জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজশাহীর ৬টি আসনের চারটিতে জয় পেয়েছে বিএনপি দলীয় প্রার্থীরা। দু’টিতে জয় পেয়েছেন জামায়াতের প্রার্থীরা। রাজশাহী-১ আসনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন জামায়াতের প্রার্থী অধ্যাপক মুজিবুর রহমান। রাজশাহী সদর আসনে বিএনপির মিজানুর রহমান মিনু, রাজশাহী-৩ আসনে অ্যাডভোকেট শফিবুল হক মিলন, রাজশাহী-৪ আসনে জামায়াতের ডা. আব্দুল বারী, রাজশাহী-৫ আসনে নজরুল ইসলাম এবং রাজশাহী-৬ আসনে আবু সাঈদ চাঁদ সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। এবারের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজশাহীর আসনগুলোতে বিএনপি ও জামায়াতের প্রাথীরা ছাড়া বাকিরা সেভাবে ভোট টানতে পারেন নি। খুবই সামান্য ভোট পেয়েছেন তারা। এখানকার ৬টি আসনের মোট ৩২ জন প্রার্থীর মধ্যে ২০ জনই জামানত হারিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার দিবাগত গভীররাতে জেলা প্রশাসক ও জেলা রির্টানিং কর্মকর্তা অফিয়া আখতার ফলাফল ঘোষণা করেন। নির্বাচন অফিসের তথ্যমতে, কোন আসনে কোনো প্রার্থী মোট প্রদত্ত ভোটের ৮ ভাগের অন্তত এক ভাগ ভোট না পেলে সেই প্রার্থীর জামানত বাতিল হবে। জেলা রিটার্নিং অফিসের দেয়া তথ্যমতে, রাজশাহী-১ আসনে মোট ভোট পড়েছে ৩ লাখ ৫১ হাজার ৮৪৪টি। এই আসনে সর্বোচ্চ ১ লাখ ৭১ হাজার ৭৮৬ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন জামায়াত মনোনীত প্রার্থী অধ্যাপক মুজিবুর রহমান। তার নিকটতম প্রার্থী বিএনপি মনোনীত মেজর জেনারেল (অব.) শরিফ উদ্দীন পেয়েছেন ১ লাখ ৬৯ হাজার ৯০২ ভোট। নিয়ম অনুযায়ি এই আসনটিতে জামানত রক্ষা করতে প্রার্থীদের পেতে হবে অন্তত ৪৩ হাজার ৯৮১টি ভোট। তবে এই আসনের ৫জন প্রার্থীর মধ্যে ৩ জন প্রার্থীই এই ভোট পান নি। তারা হলেন, গণ অধিকার পরিষদের প্রার্থী মির মোঃ শাহজাহান। তিনি পয়েছেন ৪০৭ ভোট। আমার বাংলাদেশ পার্টির প্রার্থী আব্দুর রহমান পেয়েছেন ১১০০ এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী আল-সাআদ পেয়েছেন ৬৬৩ ভোট।
রাজশাহী-২ আসনে মোট ভোট পড়েছে ২ লাখ ৩৫ হাজার ৯১৬ টি। এই আসনে ১ লাখ ২৮হাজার ৫৪৬ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মিজানুর রহমান মিনু। তার নিকটতম প্রার্থী জামায়াতের ডা. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর পেয়েছেন ১ লাখ ৩৭০ ভোট। নিয়ম অনুযায়ি এই আসনটিতে জামানত ফেরত পেতে প্রার্থীদের পেতে হবে অন্তত ২৯ হাজার ৪৯০টি ভোট। তবে ৬জন প্রার্থীও মধ্যে ৪ জন প্রার্থীই এই ভোট পায় নি। এর মধ্যে আমার বাংলাদেশ পার্টির প্রার্থী সাঈদ নোমান পয়েছেন ৭৮৬ ভোট, নাগরিক ঐক্যর প্রার্থী সামছুল আলম ভোট পেয়েছেন ৫৫২, বাংলাদেশ লেবার পার্টির প্রার্থী মেজবাউল ইসলাম পেয়েছেন ৩৮৭ ভোট এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী সালেহ আহমেদ পেয়েছেন ৮০১ ভোট।
