রাজশাহীতে বিশ্ব পরিবেশ দিবস-২০২৪ পালিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে বুধবার বিকেলে রাজশাহী নগরীর পদ্মা গার্ডেনে “করবো ভূমি পুনরুদ্ধার, রুখবো মরুময়তা,অর্জন করতে হবে মোদের খরা সহনশীলতা” প্রতিপাদ্যে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
বাংলাদেশ পরিবেশ অন্দোলন (বাপা), বাংলাদেশ জীববৈচিত্র সংরক্ষণ ফেডারেশন (বিবিসিএফ), বাংলাদেশ লাইভস্টক সোসাইটি, রোটারী ক্লাব অব রাজশাহী সেন্ট্রাল ও সেভ দি ন্যাচার এন্ড লাইফ এর যৌথ উদ্যোগে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় বক্তারা বলেন, সারা বিশ্বের জলবায়ু পরিবর্তনের সাথে সাথে দেখা দিয়েছে খরার প্রবণতা, প্রাণ বৈচিত্র্য রক্ষায় জল বায়ুর ন্যায্যতা প্রতিষ্ঠায় বর্তমান সময়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কিছু অসাধু মানুষের সীমাহীন লোভের কারণে আজ প্রাকৃতির অন্যান্য সৃষ্টি জীব বৈচিত্র নদ,নদী, জলাশয়, জলাধার,সবই ভয়াবহ বিপন্নতার পথে। কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি ক্ষমতার প্রভাব দেখি অবৈধ ভাবে নদী নালা খাল বিল দখল করছে, এর প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে জীব বৈচিত্র। উত্তরাঞ্চলের পাতাল প্রায় পানিশূন্য। এটি সরকারি সংস্থার জরিপেই উঠে এসেছে।
তারা আরো বলেন, আমরা দুই দশক ধরে উত্তর রাজশাহী সেচ প্রকল্প বাস্তবায়নের দাবি জানিয়ে আসছি। কিন্তু আজও তা আলোর মুখ দেখেনি। রাজশাহী ও রংপুর বিভাগে এখন বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিএমডিএ) গভীর নলকূপের মাধ্যমে ভূ-গর্ভস্থ পানি তুলে চাষিদের সরবরাহ করে। এতে ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর প্রতিনিয়ত নিচে নামছে। এই সংকট কাটাতে উত্তর রাজশাহী সেচ প্রকল্পের বিকল্প নেই। পদ্মা নদীকে বাঁচিয়ে রাখার দাবি জানান।
বক্তারা বলেন, উন্নয়নের পূর্বশর্ত পানি। কিন্তু আমাদের পদ্মা নদীতে পানি নেই। দুই বছর পরই ফারাক্কা চুক্তির মেয়াদ শেষ হচ্ছে। তার আগেই পানির নায্য হিস্যা নিশ্চিত করে নতুন চুক্তি করতে হবে। পদ্মায় প্রাণ ফিরিয়ে আনতে হবে। তা না হলে কৃষি ভাণ্ডার নষ্ট হয়ে যাবে। আমরা অনাহারে থাকব। দেশ খাদ্য সংকটে পড়বে। তাই পদ্মায় পানি প্রবাহ নিশ্চিত করতে হবে। বাস্তবায়ন করতে হবে উত্তর রাজশাহী সেচ প্রকল্প এই আহ্বান জানান।
সভায় সভাপতিত্ব করেন বাপা কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আফজাল হোসেনের সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়েরর ভেটেরিনারী এন্ড এনিমেল সায়েন্স অনুষদের সভাপতি ও বাংলাদেশ লাইভস্টক সোসাইটি রাজশাহীর সভাপতি অধ্যাপক ড. জালাল উদ্দিন সরদার, বাপা রাজশাহীর সভাপতি ও রাজশাহীর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সধারণ সম্পাদক জামাত খান, রোটারী ক্লাব অব রাজশাহীর সভাপতি ড. মোঃ হেমায়েতুল ইসলাম আরিফ, সেভ দি ন্যাচার এন্ড লাইফ রাজশাহীর সভাপতি মিজানুর রহমান, বাংলাদেশ জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ফেডারেশন (বিবিসিএফ) রাজশাহীর সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী জুনায়েদ আহমেদ, ভেটেনারি সায়েন্স রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রফেসর ডক্টর মোহাম্মদ আকতারুল ইসলাম, ডাক্তার মতিউর রহমান, গ্রীণ ভয়েসে রাজশাহীল প্রতিষ্ঠাতা আহ্বায়ক আব্দুর রহিম।
এছাড়াও প্রকৌশলী অরিফুল ইসলাম আরিফ, গোলাম নবী রনি, সুবাস চন্দ্র হেবব্রম, মেহাসিনা বেগম, আবু নাসের জামান, মোঃ সোহেল, অধ্যপক লতিফুর রহমান ও বাপার অর্থ সম্পাদক কেএম জোবায়েদ হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।