• ঢাকা, বাংলাদেশ বৃহস্পতিবার, ০৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৪:১৯ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
শিক্ষা, স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়ন ও বেকারদের কর্মসংস্থানের উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে: মিনু বিএনপি ক্ষমতায় গেলে জনগণের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা হবে: মিনু গণভোটে ‘হ্যাঁ’ আর দাড়িপাল্লা জিতলেই, জিতবে জনগণ- আবুল কালাম আজাদ নগর পুলিশের বিভিন্ন অভিযোগে গ্রেপ্তার ১৯ এমপিও নীতিমালায় বৈষম্যের প্রতিবাদে রাবিতে আরবি বিভাগের মানববন্ধন রাজশাহী কলেজের দেয়ালে নীরব ইতিহাস চারঘাটে শীতার্থদের মাঝে কম্বল বিতরণ করলেন  সংগীতশিল্পী বকুল রাজশাহীতে কৃষিভিত্তিক ইন্ড্রাস্ট্রি গড়ে কর্মসংস্থানের নগরী বানাতে চাই: ডা. জাহাঙ্গীর ধানের শীষে ভোট প্রার্থনার জন্য আপনাদের সন্তান আপনাদের দ্বারে আসছে-চাঁদ নগরীতে কলেজ অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে মামলার প্রতিবাদে সমাবেশ
নোটিশ
রাজশাহীতে আমরাই প্রথম পূর্ণঙ্গ ই-পেপারে। ভিজিট করুন epaper.rajshahisongbad.com

এমপিও নীতিমালায় বৈষম্যের প্রতিবাদে রাবিতে আরবি বিভাগের মানববন্ধন

রাবি প্রতিনিধি
সর্বশেষ: বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
এমপিও নীতিমালায় বৈষম্যের প্রতিবাদে রাবিতে আরবি বিভাগের মানববন্ধন
এমপিও নীতিমালায় বৈষম্যের প্রতিবাদে রাবিতে আরবি বিভাগের মানববন্ধন

বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ)-এর এমপিও নীতিমালার খসড়ায় আরবি প্রভাষক পদে ‘মাস্টার্স’ পাসের বৈষম্যমূলক শর্ত বহাল রাখার প্রতিবাদে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার দুপুর ৩টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্যারিস রোডে এ মানববন্ধন করেন আরবি বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।

এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগের শিক্ষার্থীরা জানান, ইসলামিক স্টাডিজসহ সকল বিষয়ের প্রভাষক পদের জন্য স্নাতক পাস যথেষ্ট হলেও আরবির জন্য স্নাতকোত্তরের শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে। এবং সর্বশেষ নীতিমালা অনুযায়ী কলেজ ব্যাকগ্রাউন্ডে শিক্ষার্থীরা আরবিতে অনার্স-মাস্টার্স করেও আরবি প্রভাষক পদে অযোগ্য বিবেচিত হওয়ার মতো বৈষম্যমূলক শর্ত সংবলিত খসড়া নীতিমালা প্রকাশ করেছে এনটিআরসিএ। অবিলম্বে এই বৈষম্য প্রত্যাহার করে সকল স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগের শিক্ষার্থীদের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করার দাবি জানাই।”

মানববন্ধনে আরবি বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী হাফিজুর রহমান বলেন, বর্তমানে এমপিওভুক্ত বেসরকারি যে সেক্টরগুলো রয়েছে, সেখানে সুপরিকল্পিতভাবে শুধুমাত্র আরবি বিভাগকে অপমান ও বঞ্চিত করার জন্য এ খসড়া প্রণয়ন করা হয়েছে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ও ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে আমাদের আরবি বিভাগ প্রতিষ্ঠিত রয়েছে। সেখানে প্রতিবছর শত শত ছাত্র-ছাত্রী ভর্তি হয়ে ডিগ্রি অর্জন করে বেরিয়ে যায়। কিন্তু বর্তমান এই খসড়া যদি চূড়ান্ত হয়, তাহলে প্রত্যেকটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে হাজার হাজার শিক্ষার্থী বেকার হয়ে বের হবে।

