দিঘা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের অধ্যক্ষ জহুরুল ইসলাম (১ ফেব্রুয়ারি’২৪ ) ৭ ভরি সোনা,১ লাখ ২০ হাজার টাকা, সিরাজুল করিম খোকন ( ৪ ডিসেম্বর’২৩) একটি এ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন।
রাজশাহীর বাঘায় ফ্লাট বাড়িতে সপরিবারে বসবাস করেন দিঘা নিন্ম মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাহাজাহান আলী । বুধবার (১২ জুন) ভোরে দিঘা মাষ্টারপাড়া ফ্লাট বাসার পাশের রুমে দরজা লাগানো দেখেন,পরে বাসার বাহিরে সড়কে এসে দেখেন জানালার গ্রীল কাটা। রুমে প্রবেশ করে দেখেন জিনিসপত্রগুলো এলোমেলো।
কী চুরি হয়েছে এখনো ঠিক বুঝেনি। কারণ মেয়ের গহনা ছিল বাসায়, কোন কোন গহনা বাসায় রাখা ছিল সেটা তাকে এখনো জানাইনি কারণ মেয়ের অর্নাস পরীক্ষার চলছে। তবে সাড়ে ৬ ভরি সোনা ও নগদ ১৫ হাজার টাকা চুরি হয়েছে বলে জানান তিনি। দিঘা হিন্দুপাড়া গ্রামে সেমিপাঁকা বাড়ি এনামুল হকের গত (৬ জুন) সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখেন জানালার গ্রিল কাটা।
ঘরের বাক্স ভাঙা। গহনার বক্সও নেই। বক্সে প্রায় সাড়ে ৫ ভরি স্বর্ণালঙ্কার ছিল। যার বাজার মূল্য ৬ লাখ টাকার উপরে। বাড়ির রুমে ঢুকে সব লুট করে নিয়ে গেছে চোর। তিনি জানান,৩০ বছর ধরে এই বাড়িতে বাস করছেন তিনি। তবে চুরির মত এমন ঘটনা এর আগে কখনো ঘটেনি। মূল্যবান সবকিছু লুট হওয়ার এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও পুলিশ গ্রিলকাটা চোর চক্রটিকে ধরতে পারেনি।
সম্প্রতি বাঘায় এ ধরনের চুরির ঘটনা বেড়ে গেছে। সীমানা প্রাচীর টপকে বা বাড়ির জানালার গ্রীল বা বেলকনির গ্রীল কেটে স্বর্ণ অলংকার ও নগদ টাকা লুটে নিচ্ছে দুর্বৃত্তরা। গ্রামের প্রভাবশালী লোক ,অধ্যক্ষ, প্রধান শিক্ষক, স্বামী-স্ত্রী উভয়ে চাকুরি করেন এমন লোকদের বাসা-বাড়িতেও ঘটেছে চুরির ঘটনা।
স্থানীয় সূত্র বলছে, উপজেলার বাউসা ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকার বাসাবাড়িতে জুন মাসে চুরির ঘটনা ঘটেছে ১৫টি। এর মধ্যে চুরির ঘটনায় সন্দেহে কয়েকটি চোর চক্রকে গ্রেপ্তার করেছে। তবে চুরি যাওয়া কোন পণ্য উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ।
গত ৯ জুন রাতে বাউসা পূর্বপাড়া গ্রামের মিজানুর রহমান শিল্পীর বাড়িতে জানালার গ্রীল কেটে ঘর থেকে ১ ভরি স্বর্ণ ও নগদ ৯০ হাজার টাকা,র্যাবের চাকুরি করে কুদ্দুসের বাড়ি থেকে ৭০ হাজার টাকা, সরকারপাড়া গ্রামের মুকুুল সরকারের বাড়ির থেকে ৬০ হাজার টাকা, সান্টুর বাড়ি, কৃষক কুদ্দুস, খলিলুর রহমানের বাড়িতে ও পলান সরকার পাঠাগারের গ্রীল কেটে চুরি ঘটনা ঘটে।
উপজেলাজুড়ে ব্যাটারি চালিত ভ্যানগাড়ি, জলমোটর চুরি কারণে এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। অপরদিকে দিঘা হাজীপাড়া মসজিদের তালা ভেঙ্গে মসজিদে প্রবেশ করে, কিছু কয়েন ছাড়া কিছু না পেয়ে চোর চলে গেছে। তবে দিঘা পশ্চিমপাড়া বাতেন আলী ,আমিরুল আলী, দিঘা বলারবাড়ি গ্রামের মুত্তালিবের বাড়ির রাতে গ্রীল কেটে ঘরে প্রবেশ করে চুরি করে। ভূক্তভোগীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, এ সব চুরি ঘটনায় বেশিরভাগই থানায় অভিযোগ করা হয়েছে। তবে কোন প্রকার ফল মেনেনি।
বাঘা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম বলেন, প্রযুক্তিগতভাবে অনেক সচেতন হওয়ায় গ্রিলকাটা চোরদের গ্রেপ্তার করা অনেকটা চ্যালেঞ্জিং। চুরির ঘটনাগুলোর তদন্তে গতি বাড়ানোর পাশাপাশি চুরির আসামিদের অবস্থান শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা অব্যহত রয়েছে।##