কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিভিন্ন পদক্ষেপকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে বেড়েই চলেছে ইচ্ছাকৃত খেলাপি ঋণ। ব্যাংক খাতের এই ক্ষত দিন দিন আরও গভীর হচ্ছে। শুক্রবার খবরে প্রকাশ, চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৮২ হাজার ২৯৫ কোটি টাকা, যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। আরও উদ্বেগের বিষয়, বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে খেলাপি ঋণের যে অঙ্ক প্রকাশ করা হয়েছে, প্রকৃতপক্ষে এর পরিমাণ আরও বেশি। কারণ, অর্থ ঋণ আদালত, হাইকোর্ট, সুপ্রিমকোর্টের মামলাগুলোতে আটকে থাকা খেলাপি ঋণকে জাস্টিফাইড ঋণে অন্তর্ভুক্ত করা যায় না। আবার ৬৫ হাজার কোটি টাকার ঋণ অবলোপন করা হয়েছে। পাঁচ বছরের পুরোনো মন্দ ঋণও খেলাপি ঋণে অন্তর্ভুক্ত করা হয় না। এগুলোকে যোগ করলে খেলাপি ঋণের মোট অঙ্ক ৫ লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাওয়ার কথা। বোঝাই যাচ্ছে, খেলাপি ঋণ আদায়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থা পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে।
২০২৪ সালের মধ্যে দেশের পুরো ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ ১০ শতাংশের মধ্যে নামিয়ে আনার যে শর্ত আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) দিয়েছে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঠিক নির্দেশনার অভাবে উলটো তা আরও বেড়েছে। অর্থাৎ গোড়াতেই যে গলদ রয়েছে, তা স্পষ্ট। কোন কৌশলে খেলাপি ঋণ কমানো যাবে, এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা যদি দিকনির্দেশনাই দিতে না পারেন, তাহলে তাদের পদ অলঙ্কৃত করে রাখার সত্যিই কোনো দরকার আছে কিনা, এমন প্রশ্ন ওঠা অমূলক নয়।
আমরা মনে করি, ব্যাংক খাতে সদিচ্ছা ও সুশাসনের অভাবের কারণেই খেলাপি ঋণের পরিমাণ উত্তরোত্তর বাড়ছে। যেখানে শুধু ব্যাংক খাত নয়, দেশের অর্থনীতির স্বার্থেই ঋণখেলাপিদের মুখোশ উন্মোচন করা প্রয়োজন, নেওয়া উচিত শাস্তিমূলক কঠোর পদক্ষেপ; সেখানে রহস্যময় কারণে তাদের ঢালাওভাবে ছাড় দেওয়া হচ্ছে। এটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। সেক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় ব্যাংকসহ সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোতে যদি কোনো দুষ্টচক্র সক্রিয় থাকে, তাদেরও শনাক্তের পাশাপাশি আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা দরকার। বস্তুত ঋণখেলাপিদের আষ্টেপৃষ্ঠে বাঁধতে আইন কঠোর করার পাশাপাশি তা বাস্তবায়নে সরকারের রাজনৈতিক সদিচ্ছারও প্রয়োজন রয়েছে। আইনের সঠিক প্রয়োগ ঘটিয়ে খেলাপি ঋণ আদায়ে সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংক কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে, এটাই প্রত্যাশা।