আজ বৃহস্পতিবার ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস। বাঙালি জাতির ইতিহাসে এক স্মরণীয় দিন। সারাদেশের মতো রাজশাহীতেও বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে যথাযোগ্য মর্যাদায় দিবসটি উদ্যাপন করা হয়। রাজশাহীতে ৫৬তম মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের কর্মসূচি শুরু হয় সূর্যোদয়ের সাথে সাথে সকল সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি ভবনসমূহে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থাপনায় জাতীয় পতাকা উত্তোলন, জেলা পুলিশ লাইন্স মাঠে ৩১ বার তোপধ্বনি ও কালেক্টরেট চত্বরের শহিদ স্মৃতিফলকে পুষ্পস্তবক অর্পণের মধ্য দিয়ে।
ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু সূর্যোদয়ের সাথে সাথে রাজশাহী কালেক্টরেট চত্বরের শহিদ স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। পরে বিভাগীয় প্রশাসন, রাসিক প্রশাসক, জেলা প্রশাসন, পুলিশ বিভাগ, বিভিন্ন সরকারি- বেসরকারি দপ্তর, সংস্থা, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন আলাদাভাবে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শহিদদের শ্রদ্ধা জানান।
সকাল সাড়ে আটটায় মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি স্টেডিয়ামে বিভাগীয় কমিশনার ড. আ. ন. ম. বজলুর রশীদ জাতীয় সংগীত পরিবেশনার সাথে সাথে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন। পরে তিনি স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষ্যে অনুষ্ঠিত কুচকাওয়াজ পরিদর্শন ও কুচকাওয়াজে সালাম গ্রহণ করেন।
স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদ্যাপন উপলক্ষ্যে স্টেডিয়ামে আগতদের উদ্দেশে দেওয়া সংক্ষিপ্ত বক্তৃতায় বিভাগীয় কমিশনার স্বাধীনতার ঘোষক বীর মুক্তিযোদ্ধা সেক্টর কমান্ডার শহিদ জিয়াউর রহমান ও সকল শহিদ বীর মুক্তিযোদ্ধাকে গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন এবং যোদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা ও জীবিত বীর মুক্তিযোদ্ধাগণের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। তিনি একইসাথে ২৪-এর জুলাই আন্দোলনে শহিদদেরও স্মরণ করেন।
বিভাগীয় কমিশনার বলেন, মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস বাঙালি জাতির ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় অধ্যায়। এদিন আমাদের স্বাধীনতার অগ্নিশিখা প্রজ্বলিত হয়েছিল। ১৯৭১ সালের এই দিনে দীর্ঘদিনের শোষণ-বঞ্চনা ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে বাঙালি জাতি স্বাধীনতার দৃঢ় পদক্ষেপ গ্রহণ করে। সেই মহান মুক্তিযুদ্ধে লাখো শহিদের আত্মত্যাগ, অসংখ্য মা-বোনের ত্যাগ এবং সাধারণ মানুষের সংগ্রামের ফলে আমরা পেয়েছি প্রিয় স্বাধীনতা, প্রিয় বাংলাদেশ। শহিদদের আত্মত্যাগ আমাদের অনুপ্রাণিত করে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হতে এবং দেশের উন্নয়নে নিজ নিজ অব¯’ান থেকে অবদান রাখতে।
বজলুর রশীদ বলেন, রাজশাহী বিভাগ দেশের উন্নয়ন, শিক্ষা, কৃষি এবং সংস্কৃতির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে। আমাদের দায়িত্ব হচ্ছে এই অগ্রযাত্রাকে আরও গতিশীল করে বর্তমান সরকারের গৃহীত পরিকল্পনা সুচারুরূপে বাস্তবায়নের মাধ্যমে একটি উন্নত, সমৃদ্ধ এবং মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তোলা। এসময় স্বাধীনতা দিবসে তিনি দুর্নীতি, অন্যায় এবং বৈষম্যের বিরুদ্ধে সোচ্ছার থাকার শপথ নিতে এবং দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতির জন্য নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করতে সবার প্রতি আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা মনোজ্ঞ ডিসপ্লে প্রদর্শন করে। ডিসপ্লে প্রদর্শন শেষে মার্চপাস্ট ও ডিসপ্লেতে অংশগ্রহণকারী বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।
জেলা প্রশাসক আফিয়া আখতারের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে অনুষ্ঠানে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মো. মাহফুজুর রহমান রিটন, রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি মোহাম্মদ শাহজাহান, আরএমপি কমিশনার ড. মো. জিল্লুর রহমান, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নাঈমুল হাছান উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, শিক্ষক- শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।