রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) সাইবার ক্রাইম ইউনিটের প্রযুক্তিগত সহায়তায় উদ্ধারকৃত হারানো মোবাইল ফোন আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকৃত মালিকদের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে। বোববার দুপুর সাড়ে ১২টায় রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ সদর দপ্তরের সভাকক্ষে সাইবার ক্রাইম ইউনিটের উদ্যোগে উদ্ধারকৃত হারানো মোবাইল ফোন হস্তান্তর অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের পুলিশ কমিশনার ড. জিল্লুর রহমান।
আরএমপির সাইবার ক্রাইম ইউনিট আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তায় মোট ৭৫টি হারানো মোবাইল ফোন শনাক্ত ও উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। পুলিশ কমিশনার আজ এসব উদ্ধারকৃত মোবাইল ফোন আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকৃত মালিকদের নিকট হস্তান্তর করেন। উল্লেখ্য, উদ্ধারকৃত মোবাইল ফোনগুলো শুধু রাজশাহী মহানগরী এলাকা থেকেই নয়, বরং দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে হারিয়ে গিয়েছিল। সংশ্লিষ্ট থানায় দায়েরকৃত সাধারণ ডায়েরির (জিডি) ভিত্তিতে আরএমপি’র সাইবার ক্রাইম ইউনিট এসব মোবাইল ফোন শনাক্ত ও উদ্ধার করে।
অনুষ্ঠানে পুলিশ কমিশনার মাদকের ভয়াবহতা সম্পর্কে উপস্থিত সকলকে অবহিত করেন। তিনি মাদক বা যেকোনো ধরনের অপরাধ সংক্রান্ত বিষয়ে সম্মানিত নাগরিকবৃন্দকে তথ্য প্রদানের জন্য অনুরোধ জানান। নাগরিকদের কাছ থেকে সঠিক ও নির্ভরযোগ্য তথ্য পেলে পুলিশ দ্রুত ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে। এ লক্ষ্যে আরএমপি’র ফেসবুক পেজ, হটলাইন নম্বর এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের যোগাযোগ নম্বর চালু রয়েছে। পুলিশের ভালো কাজে নাগরিকদের সহযোগিতা ও উৎসাহ পেলে পুলিশি কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে।
পুলিশ কমিশনার অভিভাবকদের উদ্দেশে বলেন, সন্তান কোথায় যায়, কী করে, কার সঙ্গে চলাফেরা করে, নিয়মিত স্কুল-কলেজে যাচ্ছে কি না এবং ঠিকভাবে লেখাপড়া করছে কি না, এসব বিষয়ে সার্বক্ষণিক নজরদারি রাখা প্রয়োজন, যেন কোনোভাবেই সন্তান মাদক বা যে-কোনো ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে না পড়ে।
তিনি আরও বলেন, যেসব পিতা-মাতা মাদকাসক্ত, তাদের সন্তানদের ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে মাদক থেকে দূরে সরে আসতে হবে। আপনি যদি আপনার সন্তানকে সুশিক্ষা দিতে পারেন এবং তাকে সঠিকভাবে লেখাপড়ার সুযোগ করে দেন, তবে সে সমাজে একটি সম্মানজনক অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হবে।
মোবাইল ফোন ফেরত পাওয়া মালিকরা রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং এ জনবান্ধব ও প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোগের প্রশংসা জানান। তাদের মতে, এ উদ্যোগের ফলে শুধু হারানো মোবাইলই উদ্ধার হয়নি, বরং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি সাধারণ মানুষের বিশ্বাস ও আস্থা আরও সুদৃঢ় হয়েছে। তারা প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন, রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ ভবিষ্যতেও এ ধরনের মানবিক ও প্রযুক্তিনির্ভর সেবামূলক কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে।