Advertisements

নওগাঁর রাণীনগরের মালশন গিরিগ্রাম উচ্চ বিদ্যালয়ের বাংলা বিষয়ের শিক্ষক মোছা. ময়না খাতুনের বিরুদ্ধে জাল শিক্ষক নিবন্ধন সনদে চাকরি করার অভিযোগ উঠেছে। তিনি এই সনদ দিয়ে নিয়োগ নেওয়ার পর প্রায় ১২ বছর থেকে সরকারি কোষাগার থেকে বেতন-ভাতা উত্তোলন করে যাচ্ছে। এ পর্যন্ত তিনি প্রায় ২৩ লক্ষ টাকা সরকারি কোষাগার থেকে উত্তোলন করেছেন বলে জানা যায়।
রাজশাহী সংবাদ পত্রিকার অনুসন্ধানে জানা যায়, উপজেলার ছয়বাড়ীয়া গ্রামের মো. আয়েজ আলী পিকে ও মোছা. সেলিমা বেগম দম্পতির মেয়ে শিক্ষক মোছা. ময়না খাতুন। তিনি গত ৫ অক্টোবর ২০১০ সালে মালশন গিরিগ্রাম উচ্চ বিদ্যালয়ে বাংলা বিষয়ের শিক্ষক হিসাবে নিয়োগ নেন। নিয়োগের সময় তিনি ২০০৭ সালের তৃতীয় শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে পাশ করা একটি শিক্ষক নিবন্ধন সনদ দিয়ে শিক্ষক পদে নিয়োগ নেন।
তার নিয়োগকৃত শিক্ষক নিবন্ধন সনদের রোল নম্বর ৫১০১০০৫১ এবং নিবন্ধন নম্বর ৭০০৬০৮১। সেই সনদের আবশ্যিক বিষয়ে প্রাপ্ত নম্বর ৪৪ এবং ঐচ্ছিক বিষয়ের প্রাপ্ত নম্বর ৪৩। এরপর তিনি ২০১১ সালের ১মে বি.এডসহ এমপিওভুক্ত হন। এমপিওতে তার ইনডেক্স নং ১০৫৭৯১৪। তখন থেকে অদ্যাবধি পর্যন্ত তিনি চাকরি করে বেতন-ভাতা উত্তোলন করে যাচ্ছেন। এরমধ্যে তিনি গত ২০২১ সালের জুলাই মাস থেকে উচ্চতর স্কেলে বেতন নেন।
জানতে চাইলে অভিযুক্ত শিক্ষক মোছা. ময়না খাতুন বলেন, আপনাকে কেন আমি তথ্য দিবো? আমার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ চাইলে আমি তাদের কাছে দিবো।
এ বিষয়ে তথ্য চাইলে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক উজ্জ্বল কুমার সরকার বলেন, তাকে জানানোর পর তিনি তার কাগজপত্র আমাকে দেননি। তাই আমি আপনাকে তথ্য দিয়ে সহায়তা করতে পারছি না। আমার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ আমাকে কোন নির্দেশনা দিলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তবে বিদ্যালয়ের অফিস কপি থেকে কোন তথ্য দিয়ে প্রতিনিধিকে তিনি সাহায্য করেননি।
এবিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম বলেন, আমি এই উপজেলায় নতুন এসেছি তাই আমি কিছুই জানিনা। আপনার মাধ্যমে জানতে পারলাম। তার শিক্ষক নিবন্ধন সনদ যদি জাল হয় তাহলে যাচাই সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।