দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া অনেক ত্যাগ স্বীকার করেছেন। তিনি তাঁর নিজ বাড়ি থেকে উচ্ছেদ হয়েছেন। সেইসাথে তাঁর স্বামী শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও কনিষ্ঠপুত্র আরাফাত রহমান কোকোকে হারিয়েছেন। এত কিছুর পরেও তিনি দেশবাসীকে ছেড়ে যাননি। শেষ অবধি তিনি তাঁর জীবন দিয়ে দেশের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করে গেছেন। মোহনপুর উপজেলার ধুরইল ইউনিয়ন সর্বস্তরের জনগণের আয়োজনে এবং ধুরইল ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও মোহনপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক কাজিম উদ্দিন সরকারের সার্বিক তত্বাবধানে তিনবারের সফল সাবেক প্রধানমন্ত্রী, বিএনপির সাবেক চেয়ারপার্সন,
দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির ত্রাণ ও পুনর্বাসন বিষয়ক সহ-সম্পাদক, রাজশাহী মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং পবা-মোহনপুরের বিএনপি মনোনিত ধানের শীষের প্রার্থী এডভোকেট শফিকুল হক মিলন এসব কথা বলেন।
তিনি আরো বলেন, প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ১৯৮১ সালে শহীদ হওয়ার পরে বেগম খালেদা জিয়া বিএনপির হাল ধরেন এবং স্বৈরাচার এরশাদের বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তোলেন। সেইসাথে অন্যান্য দল বেইমানী ও মেনাফেকী করলেও তিনি জনগণকে সাথে নিয়ে একাই নেতৃত্ব দিয়ে এরশাদের পতন ঘটান। এরপর ১৯৯১ সালে নির্বাচনের মাধ্যেমে তিনি সংসদ সদস্য নির্চাচিত হন এবং সেইসাথে দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহন করেন। প্রধানমন্ত্রী থাকা অবস্থায় তিনি তাঁর স্বামীর রেখে যাওয়া অসাম্প কাজ সমাপ্ত করার জ্যণ আপ্রান চেষ্টা করে গেছেন। তিনি মেয়েদের জন্য অবৈতনিক শিক্ষা ব্যবস্থা ও মুক্তিযোদ্ধাদের সুবিধার্থে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তিনি নারী ও শিশু কল্যাণ মন্ত্রালয় প্রতিষ্ঠাসহ প্রেসিডেন্সি ব্যবস্থা থেকে সংসদীয় ব্যবস্থার প্রবর্তণ করেছিলেন।
সেই নেত্রীকে দীর্ঘ সোয়া ছয় বছর মিথ্যা মামলার সাজানো রায়ে কারাগারে রাখা হয়েছিলো। গুরুতর অসুস্থ হলেও তিনি দেশের বাহিরে যেয়ে চিকিৎসা করার অনুমতি পাননি। ফলে তিনি আর সম্পুর্নভাবে সুস্থ হতে পারেননি। এরপর গত ৩০ ডিসেম্বর দেশের মানুষকে কাঁদিয়ে না ফেরার দেশে চলে গেছেন। তিনি বলেন, তাঁর মৃত্যু সবাইকে একতাবদ্ধ হতে শিখিয়ে গেছেন।
দোয়া মাহফিলে বেগম জিয়া, আরাফাত রহমান কোকো, জুলাই যুদ্ধে সকল শহীদ ও দীর্ঘ সতের বছরে স্বৈরাচার পতনের আন্দোলনে বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগি সংগঠনের নেতাকর্মী, সমর্থক এবং সকল মৃত মুসলিম ব্যক্তির আত্মার মাগফিরাত কামনা করা হয়।
দোয়া মাহফিলে সভাপতিত্ব করেন ধরুইল ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মোখলেসুর রহমান। বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা বিএনপির সদস্য ও মোহনপুর উপজেলা সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ আব্দুস সামাদ, জেলা বিএনপির সদস্য ও নওহাটা পৌর সাবেক মেয়র শেখ মকবুল হোসেন, জেলা বিএনপির সদস্য ও পবা উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব সহকারী অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাক, জেলা বিএনপির সদস্য কামরুজ্জামান হেনা, মোহনপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি শামিমুল ইসলাম মুন, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাহবুব আর রশিদ, সাংগঠনিক সম্পাদক বাচ্চু রহমান, শাহীন আক্তার সামসুজ্জাহা, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক কাজিম উদ্দিন সরকার, কেশরহাট পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক খুশবুর রহমান।
আরো উপস্থিত ছিলেন নওহাটা পৌর বিএনপির সভাপতি রফিকুল ইসলাম রফিক, জাহানাবাদ ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি জিল্লুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক তাজুল ইসলাম, জেলা স্বে”ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মাসুদুর রহমান লিটন, মোহনপুর উপজেলা স্বে”ছাসেবক দলের আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর আলম, জেলা মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদ সৈয়দা রুমেনা হক, মোহনপুর উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক আব্দুর রাজ্জাক ও সদস্য সচিব মাহমুদুল হাসান রুবেল সহ বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগি সংগঠনের নেতাকর্মী, সমর্থক ও সাধারণ জনগণ।