বিএনপি চেয়ারপার্সন, আপোষহীন দেশনেত্রী, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে তিলে তিলে মেরে ফেলার চেষ্টা করা হয়েছে। তাঁকে জেলের মধ্যে স্লোপয়জোনিং করা হয়েছিলো। মিথ্যা মামলায় সাজা দিয়ে কারাগারের শ্যাতসেঁতে ঘরে রাখা হয়েছিলো। মারাত্বক অসুস্থ হলেও তাঁকে দেশের বাহিরে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসা করতে দেয়া হয়নি। এরপর থেকে তিনি আর ভালভাবে সুস্থ হয়ে উঠতে পারেন নি। পারিলা ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ড বিএনপি অঙ্গ ও সহযোগি সংগঠনের আয়োজনে বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনায় আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির ত্রাণ ও পুনর্বাসন বিষয়ক সহ-সম্পাদক, পবা-মোহনপুর আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলন এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, বর্তমানে তাঁর অবস্থা অত্যন্ত খারাপ। তিনি ঢাকার এভার কেয়ার হাসপাতালে নিবির পরিচর্যা কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন আছেন। বিগত সময়ে বেগম জিয়ার ব্যক্তিগত ডাক্তারগণ মেডিকেল বোর্ড বসিয়ে চিকিৎসার লক্ষে দেশের বাহিরে নেয়ার জন্য বার বার সে সময়ে সরকারের নিকট আবেদন করেও কোন কাজ হয়নি। পতিত সরকার এ নিয়ে নানাভাবে তাচ্ছিল্য করতো। সেইসাথে তাঁকে বাহিরে না যেতে দিয়ে দেশের মধ্যে তাদের ডাক্তার দিয়ে লোক দেখানো চিকৎিসা করা হতো।
তিনি বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পরে বেগম জিয়াকে দেশের বাহিরে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসা করলেও তেমন ভাল ফল পাওয়া যায়নি। সেখানকার ডাক্তাররা বলেছিলেন আরো ছয় থেকে আট বছর পূর্বে তাঁকে এই সকল সমস্যার চিকিৎসা করতে হতো। এক কথায় পতিত সরকার তাঁকে মেরে ফেলতেই চিকিৎসা করতে দেয়নি। এখন যদি বেগম জিয়ার কোন কিছু হয় তাহলে এর জন্য সারাজীবন দায়ী থাকবে হাসিনা ও তার দোসররা। কারন হাসিনার কারনেই তাঁর আজকে এই অবস্থা।
মিলন বলেন, ৫আগস্টের পরে দেশে একটি গণতান্ত্রিক সরকার গঠনের আসায় বুক বাঁধে দেশের সকল শ্রেণি পেশার মানুষ। নির্বাচন নিয়ে সব সময় বিএনপি সরকারকে আলটিমেটাম দিয়েছে। এর ফলে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দেরীতে হলেও ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারী মাসের প্রথম সপ্তাহে দেশে জাতীয় সংসদ নির্বাচন করার ঘোষণা দেন। এ ঘোষনা অনুযায়ী দেশের রাজনৈতিক দলগুলো তাদের দল গোছানো ও প্রার্থী মনোনয়ন শেষ করেছে। এখন নির্বাচনের দিনক্ষণ গননা চলছে। কিন্তু বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নির্বাচন পেছানোর জন্য নানা ষড়যন্ত্র করছে। তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলাম নির্বাচনের দিন ঘোষণার অনেক আগে থেকে সংসদ সদস্য প্রার্থীসহ ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বর পর্যন্ত তারা মনোনয়ন দিয়ে দিয়েছে। অথচ তারা একবার বলছে সংস্কার, আরেকবার বলছে পিআর, এখন আবার শুর করেছে গণভোট ছাড়া কোন নির্বাচন তারা হতে দেবেনা।
তিনি বলেন, এগুলো করে কোন লাভ হবেনা। জনগণ এখন নির্বাচন মুখি হয়ে আছে। নির্বাচনী ট্রেন চলমান। এই ট্রেনে যদি উঠতে না পারে তাহলে চিরজীবনের মত আস্তাকুড়ে চলে যাবে বলে উল্লেখ করেন তিনি। এই দল এখন বেহেস্তের টিকিট বিক্রি করছে। তারা বলছে দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিলে বেহেস্থ শতভাগ নিশ্চিত। এসব কথা যারা বলেন তারা হচ্ছে মোনাফেক ও শিরককারী। তারা ইসলাম থেকে খারিজকৃত ব্যক্তি। এই ধরনের দলের প্রতিনিধিদের ভোট না দেয়ার জন্য তিনি উপস্থিত জনগণসহ দেশবাসীকে অনুরোধ করেন। বক্তব্য শেষে বেগম জিয়ার আশুরোগ মুক্তি কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।
পবার মুসরইল ইক্ষু সেন্টার মাঠে আয়োজিত আলোচনা সভা ও দোয়ার মাহফিলে ৮নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি জাকির হোসেনের সভাপতিত্বে এবং পারিলা ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সভাপতি আবুল কাশেমের সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি ছিলেন পবা উপজেলা বিএনপির সদস্য সহকারী অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাক, শাহ মখদুম থানা বিএনপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাসুদ,পারিলা ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক রেজাউল করিম, সদস্য সচিব মখলেসুর রহমান, বিএনপি নেতা শফিকুল ইসলাম, যুবদল নেতা ফরিদুল ইসলাম সাহেব, রবিউল ইসলাম, পারিলা ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সভাপতি আবুল কাশেম মেম্বর, পবা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব মোস্তাক আহমেদ ছোট,পারিলা ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক সাজ্জাদ হোসেন ও সদস্য সচিব সাদিকুল ইসলাম স্বপন, পবা উপজেলা কৃষক দলের সদস্য সচিব আলমগীর হোসেন ও পারিলা কৃষক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক রনি আহমেদ সহ বিএনপি,অঙ্গ ও সহযোগি সংগঠনের নেতাকর্মীবৃন্দ।