এ সময় বিভাগের আরেক শিক্ষার্থী বলেন, আমাদেরকে বিশ্ববিদ্যালয়ে আরবি বিভাগে ভর্তি করিয়ে এই বৈষম্য তৈরি করে গলা টিপে হত্যা করা হচ্ছে। আমরা দীপ্ত কণ্ঠে বলতে চাই—আমাদের আরবি বিভাগে পড়ার জন্য আলাদা যোগ্যতা লাগে; কুরআন, হাদিস ও আরবি ব্যাকরণের জ্ঞান নিয়ে পড়তে হয়। আর আমরা আরবি বিভাগে পড়ে যদি মাদ্রাসার প্রভাষক পদে আবেদন করতে না পারি, তাহলে বলতে হয় আমাদেরকে সুপরিকল্পিতভাবে দমিয়ে রাখা হচ্ছে। আমাদের যৌক্তিক দাবি মেনে নিতে হবে। আমাদের কর্মসংস্থানের সুযোগ থেকে বঞ্চিত করে রাখা যাবে না। অন্যথায় আমরা আরও দুর্বার আন্দোলন গড়ে তুলবো।

শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবিকে সমর্থন জানিয়ে আরবি বিভাগের প্রভাষক রিয়াজুল ইসলাম বলেন, এমপিওভুক্ত মাদ্রাসা দীর্ঘদিনের একটি দাবি। এমপিও নীতিমালার খসড়া গতকাল প্রকাশিত হয়েছে। এই নীতিমালা প্রকাশের পর অনেক অসঙ্গতি চোখে পড়ছে। আমি ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ও মাদ্রাসা বোর্ডের চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আহ্বান জানাই—এই বিষয়টি খতিয়ে দেখে ইসলামিক স্টাডিজ এবং আরবি ভাষা ও সাহিত্য সংশ্লিষ্ট সকল শিক্ষার্থীর সঙ্গে যেন কোনো ধরনের বৈষম্য না করা হয়।

তিনি আরও বলেন, সকল দিক বিবেচনা করে এর একটি সুষ্ঠু সমাধানের মাধ্যমে চূড়ান্তভাবে নীতিমালা প্রকাশ করা হোক। যদি কারো হীনস্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য কোনো খসড়া প্রকাশ করা হয়, তাহলে ছাত্রসমাজ এমন বৈষম্য মেনে নেবে না। আমরা আশা করছি, অতি দ্রুত সময়ের মধ্যে এই নীতিমালা সম্পূর্ণ সংশোধন করে শিক্ষার্থীদের যোগ্যতাকে অগ্রাধিকার দিয়ে প্রকাশ করা হবে।
মানববন্ধনে বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক জাহিদুল ইসলাম বলেন, আমাদের আরবি বিভাগে যে কারিকুলাম প্রণয়ন করা হয়েছে, সেখানে একজন শিক্ষার্থী অনার্স ও মাস্টার্স সম্পন্ন করলে আর কোনো ঘাটতি থাকে না। অথচ সেখানে মাদ্রাসার নিচের একটি ডিগ্রিকে যুক্ত করা হয়েছে। এরকম প্রজ্ঞাপনে নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত সীমা নির্ধারণ করা দরকার ছিল, কিন্তু তা করা হয়নি। এতে আমাদের সঙ্গে বৈষম্য করা হয়েছে। আবার ইসলামিক স্টাডিজ একটি স্বতন্ত্র বিভাগ হওয়া সত্ত্বেও কেন আরবির সঙ্গে যুক্ত করে আমাদের অধিকার ক্ষুণ্ন করা হচ্ছে—এ প্রশ্নও উঠে আসে। আমাদের দাবি, পূর্বের নীতিমালা বহাল রাখা হোক।


আরো খবর