রাজশাহীর বরেন্দ্র অঞ্চল উত্তর জনপদের এ তিন জেলায় এখন সবচেয়ে বড় সংকট পানি। ভূগর্ভস্থ পানির স্তর দ্রুত নিচে নামছে, নদী-নালা শুকিয়ে যাচ্ছে আগেভাগেই। ফলে কৃষি, গৃহস্থালি এমনকি মানুষের দৈনন্দিন জীবনে পানির জন্য হাহাকার দেখা দিচ্ছে নিয়মিত। এই সংকট উত্তরণের পথ খুঁজতে মঙ্গলবার সকাল ১১টায় রাজশাহী কলেজের ১৭ নম্বর গ্যালারিতে সময়ের ভাবনা ও রাজশাহী জেলা শীর্ষক সাধারণ সভার আয়োজন করে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) রাজশাহী জেলা কমিটি।
বাংলাদেশ পরিবেশবাদী আন্দোলন (বাপা) এর কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মোঃ আফজাল হোসেনের সভাপতিত্বে আলোচনা সভার প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাপা’র কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক মোঃ আলমগীর কবীর। এসময় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী কলেজ অধ্যক্ষ প্রফেসর মু. যহুর আলী এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী কলেজ উপাধ্যক্ষ প্রফেসর ডঃ মোঃ ইব্রাহীম আলী, বাপার রাজশাহী কমিটির সভাপতি মো. জামাত খান, এছাড়াও অন্যান্য অতিথিবৃন্দ ও রাজশাহী কলেজের বিভিন্ন বিভাগ ও সংগঠনের শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। সভায় বক্তারা বরেন্দ্র অঞ্চলের কৃষি এখন পানিনির্ভর হওয়ায় ভূগর্ভস্থ পানির ওপর চাপ বৃদ্ধি, টিউবওয়েল নির্ভর সেচের ঝুঁকি এবং বিকল্প উৎস খোঁজার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। এর পাশাপাশি তারা বৃক্ষ রোপন, বৃক্ষনিধন রোধ এবং পরিবেশ রক্ষায় তরুণদের ভূমিকা নিয়েও আলোচনা করেন তারা।
এ বিষয়ে প্রধান আলোচক মো. আলমগীর কবির বলেন, বরেন্দ্র অঞ্চলের পানিসংকটের মূল কারণ নির্বিচারে বৃক্ষনিধন ও অনিয়ন্ত্রিত নগরায়ণ। একসময় পদ্মা নদী সারা বছর ভরা থাকত, আজ তা কেবল বর্ষায় পানি ধরে রাখে। এতে প্রমাণ হয় সংকট কতটা গভীর। পরিবেশের উপাদানগুলো রক্ষা করতে না পারলে আগামী প্রজন্ম ভয়াবহ বিপদের মুখে পড়বে।
তিনি আরও বলেন, যুব সমাজ চাইলে পরিবেশ আন্দোলনে নেতৃত্ব দিতে পারে। যেমন জুলাই অভ্যুত্থানে ছাত্রসমাজ ঐক্যবদ্ধ হয়ে বিজয় ছিনিয়ে এনেছিল, তেমনি পরিবেশ রক্ষায়ও তাদের ঐক্য আজ ও প্রয়োজন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রফেসর মু যহুর আলী বলেন, পানিসংকট নতুন কোনো সমস্যা নয়, বরেন্দ্র অঞ্চলে এটি দীর্ঘদিনের। তবে পরিস্থিতি এখন ভয়াবহ পর্যায়ে পৌঁছেছে। এ অবস্থায় সবচেয়ে কার্যকর উদ্যোগ হবে ব্যাপক বৃক্ষরোপণ। কারণ বৃক্ষ মাটিতে পানি ধরে রাখে, পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখে।