রাজশাহীর বাঘা উপজেলা নির্বাচন পরবর্তী একের পর সহিংসতা ও হামলা ঘটনা ঘটে ঘটছে। এ ঘটনায় চারটি অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে দুইজনকে।
৬ষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের চতুর্থ ধাপে বাঘায় নির্বাচনে বিজয়ী চেয়ারম্যান জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক অ্যাড. লায়েব উদ্দিন লাভলু’র (মোটরসাইকেল) প্রতিকের কর্মী সমর্থকরা পরাজিত প্রার্থী জেলা সেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি রোকনুজ্জামান রিন্টু’র (আনারস) প্রতিকের কর্মী সমর্থকদের উপর একের পর এক হামলা চালিয়ে যাচ্ছে মর্মে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এ ঘটনায় বাউসা ইউনিয়নের বাউসা মাঝপাড়া গ্রামের জাহিদুল ইসলাম, রাকিবুল ইসলাম শিমুল, সেন্টু আলী, বাবলু হোসেন নামের চার ব্যক্তি পৃথক চারটি অভিযোগ করেছেন। পুলিশ এ অভিযোগে দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছেন ।
জানা গেছে, শনিবার (৭ জুন) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে বাঘা-আড়ানী সড়কের পাঁচপাড়া সাঁকোর পাশে একটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় উভয় পক্ষের সমর্থিত লোকজন এ দায় অস্বীকার করে বলেন, কে বা কারা এ ককটেল বিস্ফোরণের ঘটিয়েছে সেটা জানা নেই।
উপজেলার বাউসা ইউনিয়ন আওয়ামী সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম জাহিদের উপজেলার মাঝপাড়া গ্রামের বাড়িতে ৫ জুন রাতে মোটরসাইকেল প্রতিকের প্রার্থী অ্যাড. লায়েব উদ্দিন লাভলু’র সমর্থিত লোকজন ইট পাটকেল নিক্ষেপ করে। এ ঘটনায় জাহিদুল ইসলাম একটি মামলা করেছেন।
এই মামলায় ৬ জুন পুলিশ বাউসা মাঝপাড়া গ্রামের রমজান আলী (৫২) ও বাউসা হেদাতিপাড়া গ্রামের নূরল ইসলামকে গ্রেপ্তার করেন।
মোটরসাইকেল প্রতিকের সমর্থিত লোকজন ৬ জুন বাউসা ইউনিয়নের আনারস প্রতিকের রোকনুজ্জামান রিন্টু’র সমর্থিত ধন্দহ গ্রামে বাবলু হোসেনের দোকানে হামলা চালিয়ে ভাংচুর করা হয়েছে। এ ঘটনায় বাবলু বাদি হয়ে মামলা করেছেন।
একই গ্রামের ভ্যানচালক সেন্টু আলীকে কুপিয়ে জখম করা হয়েছে। এ ঘটনায় সেন্টু বাদি হয়ে মামলা করেন।
এ দিকে মাঝপাড়া গ্রামের মরহুম মীর মুক্তিযোদ্ধার হায়দার আলীর ছেলে রাকিবুল ইসলাম শিমুলের বাড়ি রাত সাড়ে ৭টার দিকে হামলা চালিয়ে ভাংচুর ও লুটপাট করা হয়েছে। এতে তার বাড়ির আসবাবপত্র, টিভি, ফ্রিজ জানালা, দরজা, আলমারি ভাংচুর করা হয়েছে। রাকিবুল ইসলাম শিমুলের নগদ ১ লাখ ৩০ হাজার টাকাসহ ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা ক্ষতি হয়েছে বলে মামলার লিখিত অভিযোগে(এজাহারে) উল্লেখ করেছেন।
এ বিষয়ে রোকনুজ্জামান রিন্টু বলেন, নির্বাচনে প্রচার-প্রচারণার শুরু থেকে লায়েব উদ্দিন লাভলু সমর্থকরা বিভিন্নভাবে বাধা প্রদান করেন। ভোটের দিন তার কর্মী-সমর্থকরা সাধারণ ভোটারদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করে। ৫ জুন নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে অ্যাড. লায়েব উদ্দিন লাভলু বিজয়ী হওয়ার পর থেকে একের পর এক তার কর্মী-সমর্থকরা আমার কর্মীদের ওপর হামলা-নির্যাতন করা করে যাচ্ছে।
এ বিষয়ে বিজয়ী চেয়ারম্যান অ্যাড. লায়েব উদ্দিন লাভলু বলেন, আমার প্রতিদ্বন্দ্বী রোকনুজ্জামান রিন্টু পরাজিত হয়ে নিজেরাই নানা কৌশলে বিভিন্নভাবে অপকর্ম করে আমার মোটরসাইকেল প্রতিকের সমর্থিত লোকজনের উপর একের পর এক মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে গ্রেপ্তার আতঙ্ক সৃষ্টি করে বাড়ি ছাড়া করে রেখেছেন। ইতিমধ্যে এ সব অভিযোগে গ্রেপ্তার করে হয়রানি করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে বাঘা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) আমিনুল ইসলাম বলেন, অভিযোগগুলো তদন্ত করে আইনী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে এরমধ্যে দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।