• ঢাকা, বাংলাদেশ শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬, ১২:৩১ পূর্বাহ্ন
নোটিশ
রাজশাহীতে আমরাই প্রথম পূর্ণঙ্গ ই-পেপারে। ভিজিট করুন epaper.rajshahisongbad.com

পত্নীতলায় অসহায় বিধবার জমি জোরপূর্বক দখলের অভিযোগ 

পত্নীতলা প্রতিনিধি
সর্বশেষ: বুধবার, ১৭ জুলাই, ২০২৪

Advertisements
নওগাঁর পত্নীতলায় নিজের লীজ নেয়া সরকারি খাস জমি বিক্রি করে এক অসহায় বিধবার লীজ নেয়া শেষ সম্বল ঘরবাড়ির ৪শতক জমি জোরপূর্বক দখলের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি জেলার পত্নীতলা উপজেলায় নির্মইল ইউনিয়নের অর্জুনপুর গ্রামে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার পপি খাতুনসহ প্রশাসনের উর্ধতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
সরেজমিনে জানা যায়, অর্জুনপুর গ্রামে (জএল ৪৬, দাগ ৪৮২ এবং ১ নম্বর খাস খতিয়ানভুক্ত জমি) গত ২০১৩ সালের ৩জুন পত্নীতলা উপজেলা নির্বাহী অফিসারের ১০০৯ নং পত্রে ভুমিহীন মাসুদা বেগম ও তার স্বামী রফিকুল ইসলামের কাছে ৪ শতক জমি লীজ প্রদান করা হয়। এর কিছুদিন পরে মাসুদার স্বামী রফিকুল ইসলাম মৃত্যু বরন করলে মাসুদা বেগম অসহায় হয়ে পড়ে। পরবর্তীতে একই দাগের অন্য অংশে স্থানীয় ইদ্রিস আলীর ছেলে হাসান আলী একইভাবে আড়াই শতক জমি লিজ নেন এবং সেখানে ঘর তৈরি করে বসবাস করে আসছেন ।
সরকারী আইন অনুযায়ী এসব লিজ নেয়া জমি কোন ভাবেই হস্তান্তর বা বিক্রয় যোগ্য নয়। কিন্তু সরকারি নিয়ম উপেক্ষা করে হাসান আলী তার বসবাসের ওই জমি সাদেক আলী নামে এক ব্যক্তির কাছে বিক্রি করে দেয়। এরপর বিধবা মাসুদা এবং তার প্রয়াত স্বামীর লীজ নেয়া জমি দখলের উদ্যোগ নেয়। বিধবা মাসুদার জমিটি জোরকরে দখল করে হাসান সেখানে ইট দিয়ে বাড়ি নির্মাণ শুরু করে। উপায় না দেখে মাসুদা উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট আবেদন করেন।
প্রতিবেশীরা জানান, ইউএনও ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানসহ স্থানীয় ব্যক্তিদের সাথে নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। মাসুদা বেগমের অভিযোগের সত্যতা পেয়ে হাসানের নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দেন। প্রশাসনিক ভাবে উদ্যোগ নিয়ে হাসানের অবৈধ ভাবে বিক্রয় করা জমি ফেরত নিয়ে দেয়ার আশ্বাস দেয়া হয় এবং তাকে তার নিজস্ব লীজপ্রাপ্ত জমিতে গিয়ে বসবাসের জন্য নির্দেশ দেয়া হয়। বার বার তাকে মাসুদার জমি ছেড়ে দেয়ার কথা বললেও সে কোন কথাই শোনে না। উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও ইউনিয়ন পরিষদে তাকে বার বার ডাকলে সে অদৃশ্য শক্তির দাপটে প্রশাসনকে কোন পাত্তাই দেননি।
এদিকে মাসুদা জমির দখল না পেয়ে গ্রামবাসীর সহযোগিতায় রাস্তার পাশে ড্রেনের উপর সামান্য কুড়ে ঘর তৈরী করে এক অপ্রকৃতিস্থ শিশু সন্তান নিয়ে অমানবিক জীবনযাপন করছেন। স্থানীয় সংরক্ষিত ওয়ার্ডের মহিলা সদস্যসহ এলাকার সব জনগণ মাসুদার পাশে দাঁড়িয়েও এক হাসানের সাথে পেরে উঠছে না।
কান্না জড়িত কন্ঠে মাসুদা বিবি বলেন, হাসান আমাকে মেরেপিটে এখান থেকে উচ্ছেদ করার চেষ্টা করছে। আমার কবর দেয়ার জায়গাও নেই। আমি কোথায় যাবো? হাসান আমাকে মেরে ফেলবে। আপনারা আমাকে বাঁচান।
অভিযুক্ত হাসান আলীকে তার বাড়িতে না পেয়ে সেলফোনে বারবার কল দিয়েও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
স্থানীয় সংরক্ষিত মহিলা ইউপি সদস্য রোজিনা আক্তার বলেন, হাসান আলী কৌশলে নিজের ঘর বিক্রি করে মাসুদার জায়গা অবৈধভাবে দখলের চেষ্টা করছেন। তাকে বহুবার নোটিশ করে ইউনিয়ন পরিষদে এমনকি উপজেলা নির্বাহী অফিসারের অফিসে যাননি। ইউএনও স্যার এসে হাসানকে তার ঘর বুঝিয়ে দিয়েছেন এবং মাসুদার জায়গাছেড়ে দিয়ে হাসানকে তার ঘরে ফিরে যেতে বলেছেন।
স্থানীয় র্নিমইল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ বলেন, হাসান আলী বিধবা মাসুদার প্রতি অন্যায় করছে। জোর করে তার জায়গা দখলের চেষ্টা করছে। মহিলাকে একাধিকবার মারপিট করেছে। হাসাকে নোটিশ করে চৌকিদার পাঠিয়ে পরিষদে আনতে পারিনি। বিষয়টি আমি আমার উর্ধতন কতৃপক্ষ ইউএনও স্যারকে জানিয়েছি।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার পপি খাতুন জানান, মাসুদার অভিযোগের প্রেক্ষিতে আমি স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, স্থানীয় ব্যক্তিবর্গসহ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ঘটনার সত্যতা পেয়েছি। হাসানকে মাসুদার জায়গা ছেড়ে দেয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সাথে হাসানকে তার অবৈধভাবে বিক্রি করা ঘর বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। হাসান যেনো জোর করে মাসুদার জায়গায় আর ঘর করতে না পারে সেবিষয়ে দেখার জন্য স্থানীয় ইউপি সদস্য রোজিনা খাতুনকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।


আরো খবর