ভারতের রাজধানী দিল্লিতে অবস্থিত বাংলাদেশ হাইকমিশনের সব ধরনের কার্যক্রম পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে। সোমবার (২২ ডিসেম্বর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একাধিক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
গত ২০ ও ২১ ডিসেম্বর টানা দুই দিন বাংলাদেশ হাইকমিশনে হামলার ঘটনা ঘটে। রোববার (২১ ডিসেম্বর) বিকেলে প্রায় দুই শতাধিক দুষ্কৃতিকারী হাইকমিশনের প্রধান ফটকের সামনে জড়ো হয়ে বাংলাদেশবিরোধী স্লোগান দিতে থাকে। একপর্যায়ে তারা সংঘবদ্ধভাবে হাইকমিশন প্রাঙ্গণে হামলা চালায়।
হামলাকারীরা ‘অখণ্ড হিন্দুরাষ্ট্র’ নামের একটি উগ্র হিন্দুত্ববাদী সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত বলে জানা গেছে। সংগঠনটি দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশকে তথাকথিত অখণ্ড ভারতের অংশ হিসেবে দাবি করে আসছে।
ঘটনার ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ঘটনাস্থলে উপস্থিত ভারতীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা হামলা প্রতিরোধে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেননি। বরং অভিযোগ রয়েছে, তাদের কেউ কেউ হামলাকারীদের নীরব সমর্থন ও উৎসাহ দিয়েছেন।
পরপর দুই দিন এ ধরনের সহিংস ও সন্ত্রাসী ঘটনার ফলে হাইকমিশনে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং তাদের পরিবারের সদস্যরা চরম নিরাপত্তাহীনতা ও আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন।
এ বিষয়ে রোববার বিকেলে ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন বলেন, দিল্লির কূটনৈতিক এলাকা অত্যন্ত সংরক্ষিত ও নিরাপদ এলাকা। সেখানে হিন্দু চরমপন্থীদের প্রবেশ কোনোভাবেই প্রত্যাশিত নয়। অর্থাৎ তাদের প্রবেশে কোনো না কোনোভাবে অনুমতি দেওয়া হয়েছে। পররাষ্ট্র উপদেষ্টার এই বক্তব্যের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই দিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনের সব কার্যক্রম স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।