• ঢাকা, বাংলাদেশ বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ০২:১০ অপরাহ্ন
নোটিশ
রাজশাহীতে আমরাই প্রথম পূর্ণঙ্গ ই-পেপারে। ভিজিট করুন epaper.rajshahisongbad.com

এক ইন্টার্ন চিকিৎসকের উদ্যোগ ১৭ কোটি টাকার ওষুধ বিনামুল্যে এলো রামেক হাসপাতালে

রিপোর্টার নাম:
সর্বশেষ: বৃহস্পতিবার, ২৮ আগস্ট, ২০২৫
এক ইন্টার্ন চিকিৎসকের উদ্যোগ ১৭ কোটি টাকার ওষুধ বিনামুল্যে এলো রামেক হাসপাতালে
এক ইন্টার্ন চিকিৎসকের উদ্যোগ ১৭ কোটি টাকার ওষুধ বিনামুল্যে এলো রামেক হাসপাতালে

Advertisements

এক ইন্টার্ন চিকিৎসকের উদ্যোগের ফলে প্রায় ১৭ কোটি টাকার জীবন রক্ষাকারী জরুরী ইনজেকশান বিনামুল্যে এলো রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থা ডিরেক্ট রিলিফ থেকে এসব ইনজেকশান এরই মধ্যে এসে পৌছেঁছে। স্ট্র্রোক এবং হার্ট এটাকের শিকার রোগীদের জরুরী মুহুর্তে মুল্যবান এই ইনজেকশান প্রয়োগ করা দরকার হয়। হার্ট এটাক কিংবা স্ট্রোক করার পরপরই মুমুর্ষ অবস্থায় কোন রোগীকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে শেষ চেষ্টা হিসেবে জীবন রক্ষাকারী ইনজেকশান দেয়ার পরামর্শ দের চিকিৎসকরা। তবে, এই ইনজেকশানের দাম অনেক বেশি হওয়ায় নিম্ন আয়ের মানুষের পক্ষে তা দেয়া সম্ভব হয় না। শেষ পর্যন্ত বাঁচানোর আশা ছেড়ে দিতে হয়।

রাজশাহী মেডিকেল কলেজের ইন্টার্ণ চিকিৎসক শীর্ষ শ্রেয়ান ওয়ার্ল্ড স্ট্রোক অর্গানাইজেশনের গবেষনা দলের সাথে যুক্ত ছিলেন। গবেষনাপত্রে তিনি এই সিমাবদ্ধতার তথ্য তুলে ধরেন। বিষয়টি দাতা সংস্থার নজরে এলে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জন্য বিমানমুল্যে প্রায় আড়াই হাজার ইনজেকশান পাঠানো হয়েছে। যার বাজার মুল্য প্রায় ১৭ কোটি টাকা। জীবন রক্ষাকারী এই ইনজেকশানটি স্ট্রোক ও হার্ট এটাকের শিকার রোগীদের জীবন বাঁচাতে বিশেষ ভূমিকা রাখবে, বলছেন চিকিৎসকরা।

শীর্ষ শ্রেয়ানের মাধ্যমে গড়ে ওঠা এই সম্পর্কের সূত্র ধরে আগামীতে আরো কয়েকটি রোগের মুল্যবান কিছু ওষুধও বিমানমুল্যে পাওয়া যাবে বলে আশা চিকিৎসকদের।
হাসপাতাল সূত্রে জানাগেছে, ইন্টার্ন চিকিৎসক শীর্ষ শ্রেয়ানের গ্রামে বাড়ি ময়মনসিংহ। বাবা জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক। সেই সূত্রে তার বেড়ে ওঠা সাভারে। শীর্ষ রাজশাহী মেডিকেল কলেজে ভর্তি হন ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষে। জুলাইয়ে এমবিবিএস শেষ করে এখন ইন্টার্নশিপ করছেন। তার চেষ্টাতেই রামেক হাসপাতাল গত সোমবার আন্তর্জাতিক দাতাসংস্থা থেকে আড়াই হাজার ভায়াল আল্টেপ্লেস পেয়েছে। আল্টেপ্লেস হলো একটি থ্রোমবোলাইটিক ওষুধ, যা সাধারণত স্ট্রোক ও হার্ট অ্যাটাকের ফলে রক্তনালিতে জমাট বেধে যাওয়া রক্ত মুক্ত করতে ইনজেকশন আকারে ব্যবহার করা হয়। এটি রক্তের মধ্যে জমে থাকা থ্রম্বাস বা ব্লক দূর করে রক্ত চলাচল স্বাভাবিক করতেও সাহায্য করে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আড়াই হাজার ভায়াল আল্টেপ্লেস বিনামূল্যেই পেয়েছে।

