এবার আর কোনো ভোট ইঞ্জিনিয়ার কিংবা ভোট চোরদের ছাড় দেওয়া হবে না বলে কঠোর বার্তা দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদ্রসা মাঠে অনুষ্ঠিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, আপনারা এখন থেকে দোয়া করতে থাকেন কোন কালো ছিল আসমান থেকে এসে ছু মেরে যেন আমাদের স্বপ্নকে এলোমেলো করে দিতে না পারে। এখন থেকে পাহারা বসাবেন। কোন ভোট ডাকাত, ভোট চোর, ভোট ইঞ্জিনিয়ার কাউকে আবার কোন ছাড় নেই। সিনা মজবুত করে, হাত শক্ত করে আমাদেরকে দাঁড়ায় যেতে হবে।
তিনি বলেন, দেশবাসী দীর্ঘদিন ধরে একটি নতুন বাংলাদেশের অপেক্ষায় আছে এবং সেই বাংলাদেশ গড়তে হলে পুরোনো রাজনীতিকে লাল কার্ড দেখাতে হবে। চোখ মেলে দেখেন জনগণ আপনাদেরকে কিভাবে দেখে। আজকে যুবকদের উত্থান শুরু হয়েছে পরিবর্তনের পক্ষে নতুন বাংলাদেশের পক্ষে মা বোনদের উত্থান শুরু হয়েছে পরিবর্তন এবং নতুন বাংলাদেশের পক্ষে এই দৃশ্য দেখে অনেকে নার্ভাস। নার্ভাস হয়ে আপনাদের এখানে তো বোধয় মাঘ মাসে যে অনেকের মাথা গরম হয়ে গেছে এরা চত্র মাসে কি করবে। ঠান্ডা রাখেন মাথা ঠান্ডা রাখেন মাথা গরম করবেন না, রাজনীতি করতে হলে ঠান্ডা মাথায় আসেন। আপনি রেগে গেলেন তো হেরে গেলে। হেরে যাওয়ার পূর্ব পূর্বাভাস শুরু হয়ে গেছে অলরেডি পাঁচটা বিশ্ববিদ্যালয়ের তরুণরা জানিয়ে দিয়েছে লাল কার্ড। আগামী ১২ তারিখে হবে ফেসিবাদের বিরুদ্ধে লাল কার্ড। ফেসিবাদ নতুন না পুরাতন ইমম্যাটেরিয়াল এটা বিবেচনার ব্যাপার না। ফেসিবাদ তোমাকে লাল কার্ড তুমি যে প্রণ গায়ে দিয়ে আসো তোমাকে অবশ্যই লাল কার্ড জানাব।
তিনি আরো বলেন, আগামী ১২ তারিখ দুইটা ভোট। একটা হচ্ছে গণভোট। গণভোটে হা মানেই হচ্ছে নতুন বাংলাদেশ পুরানা রাজনীতিকে লাল কার্ড। যেই রাজনীতি মানুষ খুন করে, যেই রাজনীতি আয়নাঘর তৈরি করে, যে রাজনীতি দেশপ্রেমিক নেতাদেরকে খুন করে, যেই রাজনীতি আমার দেশের সমস্ত সম্পদ লুন্ঠন করে, যেই রাজনীতি রাজনীতিবিদ্দের জন্য ব্যবসার উপাদানে পরিণত হয়, ১২ তারিখ সেই রাজনীতিকে ইনশাআল্লাহ লাল কার্ড। এইজন্য আমরা সবাই গণভোটে হা বলবো। ইনশাআল্লাহ হা চিহ্নতে আমরা সিল বসাবো।
তিনি আরো বলেন, ভোট যাদের অতীতেও খাসলত খারাপ ছিল। এখনো যারা লোভ সামলাইতে পারেনি। সেই বিড়ালের হাতে গোস্ত পাহারা দেওয়ার দায়িত্ব দিবেন? এরা রাষ্ট্রের জনগণের মান যার এবং ইজ্জতের নিরাপত্তা এরা দিবে? এখনই দিচ্ছে না, আফসোস তারাও মজলুম ছিলেন। কেন যে এখন বদলে গেলেন বুঝতে পারলাম না।
