• ঢাকা, বাংলাদেশ বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ০২:১০ অপরাহ্ন
নোটিশ
রাজশাহীতে আমরাই প্রথম পূর্ণঙ্গ ই-পেপারে। ভিজিট করুন epaper.rajshahisongbad.com

রাজশাহীর বিএনপির নেতৃবৃন্দের মধ্যে রয়েছে রাজনৈতিক সৌহার্দ্যের দৃষ্টান্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক
সর্বশেষ: রবিবার, ৪ জানুয়ারী, ২০২৬
রাজশাহীর বিএনপির নেতৃবৃন্দের মধ্যে রয়েছে রাজনৈতিক সৌহার্দ্যের দৃষ্টান্ত
রাজশাহীর বিএনপির নেতৃবৃন্দের মধ্যে রয়েছে রাজনৈতিক সৌহার্দ্যের দৃষ্টান্ত

Advertisements

আগামী ফেব্রুয়ারী মাসের ১২তারিখ বৃহস্পতিবার বাংলাদেশে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এই নির্বাচনের প্রার্থীতা যাচাই-বাছাই রোববার (৪ জানুয়ারী) শেষ হলো। গত ৩ ডিসেম্বর রাজশাহী জেলার ছয়টি আসনের প্রার্থীদের প্রার্থীতা যাচাই-বাছাই অনুষ্ঠিত হয়। এতে ঊনিশ জন প্রার্থীকে বৈধ প্রার্থী বলে ঘোষনা করে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও রাজশাহী জেলা প্রশাসক আফিয়া আক্তার।

৩ ডিসেম্বর শনিবার সকাল ১০টা থেকে পর্যায়ক্রমে ছয়টি আসনের প্রার্থীতা যাচাই-বাছাই কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। সকাল ১০টা থেকে ১টা পর্যন্ত উৎসব মূখর পরিবেশে, এক অপরকে সহযোগিতা এবং পাশাপাশি বসে রাজশাহী-১(তানোর-গোদাগাড়ী), রাজশাহী সদর-২(রাজশাহী সদর), রাজশাহী-৩(পবা-মোহনপুর)ও রাজশাহী-৪(বাগমারা) আসনের প্রার্থীতা যাচাই-বাছাই হয়। যাচাই-বাছাই এর পরিচিতি বক্তব্যের সময় রাজশাহী সদর আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সাবেক মেয়র ও সাবেক সংসদ সদস্য মিজানুর রহমান মিনু অন্যান্য দলের প্রার্থীদের সম্মান এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সদর আসনের প্রার্থীকে ছোটভাই বলে সবার সামনে সংবোধন করেন।

মিনু তাঁর বক্তব্যে আরো বলেন, বিএনপি মনে করে আসছে জাতীয় সংসদ নির্বাচন হবে অবাধ ও সুষ্ঠু। আর এরজন্য সরকার ও প্রশাসনকে ব্যবস্থা গ্রহন করতে হবে। কারণ ভোটারগণ তাদের পছন্দের প্রার্থীদের ভোট প্রদানের জন্য উন্মুখ হয়ে আছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

এদিকে যাচাই-বাছাই শেষে প্রার্থীতা বৈধ হওয়ার পরে পরিচিতি হওয়ার সময় বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির ত্রাণ ও পুনর্বাসন বিষয়ক সহ-সম্পাদক, বিএনপি রাজশাহী মহানগরের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও পবা-মোহনপুর আসনের বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী এডভোকেট শফিকুল বলেন, তাঁর আসনে প্রতিদন্দী আছে, কিন্তু প্রতিহিংসা নাই। প্রার্থীরা সবাই নির্বিঘ্নে তাদেও প্রচারণা চালাবেন। এই বক্তব্য শোনার সাথে সাথে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা তাঁকে ধন্যবাদ জানান এবং নির্বাচন শেষ হওয়া পর্যন্ত সৌহার্দপূর্ন পরিবেশ বজায় রাখতে সকল প্রার্থীকে অনুরোধ করেন।