রাজশাহী-৩ আসনে মোট ভোট পড়েছে ৩ লাখ ২৭ হাজার ৪০৭টি। ফলে এই আসনটিতে জামানত বাঁচাতে প্রার্থীদের পেতে হবে ৪০ হাজার ৯২৬টি ভোট। কিন্তু বিএনপি ও জমায়াত ছাড়া বাকিরা খুবই কম ভোট পেয়েছেন। একারণে হারিয়েছেন জামানত। রাজশাহী-৩ আসনে বিএনপি দলীয় প্রার্থী শফিকুল হক মিলন ১ লাখ ৭৬ হাজার ৩১৮ ভোট পেয়ে এমপি নির্বাচিত হয়েছেন। নিকটতম প্রার্থী জাময়াতের আবুল কালাম আজাদ পেয়েছেন ১ লাখ ৩৭ হাজার ৯২৭ ভোট। বাকি ৪ প্রার্থী জামানত হারিয়েছেন। এদের মধ্যে আম জনতার দলের প্রার্থী সাইদ পারভেজ পেয়েছেন ২৯৫ ভোট, ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী ফজলুর রহমান পেয়েছেন ১১৫৪টি, জাতীয় পার্টির প্রার্থী অফজাল হোসেন পেয়েছেন ২৩৯০ ভোট এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী হাবিবা বেগম পেয়েছেন ১ হাজার ১৭৭ ভোট।
রাজশাহী-৪ আসনে মোট ভোট পড়েছে ২ লাখ ৩১ হাজার ১৯০টি। ফলে এই আসনটিতে জামানত বাচাতে প্রার্থীদের পেতে হবে ২৮ হাজার ৮৯৯টি ভোট। জামায়াত মনোনীত প্রার্থী আব্দুল বারী ১ লাখ ১৫ হাজার ২২৬ ভোট পেয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। নিকটতম বিএনপি প্রার্থী ডিএমডি জিয়াউর রহমান পেয়েছেন ১ লাখ ৯ হাজার ৪৬১ ভোট।
এই আসনের বাকি ২ জন প্রার্থী সামান্য ভোট পাওয়ায় জামানত হারিয়েছেন। এর মধ্যে ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী তাজুল ইসলাম খান পেয়েছেন ৬৭০ ভোট, জাতীয় পার্টির প্রার্থী ফজলুল হক পেয়েছেন ১ হাজার ৭৫৯ ভোট।
রাজশাহী-৫ আসনে মোট ভোট পড়েছে ২ লাখ ৪৩ হাজার ৪৩৬টি। ফলে এই আসনটিতে জামানত বাঁচাতে প্রার্থীদের পেতে হবে ৩০ হাজার ৪৩০টি ভোট। তবে প্রথম ও দ্বিতীয় দুই প্রার্থী ছাড়া বাকিরা তার ধারে কাছেও যেতে পারেননি। এই আসনে বিএনপি দলীয় প্রার্থী নজরুল ইসলাম ১ লাখ ৫৩ হাজার ৪২৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। আর জামায়াতের প্রার্থী মনজুর রহমান পেয়েছেন ৭৩ হাজার ৪৪৫জন। এই আসনের ৫ জন প্রার্থীই জামানত ফেরত পাওয়ার মত ভোট পাননি। এদের মধ্যে বাংলাদেশ সুপ্রীম পার্টির প্রার্থী আলতাফ হোসেন মোল্লা পেয়েছেন ৯৩৮ ভোট। ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী রুহুল আমিন পেয়েছেন ৬২০ ভোট। স্বতন্ত্র প্রার্থী ইসফা খাইরুল হক পেয়েছেন ২ হাজার ৪৯৬ ভোট। স্বতন্ত্র প্রার্থী রায়হান কাউসার পেয়েছেন ৪৪২ ভোট ও স্বতন্ত্র প্রার্থী রেজাউল করিম ৬ হাজার ৪৩২ ভোট।
রাজশাহী-৬ আসনে মোট ভোট পড়েছে ২ লাখ ৫৩ হাজার ৩০২টি। এই আসনটিতে জামানত বাচাতে প্রার্থীদের পেতে হবে কমপক্ষে ৩১ হাজার ৬৬৩টি ভোট। এখানে বিএনপি দলীয় প্রার্থী আবু সাঈদ চাঁদ ১ লাখ ৪৮ হাজার ৬৭২ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম জামায়াতের নাজমুল হক পান ৯২ হাজার ৯৬৫ ভোট। তবে অপর ২জন প্রার্থীর ভোটের সংখ্যা খুবই কম। এর মধ্যে ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী আব্দুস সালাম সুরুজ ভোট পেয়েছেন ১ হাজার ৬২৮টি, জাতীয় পার্টির প্রার্থী ইকবাল হোসেন পেয়েছেন ২ হাজার ৯৩০ ভোট।
রাজশাহী সিনিয়র জেলা নির্বাচন অফিসার ও সহকারী রির্টানিং কর্মকর্তা মোতাওয়াক্কিল রহমান বলেন, কোন প্রার্থীকে তার আসনের প্রদত্ত মোট ভোটের ৮ ভাগের এক ভাগ ভোট পেতে হবে। এতে রাজশাহীর ৬টি আসনের মোট ২০ জন প্রার্থীর জমানাত বাতিল হচ্ছে।