুয়ারি জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদপত্যাশীদের নিয়ে কেন্দ্রীয় অফিসে মতবিনিময় সভা করেন ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটি। এরপরই কমিটি ঘোষণা হবে বলে মনে করছিলেন সংশ্লিষ্টরা। তবে, এখনো রাজশাহী জেলা ছাত্রলীগের নেতৃত্ব নির্বাচন করা সম্ভব হয়নি।

শুধু জেলা কমিটিই নয় এখানকার উপজেলা কমিটিগুলোও নিস্কৃয়। উপজেলা কিমিটিও নেই অনেক দিন ধরে। রাজশাহীর তানোর, গোদাগাড়ী, বাঘা, পুঠিয়া, বাগমার উপজেলা কমিটি নেই প্রায় দুই বছর ধরে। এছাড়াও অন্য তিনিটি উপজেলা চারঘাট, পবা, মোহনপুর উপজেলা কমিটি হয় ৮ বছর আগে। কিন্তু এখনও পূনাঙ্গ কমিটি হয় নি। ফলে উপজেলা পর্যায়েও থমকে আছে সংগঠনিক কার্যক্রম।

এদিকে, দীর্ঘদিন জেলা ও উপজেলা ছাত্রলীগের কমিটি না থাকায় অনেক সময়ই কর্মসূচি করতে অনীহা দেখা যায়। কয়েকজন নেতাকে মাঝে মধ্যে নিজের নেতৃত্বে কিছু কর্মসূচি পালন করতে দেয়া যায়। তবে, তাদের মধ্যেও নেমে এসছে হতাশা। কোন কোন নেতা আবার বিয়ে করে সংসারি হয়েছেন। কেউ বা আবার যোগ দিয়েছেন চাকুরিতে। এদিকে দুই বছরে নতুন করে কোন কর্মী সংগহ হয়নি। এমনকি পুরাতনদেরও কেউ খবর না রাখায় তারা ছাত্রলীগ ছেড়ে অন্য অঙ্গ সংগঠনের দিকে ঝুঁকেছে। ফলে নেতৃত্ব শূণ্যতার তৈরী হয়েছে জেলা ছাত্রলীগে।

রাজশাহী জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি হাবিবুর রহমান হাবিব বলেন, আমাদের সময়ের অনেক নেতার এখন বয়স নেই। সর্বশেষ কমিটিরও অনেকেরই এখন বয়স নেই। এই কমিটি দ্রুত দেওয়া দরকার। কারণ এখন কমিটি না থাকার কারণে অনেক সংকট হচ্ছে। কর্মী নেই। নতুন করে নেতৃত্ব দেওয়ার মত কাউকে খুঁজে পাওয়া যাবে না। সংগঠন যারা করেন তাদেরই নেতৃত্বে আসা দরকার। তিনি বলেন, রাজশাহী বিভাগীয় একটি জেলায় কমিটি নেই, এটি দুঃখজনক।

তিনি বলেন, এই কমিটি না দিলে আমাদের যে কর্মী তৈরি হতো। ভালো নেতা তৈরি হতে এটি থেকে আমরা পিছিয়ে পড়ছি। আমাদের রাজনৈতিক সংকটও তৈরি হচ্ছে। এটি থেকে পরিত্রান পেতে এখনই কমিটি ঘোষণা করা দরকার। এটি জরুরী হয়ে পড়েছে।

রাজশাহী মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি শফিকুজ্জামান শফিক বলেন, রাজশাহী জেলা ছাত্রলীগের কমিটি না থাকায় আমাদের অনেক ক্ষতি হয়ে যাচ্ছে। সংগঠনের অনেক ক্ষতি হচ্ছে। এটি একটি বিভাগীয় জেলা। এখানে কমিটি না খাতা অত্যন্ত দুঃখজনক। এখানে কমিটি দেওয়া খুবই জরুরী।

তিনি বলেন, ছাত্রলীগ, আওয়মী লীগের কর্মী তৈরির কারখানা। এভাবে দুইবছর কমিটি না থাকায় আমাদের কর্মি সংকট তৈরি হবে। রাজনৈতিক সংকট দেখা দিবে। এটি সমাধানের জন্য দ্রুত কমিটি গঠন করা দরকার।

রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বাবু অনীল কুমার বলেন, তারা আগের মত প্রান্তবন্ত নেই। দায়িত্ব পেলে তারা আরো প্রানবন্ত হবে। আমি কেন্দ্রে কথা বলেছি। তারা যাতে দ্রুত এই কমিটি ঘোষনা করে সেজন্য বলেছি।

বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাদ্দাম হোসেন বলেন, আমার দ্রুতই এই কমিটি ঘোষনা করে দিবে। আমাদের কাজ চলেছে। দ্রুত কমিটি ঘোষনা হবে।


আরো খবর