রাজশাহীর উন্নয়ন বিষয়ে তিনি বলেন, ভাইয়েরা রাজশাহীর কিছু সমস্যা আছে। সব জায়গায় সমস্যা আছে। যেহেতু ইনসাফ কায়েম নাই, যেহেতু দেশকে নিয়ে রাজনৈতিক নেতাদের কমিটমেন্ট নাই, ভিশন নাই। এখানে একটা মেডিকেল কলেজ আছে। বহু পুরানা যখন আটটা মেডিকেল কলেজ ছিল পূর্ব পাকিস্তানে তখন এখানে একটা ছিল। সেই মেডিকেল কলেজ এখনো আছে তার সাথে একটা ডেন্টাল ইউনিট করা হয়েছে কিন্তু ডেন্টাল কলেজ এখানে স্থাপন করা দরকার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এটা ঘুমিয়ে পড়েছে। আমরা ইনশাল্লাহ আর কয়টা দিন তো সবর করেন। যদি আল্লাহতালা আপনাদের পছন্দের লোকদেরকেই দেশ সেবার সুযোগ দেন, আল্লাহর মেহেরবানী দাবি করতে হবে না আমরাই খুঁজে খুঁজে বের করব জাতিকে সেবা দেওয়ার জন্য কোথায় কি দরকার এবং আপনাদের ঘুমন্ত ডেন্টাল কলেজকে ইনশআল্লাহ টান দিয়ে আমরা জাগিয়ে তুলে দিব। রাজশাহী সুগারমিল এটা লোকসানি কেন হবে? আমার দেশের মাটিতে আখ ফলে। আমার দেশের শ্রমিক এখানে কাজ করে, তাইলে একটা লোকসানি হবে কেন? চুরি চামারির কারণে লোকসান। মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী তিন বৎসর তিনি শিল্প মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেছিলেন তখন বন্ধ মিল কারখানা সুগার মিলসব তালায় একটা একটা করে খুলতে শুরু করেছিলেন এবং এক বছরের মাথায় সেইগুলাকে লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করেছিলেন। চুরি বন্ধ হওয়ার কারণে এটা সম্ভব হয়েছিল । ইনশাআল্লাহ যদি আপনাদের রায়ের প্রতিফলন ঘটে ১৩ তারিখ থেকে বলা লাগবে না অটোমেটিকালি অনেকের কান এবং নাক খাড়া হয়ে যাবে বাংলাদেশ নতুন রাস্তা খুঁজে পাবে। আমাদের ব্লু ইকোনমিতে সমুদ্রে এখনো আমরা সম্পদ আহরণে ঢুকতে পারিনি আল্লাহ যদি আমাদেরকে তৌফিক দেন কারো চোখ রাঙ্গানির পরোয়া করবো না ইনশাআল্লাহ দেশের সম্পদ দেশের মানুষের জন্য তুলে আনার জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করব।
জনসভায় সভাপতিত্ব করেন রাজশাহী মহানগর জামায়াতের আমীর মাওলানা কেরামত আলী। নগর জামায়াতের সেক্রেটারি ইমাজ উদ্দিন মন্ডলের সঞ্চালনায় জনসভায় উপস্থিত ছিলেন দলটির নায়েবে আমীর ও রাজশাহী-১ (তানোর-গোদাগাড়ী) আসনের প্রার্থী অধ্যাপক মজিবুর রহমান, রাজশাহী-২ (সদর) আসনের প্রার্থী ডা. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর, রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর) আসনের প্রার্থী আবুল কালাম আজাদ, রাজশাহী-৪ (বাগমারা) আসনের প্রার্থী ডা. আব্দুল বারী, রাজশাহী-৫ (পুঠিয়া-দূর্গাপুর) আসনের প্রার্থী মাওলানা মনজুর রহমান, রাজশাহী-৬ (চারঘাট-বাঘা) আসনের প্রার্থী অধ্যক্ষ নাজমুল হক, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা) মুখপাত্র রাশেদ প্রধান, জাতীয় নাগরিক পার্টির যুগ্ম মূখ্য সংগঠক ডাঃ মাহমুদা আলম মিতু, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) জিএস এসএম ফরহাদ হোসেন প্রমুখ।