এরপর নিচে মেনে এসে সাংবাদিকদের নানা প্রশ্নের উত্তর দেন তিনি। এ সময়ে তিনি বলেন, কথা বলার মত পরিস্থিতি নাই। তবুও বলছি, বিএনপি একটি গণতান্ত্রিক দল। এই দল সবাইকে নিয়ে নির্বাচন করতে চায়। বেগম খালেদা ছিলেন গণতন্ত্রের মুর্ত প্রতিক। তিনি বলে গেছেন কোন প্রতিহিংসা নয়। সবাইকে নিয়ে সমঝোতার মাধ্যমে দেশের উন্নয়ন করতে হবে। তিনি আরো বলেন, বেগম জিয়ার জানাযায় ছাব্বিশটি দেশের সর্বোচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিরা এসেছিলেন। আর জানাযায় কত লোক হয়েছিলো তা কেউ এখন পর্যন্ত পরিমাপ বা গণনা করে বলতে পারেনি। আর পারবেওনা বলে উল্লেখ করেন তিনি।

মিলন আরো বলেন, প্রশাসনে এখনো পতিত সরকারের কিছু দোসর ঘাপটি মেরে বসে আছে। যার প্রমাণ হচ্ছে প্রার্থীতা যাচাই-বাছাইয়ের সময় অন্য দলের প্রার্থীদের বেলায় কিছু না বললেও বিএনপির প্রার্থীদের ক্ষেত্রে তথ্য গোপন করে মামলার তথ্য উপস্থাপন করেন। কিন্তু সরকারী পিপিদের প্রতিবাদে তা খারিজ হয়ে যায়। তিনি বলেন, আসছে নির্বাচনের জন্য প্রশাসনের মধ্যে থেকে প্রিজাইডিং, সহকারী প্রিজাইডিং ও পোলিং অফিসার নিয়োগ প্রদান করা হবে। এদের মধ্যে পূর্বের সরকারের দোসর থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। এজন্য ঐ সকল কর্মকর্তাদের সাথে সভা ও প্রশিক্ষণ প্রদানের সময় প্রার্থীদের আহ্বান করার কথা বলেন।

নির্বাচন নিয়ে কোন প্রকার ষড়যন্ত্র করলে জনগণ মেনে নেবেনা উল্লেখ করে তিনি বলেন, কারণ দীর্ঘ সতের বছর ভোটারগণ ভোট দিতে পারেননি। পতিত সরকার একতরফা ও আমি ডামি নির্বাচন করে ক্ষমতা আকড়ে ধরে রেখেছিলো। খুনি হাসিনা জনগণের উপরে জগদ্দল পাথরের ন্যায় বুকের উপরে চেপে বসেছিলেন। সাবেক স্বৈরাচার প্রধানমন্ত্রী ভেবেই নিয়েছিলেন তিনি আর ক্ষমতা থেকে হটবেন না। কিন্তু ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার আন্দোলনে শেখ হাসিনা প্রাণভয়ে দেশ ছেড়ে পালিয়ে বাঁচেন।

তিনি আরো বলেন, খুনি হাসিনা তিনবারের সাবেক সফল প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মিথ্যা মামলা দিয়ে কারাগারে রেখে তিলে তিলে মেরে ফেলতে চেয়েছিলেন। জেলের মধ্যে স্লোপয়জোনিং করা হয়েছিলো। তাঁকে সঠিকভাবে চিকিৎসা পর্যন্ত করতে দেয়া হয়নি। বিদেশে নিতে দেয়া হয়নি। যখন তিনি চিকিৎসার জন্য বিদেশে গেলেন তখন আর ভালো কিছু করার ছিলোনা বলে উল্লেখ করেন তিনি। এভাবেই তিনি পর্যায়ক্রমে অসুস্থ হতে থাকেন। তাঁর শেষ পরিণতি হয় ৩০ ডিসেম্বর ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মৃত্যুবরণ।

এই মুত্যুর মধ্যে দিয়ে মহাকালের সমাপ্তি ঘটলেও মহাকাব্যের সৃষ্টি হয় বলে উল্লেখ করে বেগম জিয়ার আত্মার শান্তিকামনায় সবার নিকট দোয়া প্রার্থনা করেন। বক্তব্য শেষে তিনি পবা-মোহনপুর আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আবুল কালাম আজাদ এর সাথে করমর্দন ও কোলাকোলি করেন। সেইসাথে একে অপরের সাথে কুশল বিনিময় করেন তিনি। যা সেখানে উপস্থিত সবার নজর কারে।


আরো খবর