স্ট্রোক কিংবা হৃদ্রোগে আক্রান্ত কোনো রোগীর জন্য এই ইনজেকশন হতে পারে জীবন ও মৃত্যুর ফারাক। কিন্তু একটি ভায়ালের দাম প্রায় ৬০/ ৬৫ হাজার টাকা। যা বেশির ভাগ রোগীরই সাধ্যের বাইরে। শীর্ষ জানান, তিনি যখন পঞ্চম বর্ষের ছাত্র, তখনই ওয়ার্ল্ড স্ট্রোক অর্গানাইজেশনের একটি গবেষণা দলের সঙ্গে যুক্ত হন। স্বল্প আয়ের স্ট্রোক রোগীদের এই সীমাবদ্ধতার কথা তিনি তুলে ধরেন একটি গবেষনা প্রতিবেদনে। যেটি আন্তজাতিক জার্নালে প্রকাশিত হয়। এই তথ্য জানার পর দাতা সংস্থা থেকে শীর্ষকে জানান, তাার জীবন রক্ষাকারী ইনজেকশান দিতে চান। তার কাছে চাহিদাও জানতে চান। ঐ সংস্থার কাছে ৫ হাজার ইনজেকশন রয়েছে এবং সেগুলোর মেয়াদ শেষ হবে আগামী বছরের মার্ছ মাসে। এই সময়ের জন্য চাহিদা কত জানতে চায়লে শীর্ষ তার মেন্টর ডা. আজজুল হক আযাদের সাথে এ নিয়ে কথা বলেন। পরে তা জানানো হয় রামেক হাসপাতাল পরিচালককে। একটি প্রকিয়া শেষ করে গত ২৫ আগস্ট তা রাজশাহীতে পৌঁছে।

২৫ আগস্ট রামেক হাসপাতালে পৌঁছানো এই ওষুধ গত বুধবার (২৭ আগস্ট) থেকে বিনামূল্যে রোগীদের দেওয়া শুরু হয়েছে। প্রথম দিনই ব্যবহৃত হয়েছে প্রায় ৭০টি ভায়াল।
বৃহস্পতিবার দুপুরে শীর্ষ জানান, ‘ওষুধ আছে, সুযোগও আছে। কিন্তু রোগীরা যদি দেরি করে আসেন, তাহলে আর কাজে লাগবে না। কেউ যদি দেখেন শরীরের এক পাশ অবশ হয়ে গেছে, মুখ বেঁকে গেছে, কথা জড়িয়ে যাচ্ছে, তাহলে দেরি না করে দ্রুত হাসপাতালে আসুন। সময়ই এখানে সবচেয়ে বড় জীবনরক্ষাকারী।’
তার এমন অবদানের জন্য খুশি রামেকের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এফ এম শামীম আহম্মদ, তার মেন্টর ডা. আজিজুল হক আযাদসহ সংশ্লিষ্ট সবাই।

অধ্যাপক ডা. আজিজুল হক আযাদ বলেন, ‘শীর্ষ যখন আমাকে বিষয়টা জানাল, তখন থেকে আমিও বিষয়টা নিয়ে খুব উৎসাহী ছিলাম। এই ওষুধ অনেক দামি বলে অনেকেই কিনতে পারেন না। তারপরও এই ওষুধ একেবারেই অরিজিনাল। অনেক ভালো। এটা কেবল ওষুধ আনা নয়; এটা অসহায় রোগীদের বেঁচে থাকার সুযোগ এনে দেওয়া। শীর্ষকে নিয়ে আমরা গর্বিত।’ তিনি বলেন, আমরা এই ইনজেকশানগুলোর যথাযথ ব্যবহান নিশ্চিত করবো। কোনভাবেই এর মিসইইউজ হতে দেয়া হবে না।
ওামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এফ এম শামীম আহাম্মদ বলেন, ‘এ কৃতিত্ব শীর্ষের। তার জন্যই আজ এত রোগী বিনামূল্যে ওষুধ পাচ্ছেন।’ তিনি বলেন, ‘১৭ কোটি টাকার অমূল্য ওষুধ এনে তিনি শুধু রোগীদের নয়, গোটা দেশের তরুণ চিকিৎসকদের জন্য এক অনুপ্রেরণার নাম।’


আরো খবর