• ঢাকা, বাংলাদেশ বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ১২:৪৬ অপরাহ্ন
নোটিশ
রাজশাহীতে আমরাই প্রথম পূর্ণঙ্গ ই-পেপারে। ভিজিট করুন epaper.rajshahisongbad.com

বাজারে শেষ ভরসা আলু

আব্দুল আলিম
সর্বশেষ: মঙ্গলবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৫
বাজারে শেষ ভরসা আলু
বাজারে শেষ ভরসা আলু

Advertisements

নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধি নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত মানুষের জীবনকে ক্রমেই অসহায় করে তুলছে। এক সময় বাজারের সাধারণ সবজি হিসেবে পরিচিত আলু এখন যেন স্বল্প আয়ের মানুষের শেষ ভরসা। অন্যান্য সবজি, ডাল, মাছ-মাংসের দাম নাগালের বাইরে চলে যাওয়ায় দিনমজুর থেকে শুরু করে চাকরিজীবী এমনকি শিক্ষার্থীরাও এখন আলুর উপরই নির্ভর করছেন।

রাজশাহীর সাহেববাজার, নিউ মার্কেট, ভদ্রা, শিরোইলসহ বিভিন্ন এলাকার বাজার ঘুরে দেখা গেছে সব ধরনের সবজির দাম বেড়ে গেছে। বর্তমানে বাজারে সব থেকে কম দামে বিক্রি হচ্ছে আলু যার কেজিপ্রতি ১৫-২০ টাকায়। এরপর পেঁপের দামটা নাগালে রয়েছে সেটি বিক্রি হচ্ছে ২৫-৩০ টাকা কেজি দরে। তাছাড়া সব কিছুর দাম আকাশচুম্বি। ৫০ টাকার নিচে নেই কোন সবজি।

যেখানে টমেটো ১৬০, বেগুন ১২০, পটল ৬০, করলা ৮০, লাউ ৫০, শসা ৬০, মুলা ৬০, পেঁয়াজ ৭০, আদা ১৬০, মরিচ ২৪০, গাজর ১৬০ এবং লেবু প্রতি হালি ২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এমন অবস্থায় স্বল্প আয়ের মানুষদের কাছে আলুই এখন আশার আলো হয়ে উঠেছে। এছাড়া মাংসের বাজারেও দাম ঊর্ধ্বমুখী। দেশি মুরগি বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ৫০০ টাকায়, সোনালী ৩০০, ব্রয়লার ১৭০ এবং সাদা লেয়ার ২৭০ টাকায়। ফলে মাংস কিনে খাওয়াও এখন অনেক পরিবারের জন্য বিলাসিতা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে মাছের বাজার আগের মত কিছুটা স্বাভাবিক রয়েছে।

দিনমজুর আব্দুর রহিম বলেন, বাজারে সবকিছুর দাম এত বেশি যে ৫০০ টাকা নিয়েও কিছু কেনা যায় না। আগে বাজার থেকে ডাল, সবজি, মাছ কিনে নিয়ে যেতাম। এখন শেষমেষ আলু নিয়েই বাড়ি ফিরছি। আলু দিয়েই সংসার চলছে।

কলেজ শিক্ষার্থী নুরুল ইসলাম বলেন, বাজারে নিত্যপণ্যের দাম যেভাবে বাড়ছে, তাতে আমাদের মতো মধ্যবিত্ত বা নিম্নবিত্তদের জীবনযাপন করা কঠিন হয়ে যাচ্ছে। আগে আলু ছিল গৌণ সবজি, এখন সেটিই মূল ভরসা। দাম কম থাকায় আলু দিয়েই দুই-তিন রকম রান্না করা যায়।

বিক্রেতা শরিফুল ইসলাম বলেন, সবজির দাম আমরা বাড়াই না, পাইকারি বাজার থেকেই বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। ফলে ক্রেতারা যে সমস্যায় আছেন, আমরা বিক্রেতারাও কম সমস্যায় নেই। নিজের বাড়িতেও ভালো সবজি খাওয়ার সুযোগ নেই। আমাদেরও শেষ ভরসা এখন আলু।

রাজশাহীর স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, শুধু সরবরাহের ঘাটতিই নয়, পরিবহন ব্যয় ও মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্যও নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধির অন্যতম কারণ। তারা বলেন, যথাযথ নজরদারি না থাকলে আগামী দিনগুলোতে দাম আরও বাড়তে পারে।
অন্যদিকে নিম্নবিত্ত মানুষের অভিযোগ, যতই দাম বাড়ুক না কেন, ন্যায্যমূল্যে পণ্য সরবরাহে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না। ফলে স্বল্প আয়ের মানুষেরা এখন আলুর উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছেন।


আরো খবর